- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) পদের প্রশ্ন সমাধান [১৪.০৭.২০২৬]
- পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৬
- বাংলাদেশ
বাংলাদেশে কোন ধরনের শাসন ব্যবস্থা চালু রয়েছে?
বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থায় দেশের আসল শাসনক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার হাতে, আর রাষ্ট্রপতি থাকেন নামমাত্র বা আনুষ্ঠানিক প্রধান। সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার ওপরই প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত। মন্ত্রিসভা তাদের সব কাজের জন্য জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকে।
সংসদীয় ব্যবস্থার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সাধারণ নির্বাচনে যে দল বা জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়, সেই দলের নেতাকেই রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। মন্ত্রীরাও সাধারণত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই নেওয়া হয়। অর্থাৎ যাঁরা আইন তৈরি করেন, তাঁদের একটি অংশই সরকার পরিচালনা করেন। সংসদ চাইলে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহির মুখে ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে অবশ্য এই ব্যবস্থা সবসময় একইভাবে চলেনি। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে সংসদীয় ব্যবস্থাই ছিল। ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতি চালু হয়। পরে ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবার সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে আসা হয়, যা এখনো বহাল আছে।
যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা: এখানে ক্ষমতা কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ভাগ করা থাকে, যেমন যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতে। বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক (ইউনিটারি) রাষ্ট্র, তাই এটি সঠিক নয়।
প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা: স্বাধীনতার আগে পূর্ব পাকিস্তান একটি প্রদেশ ছিল। এখন বাংলাদেশ প্রশাসনিক বিভাগে বিভক্ত হলেও প্রদেশের আলাদা সরকার নেই।
একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা: এখানে সব ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। সংবিধানে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র বলা হয়েছে, তাই এটিও ঠিক নয়।
সুতরাং সঠিক উত্তর সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা।

