• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • দুর্যোগের সাথে বসবাস
দুর্যোগের সাথে বসবাস

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

এসিড বৃষ্টি (Acid Rain)

সাধারণত বৃষ্টিপাত এমনিতেই খানিকটা এসিডিক। তবে যখন বৃষ্টিতে অনেক বেশি পরিমাণ এসিড বিদ্যমান থাকে, তখন তাকে এসিড বৃষ্টি বলে। তোমরা কি জান, এসিড বৃষ্টিতে কী কী এসিড থাকে? এসিড বৃষ্টিতে সালফিউরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিড বেশি থাকে এবং অল্প পরিমাণে হাইড্রোক্লোরিক এসিড থাকে। এসিড বৃষ্টি পরিবেশে মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। এসিড বৃষ্টিতে এসিডের প্রতি সংবেদনশীল অনেক গাছ মরে যায়। এছাড়া কিছু অতি প্রয়োজনীয় উপাদান (যেমন- Ca, Mg) এসিড বৃষ্টিতে দ্রবীভূত হয়ে মাটি থেকে সরে যায়, যা ফসল উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এসিড বৃষ্টি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পানিসম্পদ এবং জলজ প্রাণীগুলোর। তোমরা জান যে, পানিতে এসিড থাকলে pH ৭-এর কম হয়। pH-এর মান ৫-এর কম হলে বেশির ভাগ মাছের ডিম নষ্ট হয়ে যায়। তখন মাছ উৎপাদন ব্যাহত হয়। মাছের রেণু বা পোনা এসিডের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এসিডের মাত্রা বেশি হলে পুরো জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। মানুষের শরীরের জন্যও এসিড বৃষ্টি ক্ষতিকর। এসিড বৃষ্টি মানবদেহে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের সমস্যা, অ্যাজমা ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করতে পারে।

এসিড বৃষ্টি কেন হয়?

এসিড বৃষ্টির জন্য প্রাকৃতিক ও মনুষ্য-সৃষ্ট দুই কারণই জড়িত। প্রাকৃতিক কারণগুলোর মাঝে রয়েছে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, দাবানল, বজ্রপাত, গাছপালার পচন ইত্যাদি। এই প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস বের হয়, যা পরে বাতাসের অক্সিজেন আর বৃষ্টির পানির সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড এবং সালফিউরিক এসিড তৈরি করে। একইভাবে বিভিন্ন শিল্পকারখানা বিশেষ করে কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ইটের ভাটা (চিত্র ৯.০৮), যানবাহন, গৃহস্থালির চুলা ইত্যাদি উৎস থেকেও সালফার ডাই-অক্সাইড বের হয়, যা এসিডে পরিণত হয় এবং বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি তৈরি করে।

এখন দেখা যাক এসিড বৃষ্টি হলে আমাদের কী কী করণীয় আছে? যেহেতু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লা থেকে নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়, সেহেতু ব্যবহারের আগে কয়লা পরিশোধন করে সালফার ও নাইট্রোজেন মুক্ত করে নিতে হবে। পরিবেশ সচেতন অনেক দেশেই ইতোমধ্যেই এই ব্যবস্থা চালু আছে। পরিশোধন ব্যবস্থা না থাকলে কয়লার পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এসিড বৃষ্টি হলে মাটির pH কমে যায় এবং সেক্ষেত্রে লাইমস্টোন বা চুনাপাথর ব্যবহার করে এসিডিটি কমানো যায়।

এছাড়া শিল্প-কারখানা এবং যানবাহন থেকে নির্গত ধোয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। শিল্প-কারখানায় দূষণরোধক পদ্ধতি অবশ্যই বাধ্যতামূলক করে দিতে হবে। সৌভাগ্যক্রমে আমাদের দেশে এসিড বৃষ্টি খুব একটা হয় না। যেসব দেশে শিল্প-কারখানা অনেক বেশি, সেখানে এর আশঙ্কাও অনেক বেশি। পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশ, আমেরিকা, কানাডা এবং চীনের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে ও তাইওয়ানে ঘন ঘন এসিড বৃষ্টি হয়।

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

কোন দুর্যোগটি শুধু সাগরে সংঘটিত হয়?

কালবৈশাখি

সুনামি

বন্যা

ভূমিকম্প

এসিড বৃষ্টি হলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোনটি?

গাছপালা

বিল্ডিং

কাপড় চোপড়

পানি সম্পদ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ কী?

বন্যা

খরা

বরফ গলা

উষ্ণতা বৃদ্ধি

খরাপ্রবণ জেলা কোনটি?

রাজশাহী

চট্টগ্রাম

সিলেট

ময়মনসিংহ

Kyklos শব্দের অর্থ-

এলনিনো

বন্দরের ঢেউ

সাপের কুণ্ডলী

ভূমিকম্প

গ্রিন হাউজ গ্যাস বৃদ্ধির কারণ -

যানবাহন

শিল্প কারখানা

বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র

উপরে উল্লিখিত সবগুলো

সুনামি কোন ভাষার শব্দ?

ফারসি

জাপানি

ইংরেজি

চাইনিজ

নিচের কোনটিতে শ্বাসমূল পাওয়া যায়?

সুন্দরবন

শালবন

সেগুন বন

পাহাড়ি বন

পৃথিবীর তাপমাত্রা ১০০ বছরে কী পরিমাণ বেড়েছে?

২° সেলসিয়াস

১° সেলসিয়াস

০.৭৪° সেলসিয়াস

০.২৫° সেলসিয়াস

এসিড বৃষ্টিতে কোন কোন এসিড বেশি থাকে?

ফসফরিক এসিড ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড

এসিটিক এসিড ও কার্বোলিক এসিড

সালফিউরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিড

হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও কার্বোলিক এসিড

জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ কোনটি?

বন্যা

গাছপালা ধ্বংস

গ্রিন হাউজ গ্যাস

বৈশ্বিক উষ্ণতা

সাইক্লোন সৃষ্টি হয়-

উপকূলে

যে কোনো স্থানে

পাহাড়ে

সাগরে

মানুষের কোন রোগটি এসিড বৃষ্টির কারণে হতে পারে?

ম্যানিনজাইটিস

জন্ডিস

ডায়াবেটিস

অ্যাজমা