- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও স্বাধীন বাংলাদেশে অভ্যুদয়
১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ তাতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক শাসকচক্র তাদেরকে ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা চক্রান্ত শুরু করে। এ অবস্থায় ১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করেন। কিন্তু পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খানের ষড়যন্ত্রে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হয়। কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই অধিবেশন স্থগিত করায় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে অসহযোগ আন্দোলন। এর মধ্যেই ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে ছাত্রসমাজ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানের সমাবেশে ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। সকল সরকারি কার্যক্রম অচল, হয়ে পড়ে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে বহুলোক, তোহত হয়। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়াদী উদ্যান) এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এ ভাষণে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-শাসন, ব্যনার ইতিহাস, নির্বাচনে জয়ের পর বাঙালির সাথে প্রতারণা ও বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের পটভূমি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল- 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' ৭ই মার্চের এ ভাষণ থেকেই বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা ও মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা পায় এবং বাঙালি জাতির একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠে স্বাধীনতা অর্জন। ইউনেস্কো ২০১৭ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে 'ওয়ার্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ' বা 'বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

