- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্ব জনমত গঠনে বিভিন্ন দেশের ভূমিকা লেখো।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্ব জনমত গঠনে বিভিন্ন দেশের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এ সময় প্রতিবেশি রাষ্ট্র হিসেবে ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সুস্পষ্ট সমর্থন জানায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা বাংলাদেশ জুড়ে নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। ভারত মুক্তিযুদ্ধে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়গুলো বহির্বিশ্বে প্রচার করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালায়। এছাড়া কলকাতায় অবস্থান করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নও (বর্তমান রাশিয়া) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাকবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা ও নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান। সোভিয়েত পত্র-পত্রিকা, প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে সহায়তা করে। দেশটি জাতিসংঘে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো বিল নিরাপত্তা পরিষদে পাস হতে দেয়নি। এছাড়া ভারতের সক্রিয় সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক ফোরামে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণা চালায়। এভাবে দেশটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে কাজ করেছিল। এর পাশাপাশি গ্রেট ব্রিটেন তথা যুক্তরাজ্যের ভূমিকাও ছিল অপরিসীম। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে ব্রিটেনের প্রচার মাধ্যম বিশেষ করে বিবিসি এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে। এছাড়াও ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণাগীদের করুণ অবস্থা, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি সম্পর্কে ব্রিটিশ প্রচার মাধ্যম বিশ্ব জনমতকে জাগ্রত করে তোলে। পাশ্চাত্যের আরো কিছু দেশের সংবাদকর্মীরাও এ কাজে যুক্ত ছিলেন। তবে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন ছিল পুরো বিশ্বের কাছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র। তাছাড়া ব্রিটিশ নাগরিক বিখ্যাত: সংগীত শিল্পী জর্জ হ্যারিসন, পণ্ডিত রবি শংকর ও আলী আকবর খান মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি ও দানসহায়তা কার্যক্রম। পরিচালনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' আয়োজন করেন। ব্রিটেন ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও কানাডার প্রচারমাধ্যমগুলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

