- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- জীবনের জন্য পানি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
পানি বিশুদ্ধকরণ
ভূপৃষ্ঠে যে পানি পাওয়া যায় তাতে নানারকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, এমনকি রোগ সৃষ্টি করতে পারে এরূপ জীবন ধ্বংসকারী জীবাণুও থাকে। তাই ব্যবহারের আগে পানি বিশুদ্ধ করে নিতে হয়। ভূগর্ভের পানি সাধারণত রোগজীবাণু মুক্ত, কিন্তু এই পানিতে আর্সেনিকের মতো নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতির কথা এখন আমরা সবাই জানি।
পানি কীভাবে বিশুদ্ধকরণ করা হবে, সেটি নির্ভর করে এটি কোন কাজে ব্যবহার করা হবে, তার ওপর। স্বাভাবিকভাবেই খাওয়ার জন্য অত্যন্ত বিশুদ্ধ পানি লাগলেও জমিতে সেচকাজের জন্য তত বিশুদ্ধ পানির দরকার হয় না। সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়, সেগুলো হলো পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি। নিচে এই প্রক্রিয়াগুলো বর্ণনা করা হলো:
পরিস্রাবণ
ষষ্ঠ শ্রেণিতে তোমরা পরিস্রাবণ সম্পর্কে জেনেছ। পরিস্রাবণ হলো তরল আর কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। পানিতে অদ্রবণীয় ধুলাবালির কণা থেকে শুরু করে নানারকম ময়লা-আবর্জনার কণা থাকে। এদেরকে পরিস্রাবণ করে পানি থেকে দূর করা হয়। এটি করার জন্য পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয়, তখন পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলো বালির স্তরে আটকে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করেও পরিস্রাবণ করা যায়। বর্তমান সময়ে আমাদের অনেকের বাসায় আমরা যেসব ফিল্টার ব্যবহার করি, সেখানে আরও উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে পরিস্রাবণ করা হয়।
ক্লোরিনেশন
যদি পানিতে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে, তবে তা অবশ্যই দূর করতে হবে এবং সেটি করা হয় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে। নানারকম জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এদের মাঝে অন্যতম হচ্ছে ক্লোরিন গ্যাস (CI)। এছাড়া ব্লিচিং পাউডার [(Ca(OCl)CI] এবং আরও কিছু পদার্থ, যার মাঝে ক্লোরিন আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সেগুলো ব্যবহার করা হয়।
আমাদের দেশে বন্যার সময় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য যে ট্যাবলেট বা কিট ব্যবহার করা হয়, সেটি কী? সেটি হলো মূলত সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড (NaOCl)। এর মাঝে যে ক্লোরিন থাকে, সেটি পানিতে থাকা রোগজীবাণুকে ধ্বংস করে ফেলে। ক্লোরিন ছাড়াও ওজোন (০) গ্যাস দিয়ে অথবা অতিবেগুনি রশ্মি দিয়েও পানিতে থাকা রোগজীবাণু ধ্বংস করা যায়। বোতলজাত পানির কারখানায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করে পানিকে রোগজীবাণুমুক্ত করা হয়।
স্ফুটন
পানির স্ফুটনের কথা তোমরা সবাই জানো। এ প্রক্রিয়ায় কি পানিকে জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব? হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। পানিকে খুব ভালোভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। প্রশ্ন হতে পারে, জীবাণুমুক্ত করার জন্য কতক্ষণ পানি ফুটাতে হয়? স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ফুটালে সেই পানি জীবাণুমুক্ত হয়। বাসাবাড়িতে খাওয়ার জন্য এটি একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া।
পাতন
পাতন প্রক্রিয়ার কথা তোমরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে জেনেছ। যখন খুব বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়, তখন পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়। যেমন- ওষুধ তৈরির জন্য, পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পুরোপুরি বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে সেটাকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করা পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।
পানিগলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্কবিদ্যুৎ বা তড়িৎ পরিবাহিতাপানির গঠনপানির উৎসবাংলাদেশে মিঠা পানির উৎসজলজ উদ্ভিদের জন্য পানির প্রয়োজনীয়তাজলজ প্রাণীর জন্য পানির প্রয়োজনীয়তাপানির মানদণ্ডপানির পুনরাবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণে পানির ভূমিকাপানি বিশুদ্ধকরণবাংলাদেশের পানির উৎস দূষণের কারণউদ্ভিদ, প্রাণী এবং মানুষের উপর পানিদূষণের প্রভাববৈশ্বিক উষ্ণতাবাংলাদেশে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাববাংলাদেশে পানিদূষণ প্রতিরোধের কৌশল এবং নাগরিকের দায়িত্ববাংলাদেশে পানির উৎসে হুমকিপানিপ্রবাহের সর্বজনীনতা এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ
৪° সে. তাপমাত্রায় ১ সি. সি. পানির ভর কত?
৪° সে. তাপমাত্রায় ১ সি. সি. পানির ভর কত?
১ মিলিগ্রাম
২ মিলিগ্রাম
১০ মিলিগ্রাম
১০০০ মিলিগ্রাম
টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করলে বাংলাদেশের কোন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করলে বাংলাদেশের কোন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
উত্তরাঞ্চল
দক্ষিণাঞ্চল
পূর্বাঞ্চল
পশ্চিমাঞ্চল
বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে-
বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে-
পানির তাপমাত্রা হ্রাস পায়
মিঠা পানির লবণাক্ত হ্রাস পায়
পানিতে অক্সিজেন বৃদ্ধি পায়
বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়
জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য ১ মিটার পানিতে ন্যূনতম কী পরিমাণ অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন?
জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য ১ মিটার পানিতে ন্যূনতম কী পরিমাণ অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন?
৭ মিলিগ্রাম
৬ মিলিগ্রাম
৫ মিলিগ্রাম
৪০ মিলিগ্রাম
বোতলজাত পানির কারখানায় পানিকে রোগজীবাণুমুক্ত করা হয়। এতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
বোতলজাত পানির কারখানায় পানিকে রোগজীবাণুমুক্ত করা হয়। এতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
অতিবেগুনি রশ্মি
Ca(OCl)Cl
ক্লোরিন গ্যাস
NaOCl
বিশুদ্ধ পানির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
বিশুদ্ধ পানির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
স্বাদহীন, গন্ধহীন ও নীলাভ বর্ণের
স্বাদযুক্ত, গন্ধহীন ও বর্ণহীন
বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন
টকটুস্বাদযুক্ত, গন্ধহীন ও বর্ণহীন
ক্লোরিনেশন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য কোনটি ব্যবহৃত হয়?
ক্লোরিনেশন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য কোনটি ব্যবহৃত হয়?
সোডিয়াম হাইপোক্লোরেট
সোডিয়াম ক্লোরাইড
ক্যালসিয়াম সালফেট
ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইড
জলজ উদ্ভিদ কোন উপায় বংশবিস্তার করে থাকে?
জলজ উদ্ভিদ কোন উপায় বংশবিস্তার করে থাকে?
বীজের মাধ্যমে
কলমের মাধ্যমে
শাখার মাধ্যমে
অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে

