- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) পদের প্রশ্ন সমাধান [১৪.০৭.২০২৬]
- পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৬
- বাংলাদেশ
কোন নদীটি বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে বিভক্ত করেছে?
বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মাঝখানে যে নদীটি প্রাকৃতিক সীমারেখা তৈরি করেছে, সেটি হলো নাফ নদী। দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা ঘেঁষে এই নদী বয়ে গেছে। এপারে বাংলাদেশের টেকনাফ, আর ওপারে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহর। দুই দেশের মানুষ দাঁড়িয়ে একে অপরের তীর দেখতে পায়, এতটাই কাছাকাছি।
নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ কিলোমিটার। এটি আরাকান পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। মোহনার দিকে এসে নদীটি বেশ চওড়া হয়ে গেছে। এখানকার জোয়ার-ভাটার প্রভাবও বেশ চোখে পড়ার মতো।
কর্ণফুলী: এটি চট্টগ্রামের প্রধান নদী। উৎপত্তি ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড়ে, আর বাংলাদেশে এসে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম শহরের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর এই নদীর তীরেই অবস্থিত। কাপ্তাই বাঁধও এর ওপরেই। তবে এটি কোনো আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারণ করে না।
সাঙ্গু: এই নদীর উৎস মায়ানমারের আরাকান পাহাড়ে, সেটা ঠিক। কিন্তু এটি মূলত বান্দরবান জেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রামে গিয়ে সাগরে মিশেছে। অর্থাৎ নদীটি মায়ানমার থেকে শুরু হলেও দুই দেশের সীমানা হিসেবে কাজ করে না। অনেকেই এই জায়গায় একটু গুলিয়ে ফেলেন।
তিস্তা: এটি উত্তরবঙ্গের নদী। হিমালয়ের সিকিম অঞ্চল থেকে এসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগে ঢুকেছে এবং শেষে ব্রহ্মপুত্র (যমুনা) নদীতে মিশেছে। এর সঙ্গে মায়ানমারের কোনো সম্পর্কই নেই। তিস্তা নিয়ে আলোচনা হয় মূলত ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টনের প্রসঙ্গে।
মনে রাখার কৌশল: "নাফ" মানেই টেকনাফ, আর টেকনাফ মানেই মায়ানমার সীমান্ত। এই সংযোগটা মাথায় রাখলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশ্নে আর ভুল হবে না।

