• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

বিদায় হজ ও বিদায় হজের ভাষণ

বিদায় হজ (Farewell Pilgrimage)

মহানবি (স.)-এর জীবনসমগ্রের নির্যাস হলো বিদায় হজের অবিস্মরণীয় ভাষণ। পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত একটি সমাজকে পুনরুদ্ধার করে ইহ-পারলৌকিক কল্যাণের দিকে ধাবিত করার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তাঁর বিদায় হজের ভাষণে পরিলক্ষিত হয়। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ ফেব্রুয়ারি লক্ষাধিক মুসলমান সমভিব্যাহারে মক্কায় যাত্রা করে ৭ মার্চ সেখানে হাজির হন। মক্কাতে এটিই মহানবি (স.)-এর শেষ গমন এবং তাঁর জীবনের শেষ হজ হওয়ার কারণে এটি 'হুজ্জাতুল বিদা' বা 'বিদায় হজ' নামে অভিহিত হয়।

এ হজ উপলক্ষে মহানবি (স.) জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনটি ভাষণ দিয়েছিলেন। কিন্তু জিলহজ মাসের ৯ তারিখে (৮ মার্চ) আরাফাতের ময়দানে যে ভাষণ তিনি দিয়েছিলেন সেটিই ইতিহাসে 'বিদায় হজের ভাষণ' হিসেবে খ্যাত হয়ে আছে। মহানরি (স.) জাবালুর রহমতের পাদদেশে তাঁর উট আল-কাসওয়ার উপর থেকে এ ভাষণ প্রদান করেছিলেন। এ অভিভাষণের মধ্যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনা অতি স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে বিধৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্ধকারও অসাম্যের চিরঅবসান ঘোষণা করে পৃথিবীর বুকে শান্তির আদর্শ এবং এক নতুন আলোকময় যুগের সূচনা করেছে।

বিদায় হজের ভাষণ (Address of Farewell Pilgrimage)

হিজরি দশম সনের যিলহজ মাসের ৯ তারিখ জুমাবার দুপুরের পর নবি করীম (স.) তাঁবু হতে বের হয়ে 'কাসওয়া' নামক উটের পিঠে আরোহণ করেন। কাসওয়া তাঁকে ধীরে ধীরে আরাফাতের ময়দানে 'বতনুলওয়াদী' নামক স্থানে উপস্থিত হয়ে সেখানকার পাহাড়ের উপর আরোহণ করেন। তখন তিনি উঠের পিঠে থেকেই তার মূল্যবান ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। আরাফাতের ময়দানে তখন সমবেত এক লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার মতান্তরে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার হজ পালনকারী গভীর মনোযোগের সাথে ভাষণ শ্রবণ করেন।

ভাষণ শুরু করার পূর্বে মহানবি (স.) আল্লাহ সুবহানাল্লাহ্ তায়ালার অশেষ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। অতঃপর তিনি উপস্থিত জনমণ্ডলীকে উদ্দেশ্য করে বলেন-

"হে আল্লাহর বান্দাগণ। আমি তোমাদের আল্লাহর ইবাদত ও বন্দেগির ওসিয়ত করছি এবং এর নির্দেশ দিচ্ছি। হে উপস্থিত জনতা। আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ কর এবং অনুধাবন কর। কারণ এটি নিশ্চিত বলা যায় না যে, পরবর্তী বছর আর পুনরায় তোমাদের সাথে আমার সাক্ষাতের সুযোগ হবে।

হে সমবেত জনগণ! অন্ধকার যুগের সব ধ্যান-ধারণা ভুলে যাও। নতুন আলোক পথে চলতে শেখ। আজ থেকে অতীতের সকল মিথ্যা সংস্কার, অনাচার ও পাপ-পঙ্কিলতার অবসান হলো।

সর্বপ্রথম আমি আমার কবিলার রক্তের দাবি অর্থাৎ রবীআ ইবনুল হারিসের পুত্রের রক্তের দাবি রহিত ঘোষণা করছি। বনু সাআদ গোত্রে থাকাকালে হুযাইলীরা তাকে হত্যা করেছিল। জাহিলি যুগের সুদও রহিত করা হলো। সর্বপ্রথম আমি আমার কবিলার সুদের দাবি অর্থাৎ চাচা আব্বাস (রা.)-এর সুদ মাফ করে দিলাম। সুতরাং সকল সুদই আজ রহিত করা হলো।
সাবধান! ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কর না। কেননা ধর্মে জোরজবরদস্তির ফলে তোমাদের পূর্বে বহু। বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।

এই দিন ও এই মাস সকলের জন্য যেরূপ পবিত্র সেরূপ তোমাদের জীবন ও সম্পত্তি মহাপ্রভুর সাথে সাক্ষাতের পূর্ব পর্যন্ত পরস্পরের নিকট পবিত্র ও হস্তক্ষেপের অনুপযুক্ত।
স্মরণ রাখিও, দুনিয়ার প্রত্যেকটি কাজের জন্য একদিন তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট হাজির হয়ে জবাবদিহি করতে হবে।

হে আমার ভক্তবৃন্দ। তোমাদের সহধর্মিণীদের উপর তোমাদের যেরূপ অধিকার আছে, তোমাদের উপরও তাদের সেরূপ অধিকার রয়েছে। তাদের প্রতি তোমরা সদয় ব্যবহার করিও। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোমরা তাদেরকে গ্রহণ করেছ এবং তাঁরই আদেশক্রমে তাদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করে নিয়েছ।

হে লোক সকল। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, "হে মানবজাতি! তোমাদেরকে আমি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে পয়দা করেছি এবং তোমাদেরকে সমাজ ও গোত্রে ভাগ করে দিয়েছি যেন তোমরা পরস্পরের পরিচয় জানতে পার।" তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর দরবারে অধিকতর সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া অবলম্বন করে। সকল বিষয়ে আল্লাহর কথা অধিক খেয়াল রাখে।

ইসলামে জাতি, শ্রেণিভেদ ও বর্ণবৈষম্য নেই। আরবের উপর কোনো আজমের, আজমের উপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি সাদার উপর কালোর বা কালোর উপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। মর্যাদার ভিত্তি হলো কেবল তাকওয়া।

আল্লাহর ঘরের হেফাজত, সংরক্ষণ ও হাজিগণের পানি পান করানোর ব্যবস্থা পূর্বের মতো এখনো বহাল থাকবে।

হে কুরায়েশ সম্প্রদায়ের লোকগণ। তোমরা দুনিয়ার বোঝা নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে যেন আল্লাহর সামনে হাজির না হও। আমি আল্লাহর বিরুদ্ধে তোমাদের কোনো উপকারই করতে পারব না।

শুনে রাখ, তোমরা শীঘ্রই আল্লাহর দরবারে হাজির হবে। তিনি তোমাদের সকলকেই তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

অপরাধের দায়িত্ব কেবল তার ঘাড়েই বর্তায়। পিতা তার পুত্রের জন্য আর পুত্র তার পিতার অপরাধের জন্য দায়ী নয়।

তোমরা তোমাদের অধীনস্থদের সম্পর্কে সতর্ক হও। নিজেরা যা খাবে, তাদেরও তা খাওয়াবে; নিজেরা যা পরবে, তাদেরও তা পরাবে।

হে লোক সকল! শুনে রাখ মুসলিমরা পরস্পরের ভাই। সাবধান! আমার পরে তোমরা একজনকে হত্যা করার মতো কুফরি কাজে লিপ্ত হয়ো না।

হে লোক সকল! আল্লাহ প্রত্যেককেই তার যথাযথ অধিকার দিয়েছেন। সুতরাং উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো রূপ ওসিয়ত কার্যকর হবে না।

সন্তান হলো বিবাহিত দম্পতির; ব্যভিচারীর সন্তানের অধিকার নেই। আর সকলের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর উপর ন্যস্ত।

যে ব্যক্তি নিজের পিতার স্থলে অপরকে পিতা বলে পরিচয় দেয়, নিজের মওলা বা অভিভাবককে ছেড়ে দিয়ে অন্য কাউকে মওলা বা অভিভাবক বলে পরিচয় দেয়, তার উপর আল্লাহর লানত।

ঋণ অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। প্রত্যেক আমানত তার হকদারের কাছে অবশ্যই আদায় করে দিতে হবে।

কারো সম্পত্তি- সে যদি স্বেচ্ছায় না দেয় তবে তা অপর কারো জন্য হালাল নয়। সুতরাং তোমরা একজন অপরজনের উপর জুলুম করবে না। এমনিভাবে কোনো স্ত্রীর জন্য তার স্বামীর সম্পত্তির কোনো কিছু তার সম্মতি ছাড়া কাউকে দেয়া হালাল নয়।

যদি কোনো নাক-কান কাটা হাবশি দাসকেও তোমাদের আমির বানিয়ে দেয়া হয়, তবে সে যতদিন আল্লাহর কিতাব অনুসারে তোমাদের পরিচালিত করবে, ততদিন অবশ্যই তার কথা মানবে, তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবে। শোন, তোমরা তোমাদের প্রভুর এবাদত করবে। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথারীতি আদায় করবে, রমজানের রোজা পালন করবে, স্বেচ্ছায় ও খুশি মনে তোমাদের সম্পদের যাকাত দেবে, তোমাদের রবের ঘরে হজ করবে আর আমিরের ইতা'আত করবে; তাহলে তোমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারবে।

হে লোক সকল! আমার পর আর কোনো নবি নেই। আর তোমাদের পর আর কোনো উম্মত নেই। আমি তোমাদের কাছে দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এ দুটোকে আঁকড়ে থাকবে, ততদিন তোমরা গোমরাহ হবে না। সে দুটো হলো আল্লাহর কিতাব আল কুরআন ও রাসুলের সুন্নাহ আল হাদিস।

এই ভূমিতে আবার শয়তানের পূজা হবে- এ বিষয়ে শয়তান নিরাশ হয়ে গেছে। কিন্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ে তোমরা তার অনুসরণে লিপ্ত হয়ে পড়বে, সে তাতে সন্তুষ্ট হবে। সুতরাং তোমাদের দীনের বিষয়ে তোমরা শয়তান থেকে সাবধান থেক।

শোন তোমরা যারা এ সভায় উপস্থিত আছ, তারা অনুপস্থিত লোকদেরকে আমার বাণী পৌঁছে দিও। উপস্থিত ব্যক্তিদের চেয়ে অনুপস্থিত ব্যক্তিরাই অধিক সংরক্ষণকারী হয়।
তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। তখন তোমরা কী বলবে?

[সমবেত সকলে সমস্বরে উত্তর দিলেন, আমরা সাক্ষ্য দেব, আপনি নিশ্চয় আপনার উপর অর্পিত আমানত আদায় করেছেন, রিসালাতের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন এবং সকলকে নসিহত করেছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) আকাশের দিকে পবিত্র শাহাদত অঙুলি তুলে আবার নিচে মানুষের দিকে নামালেন।।

হে আল্লাহ। তুমি সাক্ষী থাক। হে আল্লাহ। তুমি সাক্ষী থাক।

বিদায় হজের তাৎপর্য

আরাফাতের মাঠে মহানবি (স.)-এর অভিভাষণ বিশ্বমানবতা প্রতিষ্ঠায় একটি অসামান্য দলিল। ইসলামের সুমহান মর্যাদা ও উদারতার দ্বারা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বসবাসের লক্ষ্যে এক সুখকর পরিবেশ রচনার ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থাপত্র। এ অমূল্য ভাষণে তিনি একটি আদর্শ মুসলিম সমাজ ব্যবস্থার চিত্র জনগণের নিকট তুলে ধরেন। তাদেরকে তিনি তমসাযুগের অসাম্য, প্রতিহিংসা, নিষ্ঠুরতা, শ্রেণিবৈষম্য ও সুদ প্রথার মাধ্যমে শোষণ-নির্যাতন, নারী ও দাস-দাসীর প্রতি অন্যায়-অবিচার, কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রাচীন রীতিনীতি প্রভৃতি অসামাজিক কার্যকলাপের অবসান ঘটিয়ে মানবতাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটান।"

মানুষের অধিকার ও ভালোবাসার পবিত্র দিকগুলো তার অভিভাষণে বিদ্যমান। এতে অপরের সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা ও নাগরিক কর্তব্যবোধ জাগ্রত করে একটি সুন্দর পৃথিবী রচনার নানাদিক প্রস্ফুটিত হয়েছে।

মহানবি (স.)-এর বিদায় হজের ভাষণ ইসলামি রাজনীতিতে, সমাজনীতি, অর্থনীতি ও মানবিক অধিকারের মূলনীতি বিঘোষিত কর্মসূচি। এ ভাষণে মানব জীবনের আধ্যাত্মিক ও বাস্তব শিক্ষার সুস্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে। বস্তুত এই শিক্ষাতেই মানব জাতির মুক্তি ও শান্তি নিহিত।

এই ভাষণের মর্মকথা যথাযথভাবে পালিত হলে সব ধরনের দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতি থেকে মানবগোষ্ঠী তাদের স্ব স্ব সত্তাকে রক্ষা করে পৃথিবীকে একটি শান্তির নীড় হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে এবং পরকালীন জীবনের অনন্ত কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে কাজ করে পৌঁছতে পারবে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়। আজও আমরা এ অভিভাষণকে উপজীব্য করে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের নানা সমস্যা-সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারি। 

মক্কা বিজয়ের পরবর্তী ঘটনাসমূহ:

হুনায়েনের যুদ্ধ: মক্কা বিজয়ের পর হযরত মুহম্মদ (স.) ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে হাওয়াজিন ও শফীক গোত্রদ্বয়কে হুনায়েনের যুদ্ধে পরাভূত করেন।

তায়েফ বিজয়: হুনায়েনের যুদ্ধের অব্যবহিত পরে হযরত মুহম্মদ (স.) ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে আবু মুসার অধিনায়কত্বে তায়েফ দুর্গ অবরোধ করেন। তায়েফবাসীরা পরাজিত হয়ে মহানবি (স.)-এর আনুগত্য স্বীকার করেন।

তাবুক অভিযান: নবম হিজরিতে রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস মদিনা আক্রমণের প্রস্তুতি গ্রহণ করলে হযরত মুহম্মদ (স.) সিরিয়ার প্রান্তস্থিত তাবুক নামক স্থানে সসৈন্য উপস্থিত হন। এটিই তাঁর জীবনের শেষ অভিযান।

বিভিন্ন দেশে প্রতিনিধি প্রেরণ: নবম হিজরি ইসলামের ইতিহাসে এবং হযরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবনে অত্যন্ত স্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় রাসূল (স.) বিভিন্ন দেশে প্রতিনিধি প্রেরণ করতে থাকেন এবং বিভিন্ন অঞ্চল হতে স্থানীয় অসংখ্য প্রতিনিধি দলও ইসলাম গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে পয়গম্বরের নিকট আসতে শুরু করে। ইতিহাসবিদ ইবনে-হিসাম বলেন যে, এই বছর রাসূলে করিম (স.) অসংখ্য প্রতিনিধি প্রেরণ এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত অসংখ্য প্রতিনিধিকে সাদর অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন বলে উক্ত বছরকে প্রতিনিধি প্রেরণের বছর বা 'সানাদ-আল-উফুদ' বলা হয়।

মুহম্মদ (স.) এর মৃত্যু: এভাবে মদিনায় নানা দুঃখ-কষ্ট বিজড়িত মহানবি (স.)-এর জীবনের দশটি বছর অতিবাহিত হয়। একাদশ হিজরির প্রথমার্ধে হযরত মুহম্মদ (স.) অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ৮ জুন তারিখে ৬৩ বছর বয়সে বিশ্বনবি হযরত মুহম্মদ (স.) ইহলোক ত্যাগ করেন।

পরিশেষে বলা যায়, হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মদিনা জীবন অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তিনি মদিনায় গিয়ে ইসলামি রাষ্ট্র গঠন, সনদ প্রদান, বিভিন্ন সন্ধি ও যুদ্ধ করে মদিনায় শক্তিশালী ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিভিন্ন দেশে ইসলামি দূত প্রেরণ করে ইসলামকে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে দেন। ইন্তেকালের পূর্বে বিদায় হজের ভাষণে মুসলিম জাতিকে তিনি দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.) - অন্যান্য প্রশ্ন

হযরত মুহম্মদ (স.)-এর বংশ পরিচয়- Parentage of Hazrat Muhammad (SM.)হযরত মুহম্মদ (স.)-এর বাল্যকাল ও মক্কা জীবনহযরত মুহম্মদ (স.) ও বিবি খাদিজা (রা.)মহানবি (স.)-এর হিজরত (৬২২ খ্রি.)মদিনা সনদ Charter of Madinaপ্রাথমিক যুদ্ধসমূহ: বদর, উহুদ ও খন্দকমদিনায় ইহুদিদের সঙ্গে মুহম্মদ (স.)-এর সম্পর্কহুদায়বিয়ার সন্ধি (৬২৮ খ্রি.) ও এর ফলাফল মক্কা বিজয় (জানুয়ারি, ৬৩০ খ্রি.) ও শান্তিনীতিবিদায় হজ ও বিদায় হজের ভাষণমহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর সংস্কারসমূহ মহানবি (স.)-এর চারিত্রিক গুণাবলি ও কৃতিত্ব মহানবি (স.) কত খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন?বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের সেনাপতি কে ছিলেন?কত খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স.) মক্কা বিজয় করেন?মহানবি (স.) কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেন?হিজরত শব্দের অর্থ কী?কত খ্রিষ্টাব্দে হুদায়বিয়ার সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়?হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাতার নাম কী?মহানবি (স.) কত খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?হিজরতের সময় মহানবি (স.)-এর সঙ্গী কে ছিলেন?মদিনার পূর্বনাম কী ছিল?উহুদের যুদ্ধে কুরাইশ নেতা কে ছিলেন?'কুরাইশ' শব্দের অর্থ কী?'মুহাম্মদ' শব্দের অর্থ কী?পবিত্র কাবাগৃহে রক্ষিত পাথরটির নাম কী?'হিলফুল ফুজুল' কে গঠন করেন?আল-আমিন শব্দের অর্থ কী?কত খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স.) নবুয়ত লাভ করেছিলেন?'আনসার' শব্দের অর্থ কী?মদিনায় হিজরতকারীরা কী নামে পরিচিত?কোন ঘটনাকে মহানবি (স.)-এর জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা বলা হয়?বিশ্বের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান কোনটি?মদিনা সনদের কতটি ধারা ছিল?পবিত্র কুরআনে খন্দকের যুদ্ধকে কী নামে উল্লেখ করা হয়েছে?মুহাম্মদ (স.) কার পরামর্শে মদিনার চারপাশে পরিখা খনন করেছিলেন?'ফাতহুম মুবিন' অর্থ কী?কোন অভিযানকে 'গাজওয়াতুল ওসরাৎ' বলে?মেরাজ বলতে কী বোঝায়?হুদায়বিয়ার সন্ধিকে 'প্রকাশ্য বিজয়' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।নাখলার খণ্ডযুদ্ধকে বদরের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।'বায়তুল মাল' কী? ব্যাখ্যা কর।হযরত মুহাম্মদ (স.) কে আল-আমিন বলা হতো কেন? ব্যাখ্যা কর।হিলফুল ফুজুল বলতে কী বোঝায়?হিজরত ও স্বদেশত্যাগের মধ্যে পার্থক্য কী?কাদেরকে আনসার ও মুহাজির বলা হয়?'ফাতহুম মুবিন' কী? ব্যাখ্যা কর।আকাবার শপথ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ