• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

মক্কা বিজয় (জানুয়ারি, ৬৩০ খ্রি.) ও শান্তিনীতি

মক্কা বিজয় হযরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবনে তথা ইসলামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। হযরত মুহম্মদ (স.) নিজ জন্মভূমি মক্কায় ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়ে মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য হন। কিন্তু মাত্র ৮ বছর পর বিনা বাধায় মক্কা জয়ের পর তিনি শত্রুর প্রতি যে মহানুভবতার পরিচয় দেন তার নজির ইতিহাসে বিরল। যুদ্ধ-বিগ্রহের ইতিহাসে মক্কা বিজয় একটি অদ্বিতীয় ঘটনা।

মক্কা বিজয়ের পটভূমি

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে মকার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। নব প্রতিষ্ঠিত ইসলামি প্রজাতন্ত্রে ইসলাম ধর্মের সম্প্রসারণের জন্য মক্কা বিজয় অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। উপরন্তু, মক্কা বিজয় বহির্বিশ্বে মহানবি (স.)-এর ক্ষমতা ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে ভেবে মহানবি (স.) ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মকা অভিযান করেন।

মক্কা বিজয়ের কারণ

মক্কা বিজয়ের প্রধান প্রধান কারণগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো:

১. অভ্যন্তরীণ কোন্দল ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত বদরের যুদ্ধ হতে ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা বিজয় পর্যন্ত মক্কার অভ্যন্তরীণ অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। বদরের যুদ্ধ কুরাইশ গোত্রকে দুটি দলে বিভক্ত করে। আবু জেহেল এবং আবু সুফিয়ান এই দুই গোত্রের নেতৃত্ব দান করেন। গোত্রীয় স্বার্থ ও রাজনৈতিক অনৈক্য মক্কার বিধর্মীদের শক্তিকে দুর্বল করে ফেলে।

২. মক্কায় ইসলামের প্রভাব হ্রদায়বিয়ার সন্ধি শুধু উমরা হজ পালনের নিশ্চয়তা দান করে নি বরং মক্কা বিজয়েরও সূচনা । করে। হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মহানুভবতা ও ইসলামের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে মক্কার তরুণ সম্প্রদায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ : করে। খালিদ-বিন-ওয়ালিদ, আমর-বিন আল-আস ও উসমান-বিন-তালহার মতো নবীন বীরদের ইসলাম গ্রহণ মক্কা বিজয়ের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
:- ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরত করার পর সেখানে একটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের

৩. কুরাইশদের শত্রুতার মূলোৎপাটন: ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে নবুয়ত প্রাপ্তির পর মহানবি (স.) ইসলাম প্রচার শুরু করলে কুরাইশগণ : মহানবি (স.) ও তাঁর অনুগামীদের উপর অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করে। মহানবি (স.) ইসলাম ধর্ম রক্ষার্থে : সাফল্যে ঈর্যান্বিত হয়ে কুরাইশরা বদর, ওহ্রদ ও খন্দকের যুদ্ধে ইসলাম ধর্ম ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করতে :. আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ইসলামি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার তথা কুরাইশদের শত্রুতার চির অবসানকল্পে মহানবি (স.) মক্কা অভিযানে অগ্রসর হন।

৪. মক্কা নগরীতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা: দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক হযরত মুহম্মদ (স.) বুঝতে পেরেছিলেন যে, পৌত্তলিকতার লীলাভূমি মক্কা নগরীতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে সমগ্র আরবদেশে ইসলাম প্রচার সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে কুরাইশ .. নেতাসহ কতিপয় মক্কাবাসী হযরত মুহম্মদ (স.)-এর নিকট আত্মসমর্পণ করে তাঁকে মক্কা বিজয়ে অনুপ্রাণিত করে।

৫. হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত ভঙ্গ: কুরাইশগণ কর্তৃক হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত ভঙ্গ ও অবমাননা মক্কা বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণ। সন্ধির শর্তানুসারে মক্কায় বনু খোজা এবং বনু বকর গোত্র যথাক্রমে নবি করিম (স.) ও কুরাইশদের সাথে মিত্রতাসূত্রে আকথ হয়। কিন্তু সন্ধির ২ বছর অতিক্রান্ত হতে না হতেই বনু খোজা সম্প্রদায়ের উপর বনু বকর সম্প্রদায়ের হামলা ও কতিপয় ব্যক্তিকে হত্যা মকা অভিযান এবং বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। ক্ষতিগ্রস্ত খোজা সম্প্রদায়ের চল্লিশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মহানবি (স.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি তাদের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। হযরত মুহম্মদ (স.) যুদ্ধ এড়াবার জন্য কুরাইশদের নিকট তিনটি প্রস্তাব সংবলিত একটি পত্রসহ শান্তি দূত প্রেরণ করেন। প্রস্তাবগুলো ছিল- (১) অন্যায়ভাবে নিহত খোজা সম্প্রদায়ের লোকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, (২) বনু বকর সম্প্রদায়কে সকল প্রকার সাহায্য দানে বিরত থাকতে হবে এবং (৩) হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্তাবলি বাতিল বলে ঘোষণা করতে হবে। কুরাইশগণ শেষোক্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। মহানবি (স.) অগত্যা বাধ্য হয়ে হ্রদায়বিয়ার সন্ধি বাতিল ঘোষণা করার পর মকা অভিযানে অগ্রসর হন।
মক্কা বিজয়ের ঘটনা

হযরত মুহম্মদ (স.) ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে প্রায় দশ সহস্র সৈন্য নিয়ে মক্কা আক্রমণে অগ্রসর হন। পথিমধ্যে আব্বাস স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এই বিরাট মুসলিম বাহিনীর আগমনে কুরাইশগণ ভীত হয়ে পড়ে। কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান গোপনে মুসলিম সৈন্য সমাবেশ দেখতে এসে মুসলমানদের হাতে ধরা পড়েন এবং পরবর্তীতে রাসূল (স.) তাকে ক্ষমা করে দিলে তার হৃদয়ে সত্যের আলো উদ্ভাসিত হয়। তিনি ইসলাম কবুল করেন। হযরত মুহম্মদ (স.) তাঁর বহুদিনের শত্রুকে হাতে পেয়েও ক্ষমা করে দেন। তাঁর এ ত্যাগ ও ক্ষমার মহান আদর্শ পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। ঐতিহাসিক উইলিয়াম মুর বলেন, "যে মক্কাবাসী এতদিন ধরে মুহম্মদ (স.)-কে ঘৃণাভরে পরিত্যাগ করেছিল তাদের প্রতি তাঁর উদার ব্যবহার সত্যিই প্রশংসিত।"

মক্কা বিজয়ের ফলাফল

মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ আট বছর পর হযরত মুহম্মদ (স.) তাঁর প্রিয় জন্মভূমিতে প্রবেশ করেন। বিনা যুদ্ধে, বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় সম্পন্ন হয়। ঐতিহাসিক আমীর আলী বলেন, "বিজয়ের মুহূর্তে সমস্ত দুর্ভোগ হযরত মুহম্মদ (স.) ভুলে, গেলেন, সমস্ত আঘাত যা পেয়েছিলেন তা ক্ষমা করে দিলেন এবং মক্কার অধিবাসীদের জন্য শান্তির বাণী ঘোষণা করলেন। বিনা বাধায় ও বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় হযরত মুহম্মদ (স.)-এর এক অবিস্মরণীয় কীর্তি।"

মক্কা বিজয়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

মক্কা বিজয়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিম্নে আলোচনা ব আলোচনা করা হলো:

১. রক্তপাতহীন মহাবিজয়: মক্কা বিজয় পৃথিবীর ইতিহাসে রক্তপাতহীন বিজয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ঐতিহাসিক হিট্টি বলেন, "প্রাচীন ইতিহাসে এটি একটি অতুলনীয় মহাবিজয়।" মক্কা বিজয়ের সামরিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। আলেকজান্ডার, জুলিয়াস সীজার ও নেপোলিয়ানের দেশ জয় নিরীহ জনসাধারণের রক্তপাতের ইতিহাস, কিন্তু এ রক্তপাতহীন ও প্রতিবন্ধকতাবিহীন বিজয় ছিল সমগ্র আরব উপদ্বীপ মুসলিম অধিকারে আসার সমতুল্য।

২. উদারতা ও মহানুভবতার বিজয়: মক্কা বিজয় ছিল হযরত মুহম্মদ (স.)-এর অসীম ক্ষমা, উদারতা ও মহানুভবতার এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত। দীর্ঘ তেরো বছর ধরে হযরত মুহম্মদ (স.) ও তাঁর সাথিরা মক্কাতে অপমানিত, লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত হন এবং শেষ পর্যন্ত মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য হন। কিন্তু ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মহানবি (স.) যখন বিজয়ীর বেশে মক্কাতে প্রবেশ করেন তখন কুরাইশদের সমস্ত অতীত অপমান ও অন্যায় ভুলে গিয়ে তাদের প্রতি সর্বজনীন ক্ষমা প্রদর্শন করে এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। আমীর আলী বলেন, "বিজয়ের মুহূর্তে মহানবি (স.) সমস্ত দুর্ভোগ ভুলে গেলেন, সমস্ত আঘাত ক্ষমা করেন এবং মক্কাবাসীদের প্রতি সর্বজনীন ক্ষমা ঘোষণা করেন।"

৩. মিথ্যার উপর সত্যের বিজয়: ইসলামের ইতিহাসে মক্কা বিজয় এক রাষ্ট্রের উপর অপর রাষ্ট্রের বিজয় নয়, এটি মিথ্যার উপর সত্যের, অন্যায়ের উপর ন্যায়ের বিজয়, অন্ধকারের উপর আলোকের এবং অত্যাচারের উপর ক্ষমার মহান বিজয়।

৪. পৌত্তলিকতার অবসান ও একেশ্বরবাদের প্রতিষ্ঠা হযরত (স.) এর মহত্ত্ব ও উদারতায় মুগ্ধ হয়ে দলে দলে পৌত্তলিকগণ ইসলাম গ্রহণ করতে থাকে। এই বিজয়কে পৌত্তলিকের বিরুদ্ধে ইসলামের বিজয় বলা হয়। জোসেফ হেল বলেন, "এরূপে মুহম্মদ (স.) তাঁর আশার চরম সীমায় উপনীত হন।"

৫. ইসলামের দ্রুত প্রসার: মক্কা বিজয় ইসলামের শুধু একটা নতুন যুগের সূচনা করে নি, এ বিজয়ের ফলে আরবে প্রভুত্ব বিস্তারের সংগ্রাম শেষ হয়। তাঁর ক্ষমাশীলতা, সহিষ্ণুতা এবং ইসলামের মহত্ত্ব ও সৌন্দর্য বিশ্বকে বিমোহিত করে এবং ইসলামের বিজয় নিশান দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঐতিহাসিক লেনপুল বলেন, "বিজয় অভিযানের ইতিহাসে এরূপ গৌরবময় প্রসঙ্গ আর নেই।" আমীর আলীর ভাষায়, "মক্কা বিজয়ের ফলে এখানে এমন একটি দৃশ্য দেখা গেল, যা বিশ্বের ইতিহাসে অতুলনীয়।"

হযরত মুহম্মদ (স.) হিজরত পরবর্তী আট বছরের মধ্যে অর্থাৎ ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে বিনা বাধায় ও বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন। ইসলামের ইতিহাস তথা পৃথিবীর ইতিহাসে মহানবি (স.)-এর মক্কা বিজয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কারণ ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার কুরাইশদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে তিনি মদিনায় হিজরত করেন।

বিভিন্ন দেশে প্রতিনিধি প্রেরণ/দূত প্রেরণ

হুদায়বিয়ার সন্ধির পর রাসুল (স.) কুরাইশ কর্তৃক রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদা লাভ করেন। তিনি 'আল্লাহ' ও নিজ নামে মোহরাঙ্কিত করে বিভিন্ন দেশে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে দূত প্রেরণ করেন। মহানবি (স.) কর্তৃক প্রেরিত দূতদের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো-

১. হযরত দাহিয়্যা ইবনে খলিফা কালবি (রা.) রোমের সম্রাট হিরাক্লিয়াস।

২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হোযায়ফা (রা.): ইরানের সম্রাট কিমরা (খসরু পারভেজ)।

৩. হযরত আমর ইবনে উমাইয়া খামরী (রা.) আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাশী।

৪. হযরত হাতেব ইবনে আবু বালতাআ (রা.) মিশর ও আলেকজান্দ্রিয়ার সম্রাট মুকাত্তকিম।

৫. হযরত সালীত ইবনে আস সাহমি (রা.) ওমানের বাদশাহ জায়কর।

৬. হযরত সালীত ইবনে আমর (রা.) ইয়ামামার সরদার হাইজা ইবনে আলী।

৭. হযরত আলা ইবনে হাযরামি (রা.) বাহরাইনের শাসক মুনজের ইবনে সাবী।

৮. হযরত শুজা ইবনে ওয়াহাব আসাদি (রা.) গাসসানের শাসক হারেছ গাসসানি।

৯. হযরত মুহাজির ইবনে উমাইয়া মাসযুমী (রা.) ইয়ামেনের শাসক হারেস হিসইয়ারী।

আবিসিনিয়ার নৃপতি নাজ্জাশী রাসুল (স.)-এর পত্র পেয়ে ইসলাম কবুল করেন। রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস রাজনৈতিক কারণে ইসলাম গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু পারস্য সম্রাট খসরু পারভেজ রাসুলুল্লাহর পত্র ছিঁড়ে ফেলে। এ কথা শুনে রাসুল (স.) বলেন, "আমার পত্রকে যেমন সে ছিঁড়ে ফেলেছে ঠিক তেমনি মুসলমানদের হাতে তার রাজ্যও ছিন্ন ভিন্ন হবে।" পরবর্তীতে হযরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালে সমগ্র পারস্য সাম্রাজ্য মুসলমানদের দখলে আসে।

খাইবার যুদ্ধ: সিরিয়ার মধ্যে অবস্থিত কৃষিপ্রধান একটি অঞ্চল হলো খাইবার। ইহুদি সম্প্রদায় মদিনা থেকে বিতাড়িত হয়ে সিরিয়া সীমান্তের নিকটবর্তী খাইবার নামক স্থানে বসতি স্থাপন করে। বানু নাজির ও বানু কুরাইযা গোত্রের ইহুদিগণ ইসলামকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে মুনাফিক দলের নেতা আবদুল্লাহ বিন উবাই এবং গাতফান ও অন্যান্য বেদুইন গোত্রের সঙ্গে যড়যন্ত্র শুরু করে। তারা খন্দকের যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণকল্পে বেদুইন গোত্রের সহযোগিতায় ৪,০০০ সৈন্যের একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠন করে। এ সংবাদ শুনে ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে মে মাসে (৭ম হিজরির মহররম মাসে) হযরত মুহাম্মদ (স.) ইহুদিদের সমূলে ধ্বংস করার জন্য ২০০ অশ্বারোহীসহ ১,৬০০ মুসলিম যোদ্ধা নিয়ে খাইবারের দিকে যাত্রা করেন। ইহুদিদের অবরুদ্ধ করা হয়। আল কামুস দুর্গসহ সকল দুর্গ মুসলমানদের হস্তগত হয়। হযরত আলী (রা.) বীরবিক্রম এ যুদ্ধ করেন বলে হযরত মুহাম্মদ (স.) তাকে আসাদউল্লাহ (আল্লাহর সিংহ) উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁকে বিখ্যাত তরবারি প্রদান করেন। এ যুদ্ধে ইহুদি সম্প্রদায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। মহানবি (স.) তাদেরকে ক্ষমা করে নির্বিঘ্নে তথায় বসবাস করার অনুমতি দিলেন। কিন্তু বিশ্বাসঘাতক ইহুদিগণ হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে হত্যা করার যড়যন্ত্র করে। হারেছের কন্যা জয়নব খাইবারের যুদ্ধে পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে বিষ প্রয়োগে হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে হত্যা করার চেষ্টা করে। খাদ্যে বিষ প্রয়োগের ফলে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সাহাবি নিহত হলেন। কিন্তু বিষ মিশ্রিত সামান্য খাদ্য মুখে দেওয়ায় সৌভাগ্যক্রমে মহানবি (স.)-এর জীবন রক্ষা পায়। সাহাবির মৃত্যুর জন্য জয়নবকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। কিন্তু সমগ্র ইহুদিদের ওপর কোনো প্রকার অত্যাচার করা হয়নি। হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মহানুভবতার এটি একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। সৈয়দ আমির আলী বলেন, নবির জীবন রক্ষা পেল কিন্তু বিষের ক্রিয়া তার শরীরে লাভ করায় পরবর্তী জীবনে এর মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইহুদিদের বিপর্যয়ের পর তাদের ওপর বাধ্যতামূলক কর প্রদান করার ব্যবস্থা করা হয়। কর প্রদানপূর্বক ইহুদিদের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ এবং জানমালের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দান করা হয়।

মুতার যুদ্ধ

হজ থেকে মদিনায় ফিরে আসার পর রাসুল (স.) রোমান সামন্তরাজ সোরাহবিল কর্তৃক মুতায় তাঁর দূতকে হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের নিমিত্তে একটি অভিযান প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি অষ্টম হিজরিতে (৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে) তাঁর দত্তকপুত্র হারিসের নেতৃত্বে ৩,০০০ সৈন্যের এক বাহিনী মুতায় প্রেরণ করেন। লক্ষাধিক রোমান সৈন্যের বিরুদ্ধে বীর বিক্রমে যুদ্ধ করে সেনাপতি যায়েদ (রা.), পতাকাবাহী জাফর (রা.) ও আবদুল্লাহ (রা) শাহাদত বরণ করেন। মুসলিম বাহিনীর চরম বিপর্যয়ের মুখে খালিদ ইবন ওয়ালিদ (রা.) নেতৃত্ব গ্রহণ করলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায় এবং মুসলমানগণ জয়লাভ করেন। এ যুদ্ধে খালিদের (রা.) অসীম সাহস ও রণনৈপুণ্যে মুখ হয়ে রাসুল (স.) তাঁকে সায়ফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) উপাধি দান করেন। এ যুদ্ধের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। এটি ছিল খ্রিষ্টানদের সাথে মুসলমানদের প্রথম যুদ্ধ। এ যুদ্ধে মিথ্যার ওপর সত্যের জয় অধিষ্ঠিত হয়।

হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.) - অন্যান্য প্রশ্ন

হযরত মুহম্মদ (স.)-এর বংশ পরিচয়- Parentage of Hazrat Muhammad (SM.)হযরত মুহম্মদ (স.)-এর বাল্যকাল ও মক্কা জীবনহযরত মুহম্মদ (স.) ও বিবি খাদিজা (রা.)মহানবি (স.)-এর হিজরত (৬২২ খ্রি.)মদিনা সনদ Charter of Madinaপ্রাথমিক যুদ্ধসমূহ: বদর, উহুদ ও খন্দকমদিনায় ইহুদিদের সঙ্গে মুহম্মদ (স.)-এর সম্পর্কহুদায়বিয়ার সন্ধি (৬২৮ খ্রি.) ও এর ফলাফল মক্কা বিজয় (জানুয়ারি, ৬৩০ খ্রি.) ও শান্তিনীতিবিদায় হজ ও বিদায় হজের ভাষণমহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর সংস্কারসমূহ মহানবি (স.)-এর চারিত্রিক গুণাবলি ও কৃতিত্ব মহানবি (স.) কত খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন?বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের সেনাপতি কে ছিলেন?কত খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স.) মক্কা বিজয় করেন?মহানবি (স.) কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেন?হিজরত শব্দের অর্থ কী?কত খ্রিষ্টাব্দে হুদায়বিয়ার সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়?হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাতার নাম কী?মহানবি (স.) কত খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?হিজরতের সময় মহানবি (স.)-এর সঙ্গী কে ছিলেন?মদিনার পূর্বনাম কী ছিল?উহুদের যুদ্ধে কুরাইশ নেতা কে ছিলেন?'কুরাইশ' শব্দের অর্থ কী?'মুহাম্মদ' শব্দের অর্থ কী?পবিত্র কাবাগৃহে রক্ষিত পাথরটির নাম কী?'হিলফুল ফুজুল' কে গঠন করেন?আল-আমিন শব্দের অর্থ কী?কত খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স.) নবুয়ত লাভ করেছিলেন?'আনসার' শব্দের অর্থ কী?মদিনায় হিজরতকারীরা কী নামে পরিচিত?কোন ঘটনাকে মহানবি (স.)-এর জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা বলা হয়?বিশ্বের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান কোনটি?মদিনা সনদের কতটি ধারা ছিল?পবিত্র কুরআনে খন্দকের যুদ্ধকে কী নামে উল্লেখ করা হয়েছে?মুহাম্মদ (স.) কার পরামর্শে মদিনার চারপাশে পরিখা খনন করেছিলেন?'ফাতহুম মুবিন' অর্থ কী?কোন অভিযানকে 'গাজওয়াতুল ওসরাৎ' বলে?মেরাজ বলতে কী বোঝায়?হুদায়বিয়ার সন্ধিকে 'প্রকাশ্য বিজয়' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।নাখলার খণ্ডযুদ্ধকে বদরের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।'বায়তুল মাল' কী? ব্যাখ্যা কর।হযরত মুহাম্মদ (স.) কে আল-আমিন বলা হতো কেন? ব্যাখ্যা কর।হিলফুল ফুজুল বলতে কী বোঝায়?হিজরত ও স্বদেশত্যাগের মধ্যে পার্থক্য কী?কাদেরকে আনসার ও মুহাজির বলা হয়?'ফাতহুম মুবিন' কী? ব্যাখ্যা কর।আকাবার শপথ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ