- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) পদের প্রশ্ন সমাধান [১৪.০৭.২০২৬]
- পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৬
- আন্তর্জাতিক
কিয়োেটা প্রটোকল কোন বিষয় সম্পর্কিত?
কিয়োটো প্রটোকল মূলত পৃথিবীর বাড়তে থাকা তাপমাত্রা ঠেকানোর একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে জাপানের কিয়োটো শহরে এটি গৃহীত হয় এবং ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। এর পেছনের ভাবনাটা সহজ: শিল্পকারখানা, যানবাহন আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেনসহ নানা গ্রিনহাউস গ্যাস জমছে। এই গ্যাস সূর্যের তাপকে আটকে রাখে, ফলে পৃথিবী ধীরে ধীরে উষ্ণ হচ্ছে। এই উষ্ণায়ন কমাতেই প্রটোকলটির জন্ম।
প্রটোকলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি দেশগুলোর ওপর বাধ্যতামূলক লক্ষ্যমাত্রা বসায়। শিল্পোন্নত দেশগুলো, যারা ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে বেশি গ্যাস নির্গমন করেছে, তাদের ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে নিজেদের নির্গমন ১৯৯০ সালের তুলনায় গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ কমাতে বলা হয়েছিল। উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর তখন এমন বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি, কারণ তাদের অর্থনৈতিক উন্নতির সুযোগও দরকার ছিল। এটাই "অভিন্ন কিন্তু ভিন্ন দায়িত্ব" নীতির একটি উদাহরণ।
লক্ষ্য পূরণে দেশগুলোকে কিছু নমনীয়তাও দেওয়া হয়েছিল। যেমন কার্বন ট্রেডিং, যেখানে এক দেশ নির্গমন কমিয়ে উদ্বৃত্ত কোটা অন্য দেশের কাছে বিক্রি করতে পারে। এছাড়া পরিচ্ছন্ন উন্নয়ন কৌশল (সিডিএম)-এর মাধ্যমে উন্নত দেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগ করে নিজের লক্ষ্যের একটি অংশ পূরণ করতে পারত।
প্রটোকলটি অবশ্য সমালোচনার বাইরে ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র স্বাক্ষর করলেও কখনো অনুমোদন করেনি, আর কানাডা পরে চুক্তি থেকে সরে যায়। চীন ও ভারতের মতো বড় নির্গমনকারী দেশের ওপর বাধ্যবাধকতা না থাকাও বিতর্কের জন্ম দেয়।
মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের মতো দলিল, বাণিজ্য নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও), আর পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আছে এনপিটি (পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি)। কিয়োটো প্রটোকলের সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি এই উদ্যোগকেই আরও বিস্তৃত করেছে।

