• হোম
  • চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি

৩৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১২

  • বিসিএস ২০১২
  • বাংলাদেশ
Back

বাংলাদেশের দশটি সুন্দরতম পর্যটন কেন্দ্রের নাম কি?

সপ্তদশ শতাব্দীতে বার্নিয়ার নামক ফ্রান্স থেকে আগত একজন পর্যটক বাংলাদেশের প্রশংসায় বলেছিলেন, 'এ দেশে প্রবেশ করার জন্য শত শত রাস্তা রয়েছে কিন্তু বের হবার জন্য একটি রাস্তাও নেই।' সপ্তম শতাব্দীতে চীনের পর্যটক হিওয়েন সাং বাংলাদেশ ভ্রমণকালে বলেছিলেন, 'কুয়াশা ও জলের ভেতর থেকে উদ্ভাসিত এক সুপ্ত সৌন্দর্য।'

বাংলাদেশে সাতশোর বেশি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট স্থাপনা যেমন- সমুদ্র সৈকত, সবুজ উপত্যকা, বন, প্রভৃতি এবং মানবসৃষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিক স্থান, নান্দনিক ধর্মীয় স্থাপনা। আধুনিককালের মানবসৃষ্ট আশ্চর্যজনক স্থাপনা যেমন- জাতীয় সংসদ ভবন ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রভৃতি। বাংলাদেশের দশটি সুন্দরতম পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো:

১. কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম হতে প্রায় ১৫৫ কিমি, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত কক্সবাজার। এটি একটি জেলা শহর। কক্সবাজার বাংলাদেশের তথা পৃথিবীর অন্যতম মনোরম ও স্বাস্থ্যকর স্থান। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। এর দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার। কক্সবাজারের সুদীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর খুব কম স্থানেই আছে। এই সুদীর্ঘ সৈকতের মনোরম দৃশ্য দেশী-বিদেশী পর্যটকদের নিকট খুবই আকর্ষণীয়। এখানকার মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য দেশী-বিদেশী হাজার হাজার পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন। বর্তমানে এ কক্সবাজার আধুনিক সাজে সজ্জিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে বড় পর্যটন কেন্দ্র। এখানে বহু অত্যাধুনিক পর্যটন আবাসিক হোটেল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু অত্যাধুনিক আবাসিক হোটেল, শপিং সেন্টার নির্মিত হচ্ছে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ধরে ৮/১০ কিলোমিটার দক্ষিণে গেলেই রয়েছে হিমছড়ি নামক অতি মনোরম স্থান। এ স্থানটি চলচ্চিত্র স্যুটিং স্পট হিসেবে খুবই প্রসিদ্ধ। এছাড়াও কক্সবাজারের আশেপাশে বৌদ্ধ যুগের অনেক প্রাচীন কীর্তি এখনও বিদ্যমান। এখানকার প্যাগোডাগুলো খুবই দর্শনীয়। এখানে একটি আবহাওয়া অফিস ও একটি বাতিঘর আছে। এখানে বৌদ্ধ ও রাখাইনসহ অনেক উপজাতির বসবাস রয়েছে।

২. সুন্দরবন: বন ও বন্যপ্রাণীর ব্যাপারে উৎসুক যে কোনো পর্যটকের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে সুন্দরবন। এটি বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এবং ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এ বনের পর্যটকগণ বিশ্বখ্যাত বিরল রয়েল বেঙ্গল টাইগার এক পলক দেখার জন্য উন্মুক্ত হয়ে থাকেন। এটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রাকৃতিক আবাসস্থল। ছয় হাজারেরও বেশি বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ বনে রয়েছে জালের মতো ছড়ানো অসংখ্য নদ-নদী ও খাল। সুন্দরবনের ৬২ শতাংশ বাংলাদেশে পড়েছে, বাকি অংশ ভারতের মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশের ৫টি জেলা- খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী ও বরগুনা বিস্তৃত এ বন। বাঘ ছাড়াও বনে রয়েছে হরিণ, বানর, সাপ এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতা ইত্যাদি গাছের দেখা মিলবে এ বনে।

৩. সোনারগাঁ: প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁ ঢাকা শহর হতে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে এবং নারায়ণগঞ্জ হতে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত। সোনারগাঁয়ের পূর্ব নাম 'সুবর্ণ গ্রাম'। এটি বাংলাদেশের স্বাধীন শাসক ঈশা খাঁর রাজধানী ছিল। ঈশা খাঁর স্ত্রী সোনাবিবির নামে এর নাম রাখা হয় সোনারগাঁ। চারদিকে নদী দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় সোনারগাঁ খুবই নিরাপদ ছিল।

বার ভূঁইয়াদের অন্যতম ঈশা খাঁর শাসনামলে সোনারগাঁর গৌরব ও ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু কালের স্রোতে বিভিন্ন উত্থান-পতনের ফলে সোনারগাঁর সে গৌরবময় অতীতের কোনো চিহ্নই এখন দেখা যায় না। সোনারগাঁয়ের প্রাচীন রাজধানীর বদলে এখন সেখানে কতগুলো গ্রামই চোখে পড়ে। ধ্বংস চিহ্নের মধ্যে বিরাট দীঘি, মাটির স্তূপ ও কেল্লা দেখা যায়।

মুঘল আমলের পূর্বেও এখানে বাংলাদেশের মুসলমান শাসকদের রাজধানী ছিল। পরে গৌড় এবং পান্ডুয়াতে রাজধানী স্থানান্তরিত হওয়ায় সোনারগাঁয়ের গৌরব ম্লান হয়ে যায়। অতীতের অসংখ্য ইমারতের অস্তিত্ব সোনারগাঁয়ের সর্বত্র বিদ্যমান, বিশেষ করে পানাম এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়। এখান থেকেই শেরশাহের বিখ্যাত গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড আরম্ভ হয়। এখানে গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের কবর এবং পাঁচ পীরের মাজার আছে। বর্তমানে সোনারগাঁয়ে একটি লোকশিল্প জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যার নাম 'শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন জাদুঘর'।

৪. মাধবকুণ্ড: দেশের আন্তর্জাতিক মানের একটি পর্যটন স্পট হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনার নিদর্শন হচ্ছে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। বাংলাদেশের একমাত্র নৈসর্গিক জলপ্রপাত হলো সিলেট জেলার এ মাধবকুণ্ড। যুগ যুগ ধরে এ পাহাড়ী জলকন্যা সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকদের কাছে টেনেছে অকৃত্রিমভাবে, অথচ বর্তমানে চরম অবহেলার দরুণ ধীরে ধীরে শীর্ণ হচ্ছে এর জলস্রোত সঙ্কুচিত হচ্ছে পাহাড়ি আবরণ, আর বদলে যাচ্ছে নৈসর্গিক পটভূমি।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত শুধু যে পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান তাই নয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এটি তীর্থস্থানও। তবে কবে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত মানুষের নজর কাড়ে তা বলা মুশকিল। পাথারিয়া পাহাড়ের বুক চিরে বেরিয়ে আসা ঝরনাধারায় জলপতনের গুরুগম্ভীর শব্দ হয়তো এক সময় কেবল বুনো প্রাণীদের কাছেই পরিচিত ছিল।

এলাকাটিও ছিল বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। লোকশ্রুতিতে শোনা যায়, এককালে সেখানে বুনো হাতি, গণ্ডার, বাঁদর, ভালুক এসব প্রাণী ছিল প্রচুর। সুদূর দিল্লী-কলকাতা থেকে গণ্ডার শিকারে আসতেন রাজ-রাজারা। কথিত আছে রাজা গৌড় গোবিন্দের বংশীয় শ্রীহট্ট রাজা গঙ্গাঞ্চজ ওরফে গোবর্ধন পাথারিয়া পাহাড়ে এসেছিলেন শিকার করতে। পাহাড়ে একটি বিশ্রামাগার স্থাপনের ইচ্ছা হলো তার। তখন মাটি খুঁড়তে গিয়ে উপবিষ্ট পাওয়া গেল ধ্যানরত এক সন্ন্যাসীকে। রাজা এ সন্ন্যাসীর পদসেবা ও স্তুতি বন্দনা করতে থাকেন। সন্ন্যাসী রাজাকে বিভিন্ন উপদেশ দিয়ে বলেন, মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীয় তিথিতে তাকে কুণ্ডে বিসর্জন দিতে। রাজা তাই করলেন। এ সময় পরপর তিনবার মাধব, মাধব, মাধব ধ্বনি উচ্চারিত হলো। আর সেই থেকেই এর নাম 'মাধবকুণ্ড'। তারপর অনেক সন্ন্যাসী এখানে এসেছেন। তারা নানা-আচার-উপচার পালন করেছেন। এখন প্রতিবছর চৈত্রের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে বারুণী স্নান করতে আসেন শত শত পুণ্যার্থী। তখন বিরাট বারুণী মেলাও বসে কুণ্ড প্রাঙ্গণে। এখানে একটি শিবমন্দির ও মাধবমন্দির রয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এটিকে দর্শন করে যায়।

৫. সীতাকোট বিহার: পুরাতত্ত্ববিদদের মতে, আমাদের দেশে এ যাবৎ আবিষ্কৃত বিহারগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম সীতাকোট বৌদ্ধবিহার। শালবন বা পাহাড়পুর বিহারের চেয়ে এর বয়স ৩০০ বছরের বেশি। দিনাজপুর শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পূর্বে নবাবগঞ্জ থানার গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেহ আসামপুর গ্রামে রয়েছে এ বিহারের ধ্বংসাবশেষ। এ ঢিবিকে নিয়ে অনেক কিংবদন্তির মধ্যে একটি হচ্ছে ত্রেতা যুগে রামের স্ত্রী সীতা এখানে অনেক দিন বনবাসে কাটিয়েছিলেন। তার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্যই এর নামকরণ করা হয় সীতাকোট বা সীতাকুঠুরী। অবশ্য খননের পর জানা যায় যে, স্থানটির সাথে রাম বা সীতার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিহার। ১৯৬৮ সালে দিনাজপুর জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এর খনন কাজে হাত দেয়। ১৯৭১-৭২ সালে খনন কাজ শেষ হয়। এ বিহার পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৬৫ মিটার দীর্ঘ এবং উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৬৫ মিটার প্রস্থ। বিহারের উত্তর ব্লকে ৬ ফুট প্রশস্ত প্রবেশ পথ এবং ছোট বড় সব মিলিয়ে প্রায় ৪১টি প্রকোষ্ঠ রয়েছে।

৬. সেন্টমার্টিন দ্বীপ: দেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফের সমুদ্র উপকূল থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি ছোট প্রবাল দ্বীপ হলো সেন্টমার্টিন দ্বীপ। এটিই বাংলাদেশের একমাত্র সামুদ্রিক প্রবাল দ্বীপ। চারদিকে সমুদ্র সৈকত দ্বারা পরিবেষ্টিত রাশি রাশি পাথর আর শৈল জমে তৈরি হয়েছে এ প্রবাল দ্বীপ। এর আয়তন ১২ বর্গ কিলোমিটার এবং আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৫০০ একর। লোকসংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। দ্বীপটিতে রয়েছে অসংখ্য নারিকেল গাছ, কেয়াবন ও কাঁটাযুক্ত গুল্লোর ঝোঁপ। তাই দ্বীপটির আঞ্চলিক নাম 'নারিকেল জিঞ্জিরা। দ্বীপটিতে পাঁচ শতাধিক পরিবার, ৬টি গ্রাম, ১টি ইউনিয়ন, ১টি প্রাইমারি স্কুল, ১টি জুনিয়র হাই স্কুল এবং ১টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এখানে রয়েছে প্রচুর চুনাপাথর ও নুড়িপাথর। তাছাড়া অর্থনৈতিক দিক থেকে দ্বীপটির রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা এর খনিজ সম্পদের জন্য। এর চারপাশে সমুদ্র তলদেশের প্রচুর প্রবাল রয়েছে। দ্বীপের অধিবাসীদের প্রায় ৯৫% মৎস্যজীবী এবং একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা হলো নৌ-পথ।

৭. শিলাইদহ: দেশের এক ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান কুষ্টিয়ার শিলাইদহ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার জীবনের অনেকাংশ কাটিয়েছেন এ শিলাইদহে। এখানে রয়েছে তার কুঠিবাড়ি। প্রত্নতাত্ত্বিক ও পর্যটকদের কাছে এ স্থানটির গুরুত্ব উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে। এখানে রয়েছে মনোমুগ্ধকর ফুলের বাগান, আম্রকানন, বকুলতলা, শান বাঁধানো পুকুরঘাট ইত্যাদি। এছাড়া কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যচর্চার সব নিদর্শন রয়েছে। গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন জাতের ছায়াদানকারী বৃক্ষ, প্রাকৃতিক আলো-বাতাস দর্শনার্থীদের বিমোহিত করে তোলে। শিলাইদহ কুষ্টিয়া শহর থেকে ৬/৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শহরের পাশ দিয়ে গড়াই নদী পার হয়েই এ কুঠিবাড়ীর স্থান। এর দু'পাশে রয়েছে বিস্তীর্ণ ছায়াঘেরা সুনিবিড় গ্রাম। শিলাইদহের কারণেই কুষ্টিয়া শহর সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত রয়েছে। বর্তমানে এখানে বেসরকারি উদ্যোগে একটি আধুনিক দ্বিতল পার্ক ও পিকনিক স্পট নির্মাণ করা হচ্ছে। কুষ্টিয়ার আয়কর আইনজীবী আলাউদ্দিন আহমদের অর্থায়নে 'আলো পিকনিক পার্ক ও রেস্ট হাউস নির্মিত হচ্ছে। সরকার প্রতি বছর ২৫ বৈশাখ শিলাইদহে জাতীয়ভাবে রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করে থাকে। এ উপলক্ষে সেখানে একটি মেলাও বসে। প্রায় প্রতিদিনই নির্মল আনন্দের সন্ধানে শত শত সংস্কৃতিমনা লোকজন এখানে আগমন করে।

৮. যাট গম্বুজ মসজিদ: বাগেরহাটের খান জাহান আলীর মাজার হতে প্রায় ২.১৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ঘোড়াদীঘির পূর্ব তীরে ষাট গম্বুজ মসজিদ অবস্থিত। এটি মহান সাধক খান জাহান আলী কর্তৃক নির্মিত। গঠন প্রণালী ও স্থাপত্যকৌশলে এটি একটি অনন্য সৃষ্টি। বাংলাদেশের মুঘল আমলের মসজিদগুলোর মধ্যে এটি বৃহত্তম। মসজিদটির উপরে ৭৭টি এবং চারকোণে ৪টি মোট ৮১টি গম্বুজ সত্ত্বেও এ মসজিদকে কেন ৬০ গম্বুজ মসজিদ বলা হয় তার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনেকের অনুমান মসজিদের অভ্যন্তরে ৬০টি স্তম্ভআছে বলে মসজিদটির নাম ঘাট গম্বুজ মসজিদ। আবার অন্যদের মতে, গসজিদের উপর সাত সারি গম্বুজ আছে বলে সাত থেকে ষাট গম্বুজ নামকরণ হয়েছে। মসজিদের বাইরে এক বিরাট এলাকা জুড়ে একটি বেষ্টনী প্রাচীর ছিল। এর পূর্বদিকে প্রধান প্রবেশ তোরণ ছিল। তোরণের দু'পাশে দুটি কক্ষ ও বেষ্টনী প্রাচীর নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। শুধু প্রবেশ তোরণটি টিকে আছে। এ মসজিদটি খান জাহান আলী তাঁর দরবার কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে জনশ্রুতি আছে।

৯. কুয়াকাটা: দেশের যে কয়টি পর্যটন কেন্দ্র দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে কুয়াকাটা তাদের মধ্যে অন্যতম। ঢাকা থেকে প্রায় ৩০০ কিমি দূরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পটুয়াখালী জেলায় এটি অবস্থিত। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ শোভায় সজ্জিত হয়ে সমুদ্র সৈকতে অবস্থিত এই স্থানটি সহজেই পর্যটকদের মনে বিনোদনের খোরাক জোগাতে পারে। ১৮ কিমি সমুদ্র সৈকতের অধিকারী এ মনোহর স্থানটিতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত গভীরভাবে অবলোকন করার সৌভাগ্য জোটে পর্যটকদের। এছাড়া কুয়াকাটার মহিপুর থেকে সুন্দরবনের একটি অংশও চোখে পড়ে যা পর্যটকদের নিকট বিনোদনের এক নতুন মাত্রা যোগ করে। চারদিকে পাখির ডাক আর মুক্ত আকাশে তুলার মত ভাসমান মেঘ দেখে সহজেই যে কেউ অবিভূত হয়ে পড়বে। পাশাপাশি রাখাইন সম্প্রদায়ের নাচ-গানের উৎসব, নারকেল বুজ, প্যাগোডা এরকম অনেক কিছুই সৌন্দর্য পিপাসু মানুষকে কিছু সময়ের জন্য হলেও হারিয়ে ফেলবে অন্যজগতে। পর্যটকদের বিশেষ সুবিধার কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন সেখানে অত্যাধুনিক হোটেল নির্মাণ করেছে।

১০. পাহাড়পুর: বাংলাদেশের বৌদ্ধ ও হিন্দু সংস্কৃতির এক আকর্ষণীয় নিদর্শন নওগাঁর পাহাড়পুর। পাহাড়পুর রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলায় অবস্থিত। এর প্রাচীন নাম 'সোমপুর'। পাহাড়পুর ধ্বংসাবশেষের নামকরণ করা হয়েছে নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর নামক এক গ্রামের নামানুসারে। নওগাঁ সমতল পলিমাটির অঞ্চল, অথচ এই এলাকায় ব্যতিক্রমধর্মী অসমতল উচ্চ পাহাড়ের অস্তিত্ব লক্ষণীয়। তাই যুক্তি দেখানো হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী অসমতল এলাকার জন্য 'পাহাড়পুর' নামটি গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রাক-ইসলামী যুগের সর্বাপেক্ষা দর্শনীয় ঐতিহাসিক নিদর্শনটি হল পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বৌদ্ধ বিহার। তবে এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে আবিষ্কৃত বৌদ্ধ বিহারগুলোর মধ্যে এটি সর্ববৃহৎ একক বৌদ্ধ বিহার।

পরিশেষ: বাংলাদেশে পর্যটনের আকর্ষণের অভাব নেই। একজন পর্যটক যা চায় তার সবই এ দেশে আছে। পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। পর্যটন শিল্পে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ সমাধান করতে পারলে এবং উপযুক্ত পর্যটন পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে বাংলাদেশের পর্যটন কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস হতে পারে।

শেয়ার :