- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
হযরত মুহম্মদ (স.)-এর বংশ পরিচয়- Parentage of Hazrat Muhammad (SM.)
আরবে সাধারণত দু'শ্রেণির লোক দেখা যায়। প্রকৃত আদিম আরব (আরেবা) ও প্রবাসী বা অভ্যাগত আরব (মুস্তারেবা)। প্রাচীন বায়েদা আরব লুপ্ত অথবা সংমিশ্রিত হয়ে নব প্রতিষ্ঠিত বায়িদা শ্রেণির আদিম আরবদের কাহতান বলা হয়। পূর্বে কাহতানি বংশীয়গণ আরবের বিভিন্ন প্রদেশে বহু শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে বসতি স্থাপন করে। অপরদিকে, হযরত ইসমাইল (আ.)-এর সন্তানাদি দ্বারা বংশবৃদ্ধি হলে প্রকৃত ও আদিম আরব অধিবাসীরা নবাগত আরবদের 'মুস্তারেবা' আখ্যা প্রদান করে। খ্রিষ্টপূর্ব ন্যূনাধিক ১৯শত বছর পূর্বে মহাপ্লাবনের পর হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.) মক্কায় কাবাগৃহ প্রতিষ্ঠা করেন। হযরত ইসমাইল (আ.)-এর বংশধরগণ কুরাইশ নামে পরিচিত এবং তারা মক্কার কাবাগৃহের রক্ষণাবেক্ষণ করত।
কুরাইশ নামের উৎপত্তি হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্মের বহু পূর্বে হযরত ইসমাইল (আ.)-এর বংশীয় আদনান প্রসিদ্ধ মক্কা নগরীতে বসতি স্থাপন করেন। তাঁরই ঔরসজাত পুত্র মা'আদ এবং মা'আদের পুত্র ফিহর এ বংশের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ফিহরের অপর নাম কুরাইশ। পরবর্তীকালে কুরাইশের নামানুসারে এ বংশের নাম হয় কুরাইশ বংশ। কুরাইশ শব্দের অর্থ সওদাগর বা বণিক। প্রাক-ইসলামি আরবে কুরাইশরা ব্যবসায়-বাণিজ্যের জন্য খ্যাতি লাভ করেন। ফিহরের বংশীয় কুশাই পঞ্চম খ্রিষ্টাব্দে মক্কা ও সমগ্র হেজাজ প্রদেশে অত্যন্ত পরাক্রমশালী ব্যক্তি ছিলেন।
৪৮০ খ্রিষ্টাব্দে কুশাইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র আবদুদ-দার হিজায বিশেষ করে মক্কার শাসনভার গ্রহণ করেন। কিন্তু আবদুদ দার-এর মৃত্যুর পর তাঁর পৌত্রদের এবং ভ্রাতা আবদ মান্নাফের পুত্রদের মধ্যে কলহ বাধে। শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে আবদ মান্নাফের পুত্র আব্দুস সামস তীর্থযাত্রীদের পানীয় সরবরাহ ও কর আদায়ের ভারপ্রাপ্ত হবেন এবং আবদুদ দারের পৌত্রগণ কা'বার রক্ষণাবেক্ষণ ও সামরিক শাসনের কর্তৃত্ব লাভ করবেন। পরবর্তীতে আব্দুস সামস তীর্থযাত্রীদের পানীয় সরবরাহ ও কর আদায়ের গুরুদায়িত্ব তার যোগ্য ভ্রাতা হাশিমের নিকট অর্পণ করেন। হাশিমের মৃত্যুর পর তার অপর ভ্রাতা মুত্তালিব শাসনভার গ্রহণ করেন। ৫২০ খ্রিষ্টাব্দে মুত্তালিব মৃত্যুবরণ করলে তার ভ্রাতুষ্পুত্র ও হাশিমের পুত্র শায়বা আব্দুল মুত্তালিবকে সর্বময় ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়।
আব্দুল মুত্তালিবের চারিত্রিক গুণাবলি ও মহত্ত্বে মুখ হয়ে সমগ্র কুরাইশ গোত্র তার কর্তৃত্ব মেনে চলতে থাকে। কিন্তু উমাইয়ার পুত্র হারব মুত্তালিবের প্রভুত্ব মেনে নিতে রাজি না হয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হন। যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বিচারানুযায়ী দশ বছরের জন্য নির্বাসিত জীবন যাপন করেন।
আবরাহার মক্কা আক্রমণ: আব্দুল মুত্তালিব যখন হিজাযে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন, তখন দক্ষিণ আরবের ইয়ামেনের শাসনকর্তা আবরাহা ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জন্মের ৫০ দিন পূর্বে ষাট হাজার সৈন্য ও বিশাল হস্তীবাহিনী নিয়ে মক্কায় কাবাগৃহ ধ্বংস করার জন্য এক অভিযান পরিচালনা করেন। আবরাহা হস্তীর পিঠে আরোহণ করেন বলে এ বছরকে "হস্তীর বছর" (Year of the Elephant) বলে অভিহিত করা হয়। আবরাহার সৈন্যগণ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। কুরআনে উল্লেখ আছে, 'আবাবিল' নামক পাখির পাথরের আঘাতে আবরাহার বাহিনী নিশ্চিহ্ন হয়ে মাটিতে মিশে যায়।
আব্দুল মুত্তালিবের পুত্রগণ আব্দুল মুত্তালিবের বারোজন পুত্র ও ছয়জন কন্যা ছিল। পুত্রগণ হলেন, আবু তালেব, আব্বাস, হামজা, আবু লাহাব, হারিস, যুবায়ের, যিরার, হাজলা, মুকাওয়াম, আহাব, আল-গাবদাক ও আব্দুল্লাহ। কন্যাগণ হলেন, উম্মে হাকীম, আল-বায়দা, আতিকা, বাররা, উমাযমা, আরওয়া প্রমুখ। আব্দুল মুত্তালিবের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র আব্দুল্লাহ ছিলেন ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহম্মদ (স.)-এর পিতা। আবরাহার মক্কা আক্রমণের কিছুকাল পূর্বে আব্দুল মুত্তালিব কুরাইশ গোত্রের বনি জোহর নামক শাখার' নেতা আব্দুল ওয়াহাবের সর্বগুণসম্পন্না কন্যা আমিনার সহিত পুত্র আব্দুল্লাহর বিবাহ দেন।
হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.) - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

