• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • উমাইয়া খিলাফত
উমাইয়া খিলাফত

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

খলিফা মুয়াবিয়া (রা.) (৬৬১-৬৮০ খ্রি.)

৬৬১ খ্রিষ্টাব্দে ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলী (রা.) শহিদ হওয়ার পর হযরত মুয়াবিয়া (রা.) খিলাফত গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি তাঁর পুত্র ইয়াজিদকে খিলাফতের উত্তরাধিকার মনোনিত করলে ইসলামি গণতন্ত্রের পরিসমাপ্তি হয়ে উমাইয়া রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর খিলাফত লাভ ইসলামের ইতিহাস তথা জগতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ঐতিহাসিক মুইর বলেন, "The accession of Muawiyah to the throne at Damuscus heralded the end of the Khilaphat and the begining of kingship." অর্থাৎ "মুয়াবিয়া (রা.)-এর দামেস্কের সিংহাসনে আরোহণ খিলাফতের সমাপ্তি এবং রাজতন্ত্রের সূচনা করে।" তাঁর রাজত্বকালে সাম্রাজ্য সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হয় এবং বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে।

জন্ম ও সিংহাসনারোহণ

উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা মুয়াবিয়া (রা.) ৬০৬ খ্রিষ্টাব্দে মকায় কুরাইশ বংশের উমাইয়া শাখায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবু সুফিয়ান এবং মাতার নাম হিন্দা। আবু সুফিয়ান ছিলেন ইসলামের ঘোর শত্রু। প্রথম জীবনে মুয়াবিয়া পিতার মতোই ইসলামের ঘোর বিরোধী ছিলেন। মক্কা বিজয়ের সময় পিতা আবু সুফিয়ানের সঙ্গে মুয়াবিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োগ করেন। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা.) তাঁকে সিরিয়ার প্রাদেশিক শাসনকর্তা নিয়োগ করেন। সিরিয়ার শাসনকার্যে ও রোমানদের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনায় ও কূটনৈতিক কার্যকলাপে মুয়াবিয়া বিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করেন। ঐতিহাসিক ভনক্রেমার বলেন, "The political attitude of Muawiyah towards the immediate successors of Heracleus was indeed worthy of a consummate statesman." হযরত উসমানের সময়ও তিনি উক্ত পদে বহাল ছিলেন। হযরত আলী (রা.)-এর সময়ে তাঁকে বরখাস্ত করা হলে হযরত আলী (রা.)-এর সঙ্গে তার রাজনৈতিক মতোবিরোধ দেখা দেয়; যা পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। উক্ত গৃহযুদ্ধে মুয়াবিয়া জয়লাভ করেন। অতঃপর ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দে খারেজিদের হাতে হযরত আলী (রা.) শহিদ হলে হাসান সিংহাসন লাভ করেন। হাসানকে পরাজিত করে মুয়াবিয়া সিংহাসন দখল করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ উমাইয়া বংশ নামে পরিচিত। 

মুয়াবিয়ার প্রাথমিক কার্যাবলি

অভিজ্ঞ শাস মুয়াবিয়া অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করলেও তিনি নিঃসন্দেহে অভিজ্ঞ শাসক ও সুনিপুণ কূটনীতিবিদ ছিলেন। প্রথমে তিনি মুসলিম জাহানের রাজধানী কুফা হতে দামেস্কে স্থানান্তরিত করেন। মুয়াবিয়ার শাসন আমলে খারেজিগণ সংঘবদ্ধ হয়ে কালদিয়া অধিকার করে ইরাকে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। মুয়াবিয়া তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করেন এবং কঠোর হস্তে দমন করেন। অতঃপর তিনি হিমারীয় ও মুদারীয়দের দমন করেন। মুয়াবিয়া বলতেন, "যেখানে আমার চাবুকই যথেষ্ট সেখানে আমি তরবারি ব্যবহার করি না এবং যেখানে কথাতেই কর্যোদ্ধার হবে সেখানে চাবুক ব্যবহার করি না।" এ সম্পর্কে পি. কে. হিট্টি বলেন. "Muawiyah envolved order out of chaos and founded an orderly Moslem society." অর্থাৎ "বিশৃঙ্খলার ভিতর হতে মুয়াবিয়া শৃঙ্খলা আনয়ন করেন এবং একটি সংহত মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।"

মুয়াবিয়ার সামরিক অভিযান

অভ্যন্তরীণ গোলযোগ দমন করে মুয়াবিয়া রাজ্য জয়ে মনোনিবেশ করেন। বিজেতা হিসেবে মুয়াবিয়ার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। তাঁর সৈন্যবাহিনী প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করে। অধ্যাপক হিট্টি বলেন, "মুয়াবিয়ার শাসনকাল শুধু সংহতি বিধানের জন্যই প্রসিদ্ধি অর্জন করেনি, খিলাফতের কলেবরও বৃদ্ধি করেছিল।"

উত্তর আফ্রিকা বিজয়: মুয়াবিয়া দামেস্কের সিংহাসনে সুদৃঢ়রূপে অধিষ্ঠিত হয়ে আফ্রিকা জয়ে মনোনিবেশ করেন। ইফ্রিকিয়া বা আফ্রিকা শব্দে মিশরের অপর দিকস্থ উত্তর আফ্রিকাকেই বুঝাত। (১) মাগরিব আল-আকসা (সুদূর পাশ্চাত্য) (২) মাগরিব আল-আদনা (নিকট পাশ্চাত্য) ও (৩) খাস-ইফ্রিকিয়া এ তিন ভাগে আফ্রিকা বিভক্ত ছিল। হযরত উমর (রা.)-এর সময় মুসলিম বাহিনী মিশর জয় করে আফ্রিকাতে প্রবেশের চিন্তা করে। মিশরের গভর্নর আমরের পরামর্শক্রমে উকবা-বিন-নাফিকে ১০,০০০ সৈন্যসহ ইফ্রিকিয়া বিজয়ের জন্য প্রেরণ করেন। উকবা সকল বাধা অতিক্রম করে সমগ্র আফ্রিকা দখল করেন। ৬৭০ খ্রিষ্টাব্দে উকবা তিউনিসিয়ার দক্ষিণে কায়রোয়া নামে একটি প্রসিদ্ধ শহর প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তা আফ্রিকার রাজধানীতে রূপান্তরিত হয়। আর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হলে আটলান্টিক মহাসাগর তাঁর গতিরোধ করে। ফলে উকবা আক্ষেপ করে বলেন, "হে আল্লাহ আজ এ বিশাল সমুদ্র যদি আমার অন্তরায় না হতো তবে আমি আরও দেশ জয় করে ইসলামকে পৌঁছে দিতে পারতাম।" উত্তর আফ্রিকায় মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর উকবা সেখানকার শাসনকর্তা নিয়োজিত হন এবং শাসনকার্য সুসংহত করেন। পরবর্তীতে বার্বারদের আক্রমণে উকবা শহিদ হন এবং আফ্রিকায় বার্বার আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে।

পূর্বাঞ্চল অভিযান: যে সময়ে উকবা পশ্চিমাঞ্চলে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন ঠিক সেই সময়ে মুহাল্লিব ইবনে আবু সুফরা নামক সেনাপতি কর্তৃক সিন্ধু প্রদেশ এবং সিন্ধু নদের অববাহিকা বিজয় হয়। ৬৬২ খ্রিষ্টাব্দে হিরাতের বিদ্রোহ দমন করেন। এর দুবছর পর তিনি কাবুল, গজনী, বলখ, কান্দাহার প্রভৃতি অঞ্চলে প্রভুত্ব কায়েম করেন। ৬৭৪ খ্রিষ্টাব্দে বুখারা এবং ৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে সমরখন্দ ও তিরমিজ অধিকৃত হয়।

কনস্টান্টিনোপলের বিরুদ্ধে নৌ অভিযান: ৬৬২ খ্রিষ্টাব্দে মুয়াবিয়া আর্মেনিয়ার রোমানদের সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করে আর্মেনিয়া দখল করেন। মুয়াবিয়া ৫০০ জাহাজের একটি নৌবহরের সাহায্যে সাইপ্রাস, রোডস ও এশিয়া মাইনরের উপকূলবর্তী অন্যান্য গ্রিক দ্বীপগুলো জয় করে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। ঐতিহাসিক পি.কে হিটি বলেন, "এরূপ মুয়াবিয়া কেবল নতুন এক সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাই ছিলেন না, উমরের পরে খিলাফতের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন।" ঐতিহাসিক গীবন তাঁকে, "আরব আলেকজান্ডার" উপাধিতে ভূষিত করেন।
মুয়াবিয়া (রা.)-র ইন্তেকাল: মুয়াবিয়া (রা) ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে (শাবান ৬১ হিজরি) প্রায় ৭৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর সিরিয়ার প্রাদেশিক গভর্নরের দায়িত্ব পালনের পর দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর সারা মুসলিম জাহানের শাসনকার্য পরিচালনা করেন।

মুয়াবিয়ার শাসনব্যবস্থা

মুয়াবিয়া একজন সুদক্ষ ও প্রতিভাবান শাসক ছিলেন। তিনি উদার ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন দ্বারা সুষ্ঠু বৈদেশিক নীতি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। ফলে সাম্রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজিত ছিল। ঐতিহাসিক ভনক্রেমার বলেন, "সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মুয়াবিয়া ছিলেন উদার হৃদয়ের শাসক।" ঐতিহাসিক হিট্টি বলেন, "মুয়াবিয়া গতানুগতিক বহু সরকারি কার্যাবলি বিলুপ্ত করেন এবং বাইজান্টাইনদের পূর্ব প্রবর্তিত শাসনকাঠামোর উপর একটি স্থায়ী ও সুসংহত রাষ্ট্র গড়ে তোলেন। এর উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন প্রদেশে যোগ্য শাসনকর্তা নিয়োগ করেন।

গণতন্ত্রের পরিবর্তে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা: মুয়াবিয়া সাম্রাজ্যের শাসন ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করার জন্য খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগের কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক গণতান্ত্রিক নীতিগুলোর পরিবর্তন করে সাসানীয় ও রোমান পদ্ধতি দ্বারা প্রভাবিত রাজতন্ত্রের কাঠামো তৈরি করেন। তিনি মজলিস-উস-সূরা বাতিল করেন। উপদেষ্টার পরিবর্তে সরকারি কর্মচারী দ্বারা শাসনকার্য সম্পাদন করার ব্যবস্থা করেন। নির্বাচন প্রথা তুলে দিয়ে মনোনয়ন প্রথা চালু করেন।

সচিবালয় প্রতিষ্ঠা: শাসনকার্যের সুবিধার জন্য মুয়াবিয়া কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক রাজধানীগুলোতে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেন। কেন্দ্রীয়ভাবে আরবি ভাষায় সরকারি কার্য সম্পাদন করার ব্যবস্থা করেন। তবে প্রদেশগুলোতে গ্রিক, আরবি ও ফারসি ভাষা ব্যবহার করা হতো।

ডাক বিভাগের পুনর্গঠন মুসলিম শাসকদের মধ্যে মুয়াবিয়াই সর্বপ্রথম উন্নত ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করেন। দেওয়ান-উল-বারিদ ছিল ডাক বিভাগ। এ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন সাইব-উল-বারিদ। ঘোড়া ও উটের সাহায্যে দ্রুত সরকারি ও সাধারণ খবরাখবর আদান-প্রদানের জন্য ১২ মাইল অন্তর একটি করে ডাকঘর প্রতিষ্ঠা করেন। এ বিভাগ ডাক সম্বন্ধীয় কার্যাদি ছাড়াও রাষ্ট্রীয় গুপ্তচর হিসেবে কাজ করত।

রেজিস্ট্রি বিভাগ: রেজিস্ট্রি দফতর প্রবর্তন মুয়াবিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। এ বিভাগের নাম ছিল দেওয়ান-উল-খাতেম। প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন সাহিব-উল-খাতম। এ বিভাগ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক কার্যাদি, নির্দেশাবলি খলিফার সিলমোহর সংরক্ষণ করত। খলিফার নির্দেশাবলি সিলমোহর করে রাষ্ট্রে বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর দায়িত্ব ছিল এ বিভাগের। ফলে জালিয়াতি বন্ধ
হয়।

রাজস্ব বিভাগের সংষ্কার মুয়াবিয়া শাসন বিভাগ হতে রাজস্ব বিভাগকে পৃথক করেন। দেওয়ান-উল-খারাজ নামক এ বিভাগের প্রধানকে সাহিবুল খারাজ বলা হতো। তিনি রাষ্ট্রের সমস্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখতেন। সুষ্ঠু রাজস্ব আদায়ের জন্য প্রাদেশিক রাজস্ব ব্যবস্থাকে প্রাদেশিক গভর্নরের হস্তক্ষেপ মুক্ত করেন। সাহিবুল খারাজ তার কার্যাদির জন্য খলিফার নিকট দায়ী ছিলেন। ফলে তাঁর আমলে রাজস্ব ব্যবস্থার চরম উন্নতি হয়।

নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠা: খলিফা উসমানের আমলে সিরিয়ার গভর্নর থাকাকালীন মুয়াবিয়া সর্বপ্রথম মুসলিম নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন। খলিফা হয়েই নৌবাহিনীর উন্নতির জন্য ভূমধ্যসাগরে তিনি একটি শক্তিশালী নৌ-ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেন। এ বাহিনীর সহায়তায় ভূমধ্যসাগরের দ্বীপগুলোর উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন।

শিল্প ও সাহিত্যে পৃষ্ঠপোষকতা: মুয়াবিয়া যেমন ছিলেন কঠোর তেমনি আবার অত্যন্ত উদার, দয়ালু ও সুবিবেচক ছিলেন। খ্রিষ্টান চিকিৎসক ইবনে আসালকে (Ihn-Uthal) আমন্ত্রণ জানান এবং তাঁর দ্বারা চিকিৎসাশাস্ত্রের লিখিত কয়েকটি বই আরবি ভাষায় অনুবাদ করেন। আল-আখতাল (AI-Akhtal) নামক আর একজন খ্রিষ্টান উমাইয়া বংশের সভাকবি ছিলেন। তিনি মসজিদ নির্মাণ ও মসজিদে মাকসূরা নির্মাণ করেন। তাঁর সময় দামেস্কে নতুন নতুন অট্টালিকা ও ইমারত তৈরি হয়। তাই ঐতিহাসিকগণ তাকে আরবদের মধ্যে সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ বাদশাহ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ইয়াজিদকে মনোনয়ন দান রাজনীতিবিদ হিসেবে মুয়াবিয়া তাঁর বিশ বছরের রাজত্বকালে অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর রাজনীতির লক্ষ্য ছিল একটি বিশাল উমাইয়া সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা যার সর্বময় কর্তৃত্ব করবে উমাইয়া বংশের লোকেরা। তাই তিনি বসরার শাসনকর্তা মুগিরার পরামর্শক্রমে ৬৭৯ খ্রিষ্টাব্দে অযোগ্য পুত্র ইয়াজিদকে পরবর্তী উত্তরাধিকারী ঘোষণা করে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে রাজতন্ত্রের সূচনা করেন।

পর্যালোচনা: শাসক হিসেবে মুয়াবিয়া যোগ্যতার প্রমাণ দিলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাঁর কার্যাবলি সমালোচনার যোগ্য। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ইয়াজিদকে মনোনয়ন দান, ইসলামি গণতন্ত্রের পরিবর্তে রাজতন্ত্রের সূচনা, মজলিস-উস-সূরার গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া এবং উমাইয়া ও হাশেমী ফন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করা ইত্যাদি।

উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মুয়াবিয়া ইসলামের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল আসনে প্রতিষ্ঠিত। তাঁর বিশ বছরের রাজত্বকাল এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। তাঁর রাজত্বকালে দেশে শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং বিদেশে সফলতা আনয়ন করেন। মুয়াবিয়া তাঁর সমসাময়িক রোমান সম্রাট দ্বিতীয় কনস্টাইন্স এবং গোনেটাস অপেক্ষা নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন। তাই সর্বদিক বিচার করে ঐতিহাসিক হিট্রি বলেন, "He was not only the first but also one of the best of Arab kings." অর্থাৎ "তিনি শুধু প্রথম রাজাই ছিলেন না, উপরন্তু তিনি ছিলেন বিখ্যাত আরব শাসকদের মধ্যে অন্যতম।"

মানুষ ও শাসক হিসেবে মুয়াবিয়া উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন। মুয়াবিয়া ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী, সাহসী ও ধুরুন্ধর কূটনীতিবিদ। আমীর আলী বলেন, "উমাইয়াদের সিংহাসন আরোহণে কেবল শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন হয়নি, এটি পূর্ব নীতিগুলো পরিবর্তন করে এমন কতকগুলো অনুশাসনের প্রচলন করে যা সাম্রাজ্যের ভাগ্য এবং রাষ্ট্রের উন্নতিতে প্রভৃত প্রভাব বিস্তার করে।

মুয়াবিয়ার চরিত্র

ঐতিহাসিকদের মতামত মানুষ হিসেবে মুয়াবিয়াকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিভিন্নভাবে চিত্রিত করেছেন। আমীর আলীর মতে, "মুয়াবিয়া ছিলেন ধূর্ত, ধর্মমত বিবর্জিত, তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন, কৃপণ অথচ প্রয়োজনবোধে স্বাভাবিক উদার এবং যাবতীয় ধর্মীয় কার্যে বাহ্যিকভাবে নিষ্ঠাবান।" তিনি খলিফা আলীকে হযরত উসমান (রা.)-এর হত্যার জন্য দায়ী করে জনগণকে আলী (রা.)-এর বিরুদ্ধে উত্তেজিত করেন। যেখানে শৌর্য-বীর্যে ফল হতো না, সেখানে তিনি ধূর্ততা ও চতুরতার আশ্রয় নিতেন। ঐতিহাসিক ওসবর্ণ বলেন, "প্রবল প্রতিদ্বন্দীকে অপসারণের জন্য হত্যা ছিল চিরাচরিত পন্থা।"

চারিত্রিক দোষাবলি: মানুষ হিসেবে মুয়াবিয়া ছিলেন অত্যন্ত সুবিধাবাদী। মুয়াবিয়া হযরত মুহম্মদ (স.)-এর দৌহিত্রকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছিলেন। হযরত আলী (রা.)-এর সহকারী মালিক আল-আস্তারকেও অনুরূপভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। স্বীয় পুত্র ইয়াজিদের উত্তরাধিকার নিরাপদ করার জন্য তিনি ইমাম হোসাইনের সাথে পদ ও ওয়াদা ভঙ্গ করতে কুণ্ঠাবোধ করেন নি।

পরধর্মে সহিষ্ণুতা: ঐতিহাসিক ভনক্রেমারের মতে, মুয়াবিয়া ছিলেন উদার হৃদয়ের শাসক। তিনি অমুসলমানদেরকে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে গুরুত্বপূর্ণ রাজকার্যে নিযুক্ত করতেন। তিনি ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত খ্রিষ্টানদের এডেসা দুর্গের পুনঃনির্মাণ করেন।

শাসক হিসেবে মুয়াবিয়ার কৃতিত্ব

শাসক হিসেবে খলিফা মুয়াবিয়ার কৃতিত্ব নিম্নে আলোচনা করা হলো:

সংহতি প্রতিষ্ঠাতা: হযরত ওসমান (রা.) শহিদ হওয়ার পর মুসলিম জাহানের ঐক্য, সংহতি ও শান্তি বিনষ্ট হয়। সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা রক্ষার্থে মুয়াবিয়া কঠোরতার আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যে সাম্রাজ্যের ঐক্য সংহতি বিধান করেন।

রাজধানী স্থানান্তর: মুয়াবিয়া একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শাসক ছিলেন। খিলাফতের শুরুতেই প্রশাসনিক সুবিধার জন্য মুয়াবিয়া মুসলিম সাম্রাজ্যের রাজধানী কুফা হতে দামেস্কে স্থানান্তরিত করেন।'

শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ়করণ: মুয়াবিয়া একজন সুদক্ষ ও প্রতিভাবান শাসক ছিলেন। তিনি শাসনব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস করে সাম্রাজ্যের শক্তি বৃদ্ধি করেন। তিনি শুধু সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি সাধনই করেননি, বিজিত রাজ্যে সংহতি, ঐক্য ও শান্তি বিধান করে সাম্রাজ্যের ভিত্তিমূল সুদৃঢ় করেন। ঐতিহাসিক হিটি বলেন, "তিনি গতানুগতিক বহু সরকারি পদ্ধতির বিলোপসাধন করেন এবং রোমানদের আদি শাসন কাঠামোর উপর একটি স্থায়ী এবং সুসংহত রাষ্ট্র গড়ে তোলেন।"

শান্তি-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার: মুয়াবিয়া খারেজি বিদ্রোহ, মুদারীয়-হিমারীয় সংঘর্ষ ও অন্যান্য বিদ্রোহগুলো কঠোর হস্তে দমন করেন। আমীর আলী বলেন, "ধূর্ত ও দক্ষ শাসক মুয়াবিয়া মুদারীয় ও হিমারীয় এ দু'গোত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করতে সক্ষম হন।" বহিঃশত্রুর হামলা হতে তিনি দেশকে রক্ষা করেন। ঐতিহাসিক হিটি বলেন, "বিশৃঙ্খলার ভিতর হতে মুয়াবিয়া শৃঙ্খলা আনয়ন করেন এবং শান্তিপূর্ণ মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।"

উদার ও ন্যায়বান শাসক শাসক হিসেবে মুয়াবিয়া ছিলেন উদার ও ন্যায়নিষ্ঠ। তাঁর সুষ্ঠু বৈদেশিক নীতি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শাসনব্যবস্থার জন্য সুবিশাল সাম্রাজ্যের সর্বত্র শান্তি ও শৃঙ্খলা বিরাজিত ছিল। ঐতিহাসিক ভনক্রেমার বলেন, "সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মুয়াবিয়া ছিলেন উদার হৃদয়ের শাসক।"

সচিবালয় প্রতিষ্ঠা: কেন্দ্রীয় শাসন প্রবর্তনের জন্য মুয়াবিয়া দামেস্কে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য মুয়াবিয়া রাজধানীতে একটি পরামর্শ সভা গঠন করেন। প্রদেশসমূহ হতে প্রতিনিধিগণ এই পরামর্শ সভায় যোগদান করে খলিফাকে বিভিন্ন বিষয় অবহিত করতেন। ঐতিহাসিক বার্নাড লুইস বলেন, "তাঁর গোত্রের (উমাইয়া) প্রচলিত শাসন পদ্ধতির ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ ছিল।"

রেজিস্ট্রি বিভাগ: রেজিস্ট্রি বিভাগ স্থাপন মুয়াবিয়ার রাজত্বকালের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মুয়াবিয়া সর্বপ্রথম খলিফার কাগজ-পত্রে খবরাদি মোহর অঙ্কিত করার জন্য রেজিস্ট্রি বিভাগ স্থাপন করেন। রেজিস্ট্রি বিভাগের নাম ছিল 'দিওয়ান-উল-খাতিম।'

ডাক বিভাগ ও গুপ্তচর প্রথা প্রবর্তন: ইসলামের ইতিহাসে মুয়াবিয়াই সর্বপ্রথম ডাক বিভাগের প্রবর্তন করেন। উট ও ঘোড়ার সাহায্যে তিনি সরকারি ও বেসরকারি চিঠিপত্র আদান-প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ডাক বিভাগকে 'দিওয়ান-উল-বারিদ' এবং এর প্রধান কর্মকর্তাকে 'সাহিব-উল-বারিদ' বলা হতো। গুপ্তচরদের মাধ্যমে মুয়াবিয়া রাজ্যের বিভিন্ন স্থানের খবরদারি গোপনে অকাত হতেন।

রাজস্ব বিভাগের সংস্কার: মুয়াবিয়া ফৌজদারি বিভাগকে অর্থ বিভাগ হতে পৃথক করেন এবং রাজস্ব আদায়ের জন্য 'সাহেবুল খারাজ' নামক কর্মচারী নিযুক্ত করেন। বর্তমানে আয়কর আদায়ের অনুরূপ তিনি নির্দিষ্ট বাৎসরিক আয়ের ভিত্তিতে যাকাত ও অন্যান্য কর আদায় করতেন।

সুদক্ষ রাজনীতিবিদ: মুয়াবিয়া একজন শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ছিলেন। তাঁর অনুসৃত রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য ছিল বংশীয় শাসন কায়েম করা। মুয়াবিয়া 'কায়েসী' ও 'কালবী' আরবদের মধ্যে ভারসাম্য স্থাপন করেন। ইসলামের ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম কূটনীতির প্রয়োগ করেন। ঐতিহাসিক হিট্রির মতে, "অপরাপর খলিফাদের চাইতে মুয়াবিয়ার মধ্যে সূক্ষ্ম রাজনীতিবোধ বর্তমান ছিল।"

দক্ষ সংগঠনকারী: মুয়াবিয়ার সাংগঠনিক প্রতিভা ছিল অতুলনীয়। সুদক্ষ সাম্রাজ্য সংগঠনকারী হিসেবে মুয়াবিয়া অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দেন। সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁকে আরবদের মধ্যে শুধু প্রথমই নয়, অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৃপতি বলে অভিহিত করা হয়।

শ্রেষ্ঠ বিজেতা ও সমর নেতা বিজেতা ও সমর নেতা হিসেবে মুয়াবিয়া ইসলামের ইতিহাসে একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে রয়েছেন। ডব্লিউ মরগান বলেন, "খিলাফতের উত্তরাধিকারী নির্বাচনের ব্যাপারে গৃহযুদ্ধ এড়াতে হলে বংশানুক্রমিক নীতি কায়েম করা ব্যতীত আর কোনো বিকল্প নেই।" তিনি রোমান বার্বারদেরকে দমন করেন এবং সীমান্তবর্তী উপজাতিদের পর্যুদস্ত করেন। তাঁর সেনাপতি পূর্বাঞ্চলীয় গজনী, কাবুল, ফলখ, কান্দাহার, বুখারা, সমরখন্দ, তিরমিজ, উত্তর আফ্রিকা প্রভৃতি স্থান দখল করে মুসলিম সাম্রাজ্যের সীমা হিন্দুকুশ পবর্ত হতে আটলান্টিক সাগরের তীর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।

রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা: মুয়াবিয়াই সর্বপ্রথম খিলাফতকে উত্তরাধিকারভিত্তিক সালতানাতে রূপান্তরিত করেন। সর্বপ্রথম তিনিই নিজ পুত্রকে সালতানাতের উত্তরাধিকার মনোনিত করেন এবং এভাবে সর্বপ্রথম ইসলামি খিলাফতে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহাসিক পি. কে. হিটি বলেন, "মুয়াবিয়ার রাজত্বকালে মুসলিম সাম্রাজ্য কেবল সুদৃঢ় ও সুসংহতই হয়নি, বরং এর আঞ্চলিক সীমারেখাও সম্প্রসারিত হয়।"

নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা: সর্বপ্রথম মুসলিম নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মুয়াবিয়ার নাম ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। নৌবাহিনীর সাহায্যে তিনি ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ সিসিলি, রোডস প্রভৃতি জয় করেন। ঐতিহাসিক হিট্টি বলেন, "তিনি তাঁর নির্ভরযোগ্য সিরীয় বাহিনীকে ইসলামের যুদ্ধের ইতিহাসে একটি প্রথম সংঘবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল বাহিনীতে পরিণত করেন।"

শিল্প ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক: মুয়াবিয়া শিল্প ও সাহিত্যের উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। কবি আল আখতাল মুয়াবিয়ার সভাকবি ছিলেন। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রের লিখিত কতকগুলো পুস্তক আরবি ভাষায় অনুবাদ করেন।

খলিফা হিসেবে মুয়াবিয়া মুয়াবিয়া ছিলেন পরিবর্তনশীল যুগের খলিফা। ইসলামের প্রাথমিক খিলাফতের প্রচলিত পদ্ধতিতে তিনি কতকগুলো মৌলিক পরিবর্তন সাধন করেন। মধ্যযুগীয় মুসলিম লেখকগণ তাঁকে ইসলামের 'প্রথম রাজা' হিসেবে অভিহিত করেন।

পরিশেষে বলা যায়, হযরত মুয়াবিয়া (রা.) তাঁর সমসাময়িক রোমান সম্রাট কনস্টাইন্স এবং পগগোনেটাস অপেক্ষা নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন। ঐতিহাসিক হিট্টি বলেন, "মুয়াবিয়া শুধু প্রথমই নন, তিনি ছিলেন আরবের শ্রেষ্ঠ শাসকদের মধ্যে অন্যতম।” ঐতিহাসিক আমীর আলী বলেন, "মোটের উপর মুয়াবিয়ার রাজত্বকাল একদিকে যেমন দেশে সমৃদ্ধি ও শান্তি আনয়ন করেছিল, অন্যদিকে বিদেশেও তেমনি সাফল্য আনয়ন করে।"

উমাইয়া খিলাফত - অন্যান্য প্রশ্ন

উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠাখলিফা মুয়াবিয়া (রা.) (৬৬১-৬৮০ খ্রি.)ইয়াজিদ ও ইমাম হোসেন (রা.)খলিফা আব্দুল মালিক (৬৮৫-৭০৫ খ্রি.)খলিফা আল-ওয়ালিদ-বিন-আব্দুল মালিক (৭০৫-৭১৫ খ্রি.) খলিফা সোলায়মান (৭১৫-১৭ খ্রি.)খলিফা ওমর-বিন-আব্দুল আজিজ (দ্বিতীয় উমর) (৭১৭-৭২০ খ্রি.)খলিফা দ্বিতীয় ইয়াজিদ (৭২০-৭২৪ খ্রি.)খলিফা হিশাম (৭২৪-৭৪৩ খ্রি.)খলিফা দ্বিতীয় ওয়ালিদ (৭৪৩-৭৪৪ খ্রি.)খলিফা তৃতীয় ইয়াজিদ (৭৪৪ খ্রি.)খলিফা ইব্রাহিম (৭৪৪ খ্রি.)খলিফা দ্বিতীয় মারওয়ান (৭৪৪-৭৫০ খ্রি.)উমাইয়া খিলাফতের ক্রমাবনতি ও পতনউমাইয়া আমলের আর্থ-সামাজিক বৈশিষ্ট্যউমাইয়া আমলে শিল্প, স্থাপত্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চাজ্ঞানবিজ্ঞানে উমাইয়াদের অবদানকুব্বাতুস সাখারা কী?কাকে উমাইয়া সাধু বলা হয়?উমাইয়াদের শেষ খলিফা কে ছিলেন?উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?কাকে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয়?মুহাম্মদ বিন কাসিম কত খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধু জয় করেন?সিন্ধু বিজয়ী নেতার নাম কী?মুসলিম বিশ্বে সর্বপ্রথম কে রাজতন্ত্রের সূচনা করেন?উমাইয়া খিলাফত কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?সর্বপ্রথম ডাক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন কে?কোন উমাইয়া খলিফাকে রাজেন্দ্র বা Father of Kings বলা হয়?উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিজেতা কে ছিলেন?স্পেন বিজয়ী বীরের নাম কী?মধ্য এশিয়ায় কোন বীর ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেন?আশীর্বাদের চাবি বলা হয় কাকে?মুয়াবিয়া (রা.)-কে আরবদের প্রথম রাজা বলা হতো কেন?খলিফা আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয় কেন?খলিফা আবদুল মালিকের আরবি ভাষা জাতীয়করণ বিষয়ে ধারণা দাও।খলিফা সুলাইমানকে কেন আশীর্বাদের চাবি বলা হয়?'সিন্ধু বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণটি ব্যাখ্যা কর।উমাইয়া কারা? ব্যাখ্যা কর।দিওয়ানুল বারিদ কী? ব্যাখ্যা কর।আবদুল মালিককে কেন উমাইয়া খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়?ওমর বিন আবদুল আজিজকে পঞ্চম খলিফা বলা হয় কেন?

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ