• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর সংস্কারসমূহ 

বিশ্বমানবতা যখন ভূলুণ্ঠিত, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা অন্ধকারাচ্ছন্ন ও বিশৃঙ্খলায় পরিপূর্ণ, ঠিক সেই সময়ে জগতের আশীর্বাদস্বরূপ আবির্ভূত হন নবিকুলের শিরোমণি হযরত মুহম্মদ (স.)। মহানবি (স.) ছিলেন বিশ্বের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক। তাঁর সম্পর্কে ঐতিহাসিক রেমন্ড লার্জ বলেন, "The founder of Islam is, in fact, the promoter of the first Social and International revolution of which history gives mention." অর্থাৎ "প্রকৃতপক্ষে সামাজিক এবং আন্তর্জাতিক বিপ্লবের সূচনাকারী হিসেবে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তকের নাম ইতিহাসে প্রথম উল্লেখ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক গীবনও মহানবি (স.) প্রবর্তিত সংস্কারসমূহকে এক অতীব স্মরণীয় বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সংস্কারক হিসেবে মহানবি (স.)-এর কৃতিত্ব হযরত মুহম্মদ (স.) অন্ধকারাচ্ছন্ন আরব জাতির মুক্তির জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সংস্কার করেন তা নিম্নরূপ:

ধর্মীয় সংস্কার

হযরত মুহম্মদ (স.)-এর ধর্মীয় সংস্কার পৃথিবীর ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো:

১. দ্বীন ইসলাম প্রচার এবং প্রতিষ্ঠা: কুসংস্কারপূর্ণ আরব সমাজে মূলত কোনো ধর্মই ছিল না। তারা ছিল বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসী। দেব-দেবী, পাথর, গাছ-পালা, পাহাড়-পর্বতকে পূজা করা ছিল আরববাসীর ধর্ম। এই কুসংস্কারপূর্ণ ধর্ম-বিশ্বাস আরবের জাতীয় জীবনকে ভূলুণ্ঠিত ও অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছিল। মহানবি (স.) একটি ধর্মজ্ঞান বিবর্জিত জাতিকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে ধর্মাশ্রিত জাতিতে পরিণত করেন। তিনি ইসলামের মহান বাণী প্রচার করে ধর্মজ্ঞানে মানুষকে বিশুদ্ধ করে তোলেন। তাঁর ধর্মীয় কৃতিত্বের জন্য বলা যায়, বিশ্বের সকল ধর্মীয় নেতার মধ্যে মহানবি (স.) ছিলেন সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। কাবাগৃহের ৩৬০টি মূর্তি ধ্বংস হয়। এমনকি সমগ্র আরবদেশ হতে মূর্তি পূজা বিদূরিত হয়। ইমান, নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত এ পাঁচটি স্তম্ভের উপর গড়ে ওঠে দ্বীন ইসলাম। মানুষ তাঁর মানবীয় গুণাবলিতে ফিরে আসে।

২. দ্বীন ইসলাম একক ও সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা: মহানবি (স.)-এর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর জমিনে আল্লাহর ধর্মকে একক ও সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। তাই তিনি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করে ইসলামকে একমাত্র মানব জাতির জীবন ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন (Islam is the complete code of life)। ধর্ম সংস্কারক হিসেবে মুহম্মদ (স.) সম্পর্কে Encyclopedia Britannica-তে বলা হয়েছে, "Of all the Religious personalities of the world Muhammad was the most successful" অর্থাৎ "বিশ্বের সমস্ত ধর্ম প্রচারকদের মধ্যে মুহম্মদ (স.) সর্বাপেক্ষা সফল ছিলেন।"

সমাজ সংস্কার

মানব সমাজকে পরিশুদ্ধ করার মানসে মহানবী (স.) যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তা নিম্নে আলোচিত হলো:

১. জাতি গঠন: হযরত মুহম্মদ (স.) সর্বপ্রথম রক্ত অথবা কৌলীন্যের পরিবর্তে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ধর্মের ভিত্তিতে একটি জাতি গঠন করেন। উঁচু-নিচু ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সমগ্র বিশ্বে মুসলিম উম্মাহ প্রতিষ্ঠিত হয়।

২. কলুষিত দাস প্রথা উচ্ছেদ ঐশীবাণীর ভিত্তিতে মহানবি (স.) ঘোষণা করেন, "জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষ সমান। মানুষের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে আল্লাহর প্রতি সর্বাধিক আনুগত্য ও তাকওয়াবান এবং মানবের সর্বাধিক কল্যাণকামী।" তিনি কলুষিত দাস প্রথার উচ্ছেদ সাধনের জন্য ঘোষণা করেন, "ক্রীতদাসরাও মানুষ, তাদেরকে আযাদ করা প্রত্যেক মানুষের কর্তব‍্য।" মহানবি (স.) নিজে ক্রীতদাসদের ক্রয় করে মুক্তি দেন এবং ক্রীতদাসদের উচ্চ মর্যাদা দানের জন্য সাহাবিদের উৎসাহিত করেন। মহানবি (স.) ক্রীতদাস যায়েদ-বিন-হারেসাকে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব দেন এবং হযরত বেলাল (রা.)-কে ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন নিয়োগ করেন।

৩. নারী জাতির উন্নতি: অবহেলিত নারী জাতিকে মহানবি (স.) স্বীয় পিতা ও স্বামীর সম্পদের অংশ দান করে উচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠা করেন। বিদায় হজে মহানবি (স.) ঘোষণা করেন, "নারীর উপর পুরুষের যতটুকু অধিকার আছে, পুরুষের উপর নারীর ঠিক ততটুকু অধিকার আছে।" সকল প্রকার অবৈধ বিবাহ প্রথা বাতিল করে বৈধ বিধবা বিবাহের প্রচলন করেন। মোহরানা প্রথার প্রবর্তন করে নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। তিনি বলেন, "আমাদের মধ্যে সে-ই শ্রেষ্ঠ যে তার স্ত্রীর নিকট শ্রেষ্ঠ।" মায়ের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য তিনি ঘোষণা করেন, "মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।" এভাবে মহানবি (স.) একটি নতুন পারিবারিক কাঠামো তৈরি করেন, যেখানে নারী যৌতুক প্রথার অভিশাপ হতে মুক্ত হয়ে সামাজিকভাবে মর্যাদার আসন লাভ করে।

৪. জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান প্রাক-ইসলামি যুগে সমাজে সুষ্ঠু বণ্টন নীতি বা জীবনের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। তিনি মানব জীবন যাপনের বিধানও ঘোষণা করেন- যা মূলত আল্লাহর নিকট হতে প্রাপ্ত ঐশীবাণী। বিদায় হজের ভাষণে তিনি বলেন, তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে গেলাম একটি আল-কুরআন, অপরটি আল হাদিস।

৫. শিশু হত্যা ও প্রতিশোধের স্পৃহা রোধ অন্ধকারের যুগে আরবরা কন্যা শিশুদের জীবন্ত কবর দিত। মানুষ হত্যা ছিল তাদের কাছে সামান্যতম ব্যাপার। মহানবি (স.) ঘোষণা করেন, "জীব হত্যা মহাপাপ।" সেই যুগে হত্যার বদলে হত্যা, দাঁতের বদলে দাঁত, চক্ষুর বদলে চক্ষু উৎপাটন প্রথাকে তিনি ঘৃণ্য বলে ঘোষণা করেন।

৬. গোত্রকলহের অবসান: প্রাক-ইসলামি যুগে গোত্রকলহ সমাজ ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছিল। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুগ যুগ ধরে তাদের মধ্যে যুদ্ধ চলত। মহানবি (স.)-এর সাম্যের বাণী ও ন্যায়বিচারের প্রেক্ষিতে গোত্রকলহের অবসান ঘটে। সমাজে ন্যায় ও সাম্যনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

৭. ইয়াতিম ও মিসকিনদের অধিকার প্রতিষ্ঠা: মহানবি (স.) দেখতে পান জাহেলিয়া যুগে ইয়াতিম ও মিসকিনদের সমাজে কোনো অধিকার ছিল না। তাই মহানবি (স.) ঘোষণা করেন, ইয়াতিমদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন ও তাদের মালামাল রক্ষা করা মুসলমানদের ধর্মীয় কর্তব্য।

৮. প্রতিবেশীর অধিকার প্রতিষ্ঠা: মহানবি (স.) নিজের পরিবারবর্গের পরই পাড়া-প্রতিবেশীর হক ও অধিকারের ঘোষণা করেন। জাহেলিয়া যুগে পাড়া-প্রতিবেশী ছিল অবহেলিত। সকল মানুষ নিজ নিজ কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকত। ফলে সমাজব্যবস্থা ছিল পঙ্গু। মহানবি (স.) বিপদে-আপদে পাড়া-প্রতিবেশীর দুঃখ-দুর্দশায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করেন। ফলে সাহাবিরা পাড়া-প্রতিবেশীর প্রতি অধিক যত্নবান হন। মহানবি (স.)-এর কার্যকলাপে সাহাবিরা ধারণা করতেন, হযরত মুহম্মদ (স.) হয়তো আল্লাহর নিকট হতে ঐশীবাণী পেয়ে পাড়া-প্রতিবেশীকে সম্পদের অংশীদার ঘোষণা করবেন। মদ, জুয়া, কুসিদ প্রথা, ব্যভিচার, ঘুষ, লুটতরাজকে তিনি ইসলাম বিরোধী কাজ হিসেবে ঘোষণা করেন। এক নারীর বহু স্বামী গ্রহণ ও বেপর্দাকে তিনি পাপাচার বলে অবৈধ ঘোষণা করেন। ফলে শতাব্দীর পুঞ্জিভূত পাপাচার ও অনাচার আরব সমাজ হতে দূরীভূত হয়।

রাজনৈতিক সংস্কার

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক মহানবি (স.)-এর রাজনৈতিক সংস্কার বিশ্ব মানবতাকে দিয়েছে মুক্তি। তাঁর সংস্কার সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো:

১. শেখতন্ত্রের বিলোপ: হযরত মুহম্মদ (স.) স্বৈরাচারী শেখতন্ত্রের পরিবর্তে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। গোত্র প্রথার বিলোপ ঘটে এবং শেখতন্ত্রের পরিবর্তে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। হিট্টি বলেন, "Thus by one stroke the most vital bond of Arub relationship, relationship, that t of tribal kinship, was replaced aced by new bond, that of faith." অর্থাৎ, "আরবজাতির একমাত্র কন্ধন গোত্রপ্রীতি- এটি একটি মাত্র আঘাতেই ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল এবং ইমান তার স্থান দখল করল।"

২. ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: আরবের গোত্র প্রথার বিলোপ ঘটিয়ে তিনি সর্বপ্রথম মদিনাতে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। সে রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান মহানবি (স.) নিজেই হন।

৩. সংবিধান প্রণয়ন: বিশৃঙ্খলাপূর্ণ আরব জাতিকে তিনি পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান 'মদিনা সনদ' প্রদান করেন। কুরআনের নির্দেশ, স্বীয় বিচার-বুদ্ধি ও মুসলিম সমাজের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা করেন। মূলত ইসলামি গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

৪. প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি: জাহেলিয়া আরবদের রাজনৈতিক কোনো ধারণা ছিল না। তাদের নিজস্ব কোনো প্রশাসনিক কাঠামো ছিল না। ছিল শুধু গোত্রতন্ত্র। মহানবি (স.) মদিনাতে একটি বলিষ্ঠ প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেন। সেখানে ছিল এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যার সর্বোচ্চ স্থানে মহানবি (স.) স্বয়ং নিজেই ছিলেন।

৫. ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা প্রদান: অন্ধকারের যুগে গোত্রতন্ত্রের প্রধান শেখ থাকায় সেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা ছিল না। তিনি সর্বপ্রথম রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন, যিনি স্বাধীনতার বিকাশ ঘটান। কারণ, একজন সাধারণ ব্যক্তি রাষ্ট্রের কার্যের সমালোচনা করার অধিকার লাভ করে। ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী ইহুদি, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায় ধর্মীয় ও বাক-স্বাধীনতা ভোগ করে।

অর্থনৈতিক সংস্কার

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ মুহম্মদ (স.)-এর অর্থনৈতিক সংস্কার সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো।

১. পঙ্গু অর্থব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবন দান: সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থার অভাবে সমগ্র আরব উপদ্বীপ ছিল অর্থনৈতিক দিক হতে পঙ্গু। কারণ সমগ্র আরব উপদ্বীপ ছিল অনুর্বর পর্বতময়। হযরত মুহম্মদ (স.) দীর্ঘ ২৩ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সুদ, ঘুষপূর্ণ অর্থব্যবস্থাকে সুদ ও দুর্নীতিমুক্ত করে তোলেন।

২. রাজস্ব ব্যবস্থার প্রবর্তন: মহানবি (স.) সুষ্ঠু অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। যথা: জাকাত, জিজিয়া, খারাজ, আল-ফে ও গনিমত ইত্যাদি। রাষ্ট্রীয় কার্য পরিচালনার পর উদ্বৃত্ত অর্থ গরিব ও এতিমদের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা করেন। মহানবি (স.)-এর প্রবর্তিত অর্থব্যবস্থা মানব জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির একমাত্র পথ।

  • জাকাত: ধনীদের দেয় দরিদ্রকর যা নিয়মানুযায়ী আদায় করে যুদ্ধে এবং শাসনকার্যে ব্যয়ের পর উদ্বৃত্ত অংশ গরিবদের মধ্যে বণ্টন করা হতো। সোনা, রুপা, উট, ভেড়া, গরু, মহিষের উপর জাকাত ধার্য করা হতো।
  • জিজিয়া: রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা কর। এ অর্থ সামরিক খাতে ব্যয় করা হতো।
  • খারাজ: অমুসলিম প্রজাদের ভূমি কর। ধনী অমুসলিম প্রজারা এ কর প্রদান করত।
  • আল-গনিমাহ: যুদ্ধলব্ধ দ্রব্যাদি। যুদ্ধে পরাজিত পক্ষের অশ্ব, উট, রসদ, অস্ত্র, যুদ্ধ বন্দিরা আল-গনিমাহ নামে পরিচিত। এগুলো সৈন্যদের মধ্যে ৫ অংশ কণ্টন হয়ে অবশিষ্ট অংশ আল-খুমস নামে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হতো।
  • আল-ফে: রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হতে আয়। এ অর্থ গরিব জনগণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ব্যয় করার ব্যবস্থা করা হয়।

৩. বায়তুলমাল প্রতিষ্ঠা: মহানবি (স.) রাষ্ট্রীয় কোষাগার প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে 'বায়তুলমাল' নামে পরিচিত হয়। রাষ্ট্রের সমগ্র আয় সেখানে জমা হতো। সেখান হতে রাষ্ট্রীয় পরিচালনার ব্যয় নির্বাহ করার পর উদ্বৃত্ত অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় করা হতো।

৪. সুষম বণ্টন নীতি: জাহেলিয়া যুগের অসম অর্থব্যবস্থাকে তিনি সুষম বণ্টন নীতির উপর স্থাপন করে ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বিভেদ দূরীভূত করেন। ধনীদের উপর জাকাত ও জিজিয়া ধার্য করে গরিবদের মধ্যে তা বণ্টন করে দেন। ফলে ধনী-দরিদ্রের বিভেদ কমতে থাকে। ধনীরা ধন পুঞ্জীভূত করতে নিরুৎসাহিত হন।

শিক্ষা সংস্কার

অজ্ঞতার যুগে মহানবি (স.) শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ঘোষণা করেন, "জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক নর-নারীর জন্য ফরজ। জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজন হলে সুদূর চীন দেশে যাও।" তিনি আরও বলেন, "পন্ডিতগণের কলমের কালি শহিদের রক্তের চেয়েও অধিক পবিত্র।" মসজিদ-ই-নববী ছিল তাঁর প্রথম শিক্ষালয়। প্রত্যেকটি মসজিদ এমনকি সাহাবিদের গৃহগুলো ছিল এক একটি শিক্ষালয়। বস্তুত মহানবি (স.)-এর শিক্ষা সংস্কারের ফলে মুসলিম জাতি অল্পদিনের মধ্যে বিশ্বের শিক্ষক হিসেবে পরিচয় লাভ করে।

সামরিক সংস্কার

ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে মহানবি (স.) বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হন। ফলে তিনি মদিনায় গিয়ে সাহাবিদের নিয়ে একটি সেনাবাহিনী গঠন করেন। কুরাইশদের আক্রমণ হতে মুসলমানদের ও ইসলামকে রক্ষার জন্য তিনি সাহাবিদের যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী করে তোলেন। তিনি ঘোষণা করেন, "ধর্মযুদ্ধে যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের শহিদের মর্যাদা দেয়া হবে এবং যারা জীবিত থাকবে তারা হবে গাজী।"

উল্লিখিত শাসন সংস্কার হতে জাতি সংগঠক ও সংস্কারক হিসেবে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মহৎ কৃতিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। আমরা তাই বলতে পারি, দ্বীন ও দুনিয়ার শাহান শাহ্ হযরত মুহম্মদ (স.) মানব জাতির কল্যাণের জন্য সমগ্র মানব সমাজের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থব্যবস্থার বুনিয়াদ তৈরি করে গেছেন। মহানবি (স.)-এর কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করে বার্নার্ড শ বলেন, "If all the world was united under one leader, Then, Muhammad would have been the best fitted man to lead the peoples of various creeds, dogmas and ideas to peace and happiness." অর্থাৎ "যদি গোটা বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম, সম্প্রদায়, আদর্শ ও মতবাদ সমগ্র মানব জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে একনায়কের শাসনাধীনে আনা হতো; তবে একমাত্র মুহম্মদ (স.)-ই সর্বাপেক্ষা সুযোগ্য নেতারূপে তাদের শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করতে পারতেন।"

হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.) - অন্যান্য প্রশ্ন

হযরত মুহম্মদ (স.)-এর বংশ পরিচয়- Parentage of Hazrat Muhammad (SM.)হযরত মুহম্মদ (স.)-এর বাল্যকাল ও মক্কা জীবনহযরত মুহম্মদ (স.) ও বিবি খাদিজা (রা.)মহানবি (স.)-এর হিজরত (৬২২ খ্রি.)মদিনা সনদ Charter of Madinaপ্রাথমিক যুদ্ধসমূহ: বদর, উহুদ ও খন্দকমদিনায় ইহুদিদের সঙ্গে মুহম্মদ (স.)-এর সম্পর্কহুদায়বিয়ার সন্ধি (৬২৮ খ্রি.) ও এর ফলাফল মক্কা বিজয় (জানুয়ারি, ৬৩০ খ্রি.) ও শান্তিনীতিবিদায় হজ ও বিদায় হজের ভাষণমহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর সংস্কারসমূহ মহানবি (স.)-এর চারিত্রিক গুণাবলি ও কৃতিত্ব মহানবি (স.) কত খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন?বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের সেনাপতি কে ছিলেন?কত খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স.) মক্কা বিজয় করেন?মহানবি (স.) কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেন?হিজরত শব্দের অর্থ কী?কত খ্রিষ্টাব্দে হুদায়বিয়ার সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়?হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাতার নাম কী?মহানবি (স.) কত খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?হিজরতের সময় মহানবি (স.)-এর সঙ্গী কে ছিলেন?মদিনার পূর্বনাম কী ছিল?উহুদের যুদ্ধে কুরাইশ নেতা কে ছিলেন?'কুরাইশ' শব্দের অর্থ কী?'মুহাম্মদ' শব্দের অর্থ কী?পবিত্র কাবাগৃহে রক্ষিত পাথরটির নাম কী?'হিলফুল ফুজুল' কে গঠন করেন?আল-আমিন শব্দের অর্থ কী?কত খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স.) নবুয়ত লাভ করেছিলেন?'আনসার' শব্দের অর্থ কী?মদিনায় হিজরতকারীরা কী নামে পরিচিত?কোন ঘটনাকে মহানবি (স.)-এর জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা বলা হয়?বিশ্বের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান কোনটি?মদিনা সনদের কতটি ধারা ছিল?পবিত্র কুরআনে খন্দকের যুদ্ধকে কী নামে উল্লেখ করা হয়েছে?মুহাম্মদ (স.) কার পরামর্শে মদিনার চারপাশে পরিখা খনন করেছিলেন?'ফাতহুম মুবিন' অর্থ কী?কোন অভিযানকে 'গাজওয়াতুল ওসরাৎ' বলে?মেরাজ বলতে কী বোঝায়?হুদায়বিয়ার সন্ধিকে 'প্রকাশ্য বিজয়' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।নাখলার খণ্ডযুদ্ধকে বদরের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।'বায়তুল মাল' কী? ব্যাখ্যা কর।হযরত মুহাম্মদ (স.) কে আল-আমিন বলা হতো কেন? ব্যাখ্যা কর।হিলফুল ফুজুল বলতে কী বোঝায়?হিজরত ও স্বদেশত্যাগের মধ্যে পার্থক্য কী?কাদেরকে আনসার ও মুহাজির বলা হয়?'ফাতহুম মুবিন' কী? ব্যাখ্যা কর।আকাবার শপথ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ