- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) পদের প্রশ্ন সমাধান [১৪.০৭.২০২৬]
- পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৬
- আন্তর্জাতিক
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত গ্রীনল্যান্ড দ্বীপ কোন দেশের অন্তর্ভুক্ত?
গ্রীনল্যান্ড পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ। এটি ভৌগোলিকভাবে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অংশ হলেও রাজনৈতিকভাবে এর সম্পর্ক ইউরোপের দেশ ডেনমার্কের সঙ্গে। দ্বীপটির প্রায় ৮০ শতাংশ বছরজুড়ে বরফের চাদর থাকে, আর বাকি উপকূলীয় অংশে বাস করে মাত্র পঞ্চাশ-ষাট হাজার মানুষ। রাজধানী নুক।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, গ্রীনল্যান্ড কয়েক শ বছর ধরে ডেনমার্ক-নরওয়ে শাসনের অধীনে ছিল। ১৮১৪ সালে নরওয়ে সুইডেনের সঙ্গে যুক্ত হলে দ্বীপটি ডেনমার্কের হাতেই থেকে যায়। ১৯৫৩ সালে এটি ডেনমার্ক রাজ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। এরপর ১৯৭৯ সালে স্বায়ত্তশাসন (হোম রুল) এবং ২০০৯ সালে আরও বিস্তৃত স্ব-শাসনের অধিকার পায়। বর্তমানে গ্রীনল্যান্ডের নিজস্ব সংসদ ও সরকার আছে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো তারাই দেখে। তবে পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষার মতো বিষয়ে এখনো ডেনমার্কের ভূমিকা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গ্রীনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা বেড়েছে মূলত এর কৌশলগত গুরুত্বের কারণে। দ্বীপটি আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে বরফ গলার ফলে নতুন নৌপথ খুলছে। এছাড়া মাটির নিচে রয়েছে বিরল খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিও (পিটুফিক) এখানে আছে। এসব কারণে বড় শক্তিগুলোর নজর এখন এই দ্বীপের দিকে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন নেতার দ্বীপটি কিনে নেওয়া বা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মন্তব্য আন্তর্জাতিক পরিসরে বেশ বিতর্ক তৈরি করেছে। ডেনমার্ক ও গ্রীনল্যান্ডের নেতারা বারবার স্পষ্ট করেছেন যে দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়, আর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার গ্রীনল্যান্ডের মানুষের।
আইসল্যান্ড নামে বরফের দেশ হলেও এটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র এবং গ্রীনল্যান্ডের সঙ্গে এর কোনো শাসনগত সম্পর্ক নেই। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড অনেক দূরের দেশ, গ্রীনল্যান্ডের ওপর তাদের কোনো কর্তৃত্ব নেই। তাই নামের সাদৃশ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে মনে রাখবেন, গ্রীনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীন স্বশাসিত অঞ্চল।

