• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • উমাইয়া খিলাফত
উমাইয়া খিলাফত

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

জ্ঞানবিজ্ঞানে উমাইয়াদের অবদান

উমাইয়া খলিফাগণ তাদের শাসনামলে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানবিজ্ঞানের উন্নয়ন সাধনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নিম্নে জ্ঞানবিজ্ঞানে উমাইয়া খলিফাদের অবদান সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

১. শিক্ষাব্যবস্থা: উমাইয়া আমলে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে কোন কাঠামো গড়ে উঠে নি। যুবরাজগণ সাধারণত পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতো। তবে শিক্ষা ধর্মভিত্তিক ছিল। তাই সাধারণত মসজিদ ও মাদ্রাসায় কুরআন ও হাদিস শিক্ষা দেয়া হতো। উমাইয়া শাসকেরা আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে মর্যাদা দেয় এবং শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হতো।

২. লিপিবিদ্যা: লিপিবিদ্যায় উমাইয়া যুগ অনেকাংশেই এগিয়ে ছিল। আরবি সরকারি ভাষা হিসেবে প্রাধান্য পাওয়ায় আরবি শব্দের সাহায্যে দফতরের কার্যাবলি সম্পাদিত হতো। এ যুগের প্রখ্যাত লিপিকারদের মধ্যে আব্দুল মালিক ও আব্দুল হোমাইম উল্লেখযোগ্য।

৩. আরবি ব্যাকরণ: উমাইয়া আমলে ইসলাম বিস্তার ঘটলে হাদিস ও কুরআনের তেলাওয়াতের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। সুন্দর, শ্রুতিমধুর ও শুদ্ধভাবে কুরআন পাঠের প্রয়োজনে ব্যাকরণ রচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। হযরত আলী (রা.) ও তাঁর শিষ্য আবুল আসওয়াদ ৬৮৮ সালে যে আরবি ব্যাকরণ সূত্র আবিষ্কার করেন সেই আলোকে আরবি ব্যাকরণ রচনা শুরু হয়।

৪. আরবি ভাষার উৎকর্ষতা: উমাইয়া আমলে আরবি ভাষার চরম উন্নতি সাধিত হয়। এ যুগে আরবি ছিল রাষ্ট্রীয় ভাষা। তাই রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো আরবি ভাষায়। তাছাড়া কুরআন ও হাদিস লিখিত হয়েছিল আরবি ভাষায়। কবিতা, ইতিহাস, চিকিৎসাবিদ্যা প্রভৃতি গ্রহগুলোও আরবি ভাষায় রচিত হতো। অধিকাংশ লোকজন আরবিতে কথাবার্তা বলত। সবকিছু মিলে আরবি ভাষার অকল্পনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছিল।

৫. ফিকহ শাস্ত্র: উমাইয়া আমলে কুরআন ও হাদিসের প্রয়োজনীয়তা ও তার ব্যাখ্যা এবং এর শব্দতত্ত্ব, বাক্যার্থ প্রভৃতি বিষয়ে গবেষণা শুরু হয়। কুরআন হাদিসের ব্যুৎপত্তি অধ্যায়নের মাধ্যমে ফিকহ শাস্ত্রের উদ্ভব ঘটে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আমির ইবনে শারাহীল এবং হাসান বসরী প্রমুখ আইনবিদ ফিকহ শাস্ত্রের উৎকর্ষতা সাধন করেন।

৬. হাদিস: উমাইয়া আমলে সবচেয়ে বেশি উন্নতি সাধিত হয় হাদিস সংকলনের। এ যুগে হাদিসের প্রতি মানুষের চরম শ্রদ্ধা ভক্তি ছিল। আরবদের বিভিন্ন অংশে হাদিসের চর্চা হতো। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ হাদিস শুনতে ও শিখতে আসত। হাদিস চর্চার সর্ববৃহৎ কেন্দ্র ছিল মদিনা। হাদিস সংরক্ষণে আব্দুল্লা বিন মাসউদ ও ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আব্দুল আজিজ ৪৮৪ টি হাদিস বর্ণনা করেন।

৭. কবিতা: কাব্য রচনায় উমাইয়া যুগচরম উৎকর্ষতা লাভ করেছিল। খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে কবিতা রচনায় ভাটা পড়লেও উমাইয়া যুগে কবিতায় প্রাণ সঞ্চার হয়ে উঠে। এ যুগের শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন ওমর ইবনে আবীয়াহ। এছাড়া এ সময়কার বিখ্যাত কবিরা হলেন জামিল, হাম্মাম উল-রাবীয়াহ, আল-ফারাযদাক প্রমুখ।

৮. দর্শন: উমাইয়া আমলে ধর্মীয় চিন্তাচেতনার ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এ যুগে ধর্মীয় আদর্শকে কেন্দ্র করে পরস্পর বিরোধী দুটি মতবাদের উদ্ভব হয়। একটি হলো অদৃষ্টবাদ এবং অপরটি মুক্ত চিন্তাচেতনা, যুক্তিতর্ক ও কর্মদক্ষতা। এরূপ বিরোধী মতবাদকে ভিত্তি করে মুতাজিলা সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়। মুতাজিলারা সবকিছুকে আকার, আকৃতি, যুক্তিতর্ক, স্বাধীন চিন্তার মাধ্যমে গ্রহণ করতে শিখেছিল।

৯. ইতিহাস: ইতিহাস হলো মানুয ও মানবসমাজের অতীত ঘটনাবলির ধারাবাহিক বিবরণ। মুসলিমদের ইতিহাস রচনার হাতে খড়ি হয় উমাইয়া আমলে। মূলত মহানবী (স.) ও তাঁর সাহাবিদের কার্যক্রম বর্ণনা করা ও জানার প্রেক্ষিতে ইতিহাস রচনা শুরু হয়। এ সব ঘটনাপঞ্জিকে 'সিরাহ' বা ইতিহাস শাস্ত্র বলে। ইতিহাস রচনা প্রসঙ্গে P.K. Hitti বলেছেন, "এ যুগের আরবি ইতিহাস হাদিস লিখনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে।"

১০. বিজ্ঞান: পবিত্র কুরআন হলো পৃথিবীর সমস্ত দর্শন, সাহিত্য ও বিজ্ঞানের পথপ্রদর্শক। উমাইয়া আমলে পণ্ডিতগণ কুরআনের মাধ্যমে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সন্ধান পান এবং তা উদঘাটন ও আবিষ্কারের নেশায় ছড়িয়ে পড়েন। মুসলিম শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিধর্মী পন্ডিতরাও বিজ্ঞানের অনুসন্ধানে এগিয়ে আসেন। আরবদের চিকিৎসাবিদ গ্রিক ও পারস্য চিকিৎসা শাস্ত থেকে উদ্ভব বলে মনে হয়। উমাইয়া আমলে রসায়নেও যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়।

১১. লাইব্রেরির ব্যবস্থা: শিক্ষা-দিক্ষার উন্নতির ফলে উমাইয়া আমলে লাইব্রেরির প্রচলন শুরু হয়। পারস্য, মিশর, গ্রিস থেকে মূল্যবান বইপত্র সংগ্রহ করে লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ করা হতো। এজন্য বসরা, কুফা প্রভৃতি জায়গায় লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এছাড়া বিদেশি ভাষা থেকে অনুবাদ করা গ্রন্থসমূহও এসব লাইব্রেরিতে স্থান পেত।

উমাইয়া খিলাফত - অন্যান্য প্রশ্ন

উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠাখলিফা মুয়াবিয়া (রা.) (৬৬১-৬৮০ খ্রি.)ইয়াজিদ ও ইমাম হোসেন (রা.)খলিফা আব্দুল মালিক (৬৮৫-৭০৫ খ্রি.)খলিফা আল-ওয়ালিদ-বিন-আব্দুল মালিক (৭০৫-৭১৫ খ্রি.) খলিফা সোলায়মান (৭১৫-১৭ খ্রি.)খলিফা ওমর-বিন-আব্দুল আজিজ (দ্বিতীয় উমর) (৭১৭-৭২০ খ্রি.)খলিফা দ্বিতীয় ইয়াজিদ (৭২০-৭২৪ খ্রি.)খলিফা হিশাম (৭২৪-৭৪৩ খ্রি.)খলিফা দ্বিতীয় ওয়ালিদ (৭৪৩-৭৪৪ খ্রি.)খলিফা তৃতীয় ইয়াজিদ (৭৪৪ খ্রি.)খলিফা ইব্রাহিম (৭৪৪ খ্রি.)খলিফা দ্বিতীয় মারওয়ান (৭৪৪-৭৫০ খ্রি.)উমাইয়া খিলাফতের ক্রমাবনতি ও পতনউমাইয়া আমলের আর্থ-সামাজিক বৈশিষ্ট্যউমাইয়া আমলে শিল্প, স্থাপত্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চাজ্ঞানবিজ্ঞানে উমাইয়াদের অবদানকুব্বাতুস সাখারা কী?কাকে উমাইয়া সাধু বলা হয়?উমাইয়াদের শেষ খলিফা কে ছিলেন?উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?কাকে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয়?মুহাম্মদ বিন কাসিম কত খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধু জয় করেন?সিন্ধু বিজয়ী নেতার নাম কী?মুসলিম বিশ্বে সর্বপ্রথম কে রাজতন্ত্রের সূচনা করেন?উমাইয়া খিলাফত কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?সর্বপ্রথম ডাক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন কে?কোন উমাইয়া খলিফাকে রাজেন্দ্র বা Father of Kings বলা হয়?উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিজেতা কে ছিলেন?স্পেন বিজয়ী বীরের নাম কী?মধ্য এশিয়ায় কোন বীর ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেন?আশীর্বাদের চাবি বলা হয় কাকে?মুয়াবিয়া (রা.)-কে আরবদের প্রথম রাজা বলা হতো কেন?খলিফা আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয় কেন?খলিফা আবদুল মালিকের আরবি ভাষা জাতীয়করণ বিষয়ে ধারণা দাও।খলিফা সুলাইমানকে কেন আশীর্বাদের চাবি বলা হয়?'সিন্ধু বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণটি ব্যাখ্যা কর।উমাইয়া কারা? ব্যাখ্যা কর।দিওয়ানুল বারিদ কী? ব্যাখ্যা কর।আবদুল মালিককে কেন উমাইয়া খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়?ওমর বিন আবদুল আজিজকে পঞ্চম খলিফা বলা হয় কেন?

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ