• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • উমাইয়া খিলাফত
উমাইয়া খিলাফত

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উমাইয়া আমলে শিল্প, স্থাপত্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা

সপ্তম শতাব্দীর তৃতীয়-চতুর্থ দশকে আরবগণ যখন বিজয়ীর বেশে পারস্য ও রোম সাম্রাজ্যে আবির্ভূত হন তখন তাদের নিজস্ব কোনো শিক্ষা-সংস্কৃতি অথবা জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোকবর্তিকা সেখানে বহন করে আনেন নি। বাস্তবে তখন তারা অন্ধকার যুগের অর্জিত অশ্লীল সংস্কৃতির অধিকারী ছিলেন। সুতরাং সভ্যতার ক্ষেত্রে তাদের পক্ষে বিজিত অঞ্চলসমূহে কিছু দান করার পরিবর্তে সেখান থেকে অনেক কিছুই গ্রহণ করাই স্বাভাবিক ছিল। শীঘ্রই তারা অনুসন্ধিৎসু শিক্ষানবিশ হিসেবে এ সভ্যতার বিভিন্ন দিক হতে নির্যাস সংগ্রহ করে সৃজনশীল ও মৌলিক প্রতিভার উপযুক্ত সমন্বয়ের মাধ্যমে নিজেদের শিল্প, স্থাপত্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নতি ও পরিপুষ্টি সাধন করেন।

শিল্প ও স্থাপত্য

মরুচারী বেদুইন আরবদের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও শিল্প ও স্থাপত্য ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় উদ্যোগ লক্ষ করা যায়। মসজিদে নববীতে বক্তৃতাকালে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর দাঁড়াবার জন্য মৃত্তিকায় প্রোথিত খেজুর গাছের টুকরাই ছিল মিম্বর। পরবর্তীকালে এ মিম্বরই কারুকার্যময় ও দৃষ্টিনন্দন রূপ লাভ করে। চারু ও কারু শিল্পের জগতে অনাড়ম্বর ইসলামের আনুষ্ঠানিক চর্চা এর মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল। স্থাপত্য শিল্পের উমাইয়াদের জমকালো নির্মাণকর্ম সমকালীন ইতিহাসের আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়।

আরবদের স্থাপত্য শিল্প অনেকাংশে ধর্মভিত্তিক। তাদের এ শিল্প প্রাচীন আদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও তা ধর্মীয় ভাবধারায় সম্পৃক্ত ছিল। মসজিদ স্থাপত্যে তাই আমরা ইসলামি সভ্যতার বিকাশের ধারাকে উপলব্ধি করি। মসজিদকে কেন্দ্র করে স্থাপত্য শিল্পের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। বিভিন্ন দেশে বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে সামরিক ঘাঁটি ও নামাযের জন্য মসজিদ নির্মাণ করা হতো। ওকবা বিন নফি কায়রোয়ানের বিখ্যাত মসজিদ নির্মাণ করেন। আল-ওয়ালিদ সেটজনের উপাসনালয়ের উপর দামেস্কের বিখ্যাত মসজিদটি নির্মাণ করেন। খলিফা আব্দুল মালিক জেরুজালেমের বিখ্যাত গম্বুজ (The Dome of the Rock), দামেস্কের বিখ্যাত মসজিদ ও কুব্বাতুল খাযরা (Green palace) নির্মাণ করেন। এছাড়াও হাজ্জাজের প্রাসাদ, সিরিয়ার মরুভূমির কুসায়ের আমরা ও মাশাত্তা অদ্যাবধি উমাইয়া আমলের স্থাপত্য শিল্পের স্মৃতি বহন করছে। প্রাচীরের চিত্রের জন্য এ সকল প্রাসাদ উল্লেখযোগ্য। পরবর্তীকালে উমাইয়াগণ এ চিত্রবিদ্যায় অনেক উন্নতি সাধন করেছিলেন। মুসলিম খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এ শিল্পের বিকাশ ঘটে। চিত্রশিল্পও পরবর্তীকালে ইসলাম ধর্মের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করেছিল। উল্লিখিত কুসায়ের আমরা প্রাসাদের দেওয়াল চিত্রে মুসলিম চিত্রশিল্পের নিদর্শন রয়েছে।

সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা

কবিতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিক চর্চা ইসলামি যুগে আরবের কাসিদাহ নামক প্রেমের কবিতা অবলম্বনে উমাইয়া আমলে বহু প্রেম আখ্যান কবিতাকারে রচিত হয়। ইয়ামেনের কবি জামিল 'লাইলী-মজনু' আখ্যান নিয়ে বহু কবিতা রচনা করেন। প্রেমের কবিতা ছাড়াও মিসকীন আল দারেমী রাজনৈতিক কবিতা, জারির ফারাজদাক এবং আখতাল ব্যঙ্গ ও প্রশংসামূলক কবিতা রচনা করতেন। বিখ্যাত কবি হাম্মুদর রাবিয়াহ একাধারে ২৯০০ পঙতি দীর্ঘ কাসিদাসহ আবৃত্তি করে শুনিয়ে খলিফা দ্বিতীয় ওয়ালিদের নিকট হতে এক লক্ষ দিরহাম উপহার লাভ করেন।
ও নাইয়া খিলাফতকালে বাইজান্টাইন প্রথায় হেরেম প্রথা প্রচলিত হবার সাথে সাথে গান-বাজনার প্রবর্তন হয়। 'মুখান্নাসুন' ক একদল পুরুষ সংগীতজীবী হিসেবেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তুয়ায়িস নামক একজন সংগীতজ্ঞ ইসলামি সংগীতের জনক  ইবনে সুরায়েখ ছিল উমাইয়া যুগের শ্রেষ্ঠ সংগীতজ্ঞ। গায়ক মাবাদ খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ
রেন। গায়িকাদিগের মধ্যে মদিনার জামিলা এবং দ্বিতীয় ইয়াজিদের রক্ষিতা সাল্লামা ও হাব্বাবা প্রসিদ্ধি অর্জন করেন। সারওয়ানের খিলাফতকালে ইমাম হোসেনের কন্যা সখিনার জন্য মদিনা গর্ব করতে পারে। তিনি তার শিক্ষা, সংগীত-প্রীতি, কবিত্ব, রুচি, সৌন্দর্য ও রসিকতার জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাসস্থান অনেক কবি ও সংগীতবিদের মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। তায়েফে আয়েছা বিন তালহা নামে তার এক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। আয়েছার পিতা হযরতের একজন বিশিষ্ট সহচর ছিলেন। আয়েছার মধ্যে বংশীয় আভিজাত্য অপূর্ব সৌন্দর্য ও উন্নত আদর্শের সংমিশ্রণ হয়েছিল।

এভাবে মক্কা-মদিনায় উমাইয়াদের পৃষ্ঠপোষকতায় অসংখ্য সংগীত শিল্পীর আর্বিভাব হয়েছিল। তারা দামেস্কের রাজদরবারকেও অলংকৃত করেছিলেন। গোঁড়া আলেমদের বিরোধিতা সত্ত্বেও জনসাধারণ গানকে স্বীকার করে নিয়েছিলেন। খলিফা প্রথম ইয়াজিদই দামেস্কের রাজদরবারে প্রথম সংগীত যন্ত্রের আমদানি করেছিলেন। এরপর শুধুমাত্র দ্বিতীয় ওমর ছাড়া উমাইয়া বংশের সকল খলিফাই সংগীতের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। এর ফলে সংগীত চর্চা এতই প্রসার লাভ করেছিল যে, আব্বাসীয়গণ তাদের প্রচারণায় সংগীত চর্চাকে উমাইয়াদের ধর্মহীনতার একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

উমাইয়া খিলাফত - অন্যান্য প্রশ্ন

উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠাখলিফা মুয়াবিয়া (রা.) (৬৬১-৬৮০ খ্রি.)ইয়াজিদ ও ইমাম হোসেন (রা.)খলিফা আব্দুল মালিক (৬৮৫-৭০৫ খ্রি.)খলিফা আল-ওয়ালিদ-বিন-আব্দুল মালিক (৭০৫-৭১৫ খ্রি.) খলিফা সোলায়মান (৭১৫-১৭ খ্রি.)খলিফা ওমর-বিন-আব্দুল আজিজ (দ্বিতীয় উমর) (৭১৭-৭২০ খ্রি.)খলিফা দ্বিতীয় ইয়াজিদ (৭২০-৭২৪ খ্রি.)খলিফা হিশাম (৭২৪-৭৪৩ খ্রি.)খলিফা দ্বিতীয় ওয়ালিদ (৭৪৩-৭৪৪ খ্রি.)খলিফা তৃতীয় ইয়াজিদ (৭৪৪ খ্রি.)খলিফা ইব্রাহিম (৭৪৪ খ্রি.)খলিফা দ্বিতীয় মারওয়ান (৭৪৪-৭৫০ খ্রি.)উমাইয়া খিলাফতের ক্রমাবনতি ও পতনউমাইয়া আমলের আর্থ-সামাজিক বৈশিষ্ট্যউমাইয়া আমলে শিল্প, স্থাপত্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চাজ্ঞানবিজ্ঞানে উমাইয়াদের অবদানকুব্বাতুস সাখারা কী?কাকে উমাইয়া সাধু বলা হয়?উমাইয়াদের শেষ খলিফা কে ছিলেন?উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?কাকে আরব বিশ্বের প্রথম রাজা বলা হয়?মুহাম্মদ বিন কাসিম কত খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধু জয় করেন?সিন্ধু বিজয়ী নেতার নাম কী?মুসলিম বিশ্বে সর্বপ্রথম কে রাজতন্ত্রের সূচনা করেন?উমাইয়া খিলাফত কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?সর্বপ্রথম ডাক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন কে?কোন উমাইয়া খলিফাকে রাজেন্দ্র বা Father of Kings বলা হয়?উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিজেতা কে ছিলেন?স্পেন বিজয়ী বীরের নাম কী?মধ্য এশিয়ায় কোন বীর ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেন?আশীর্বাদের চাবি বলা হয় কাকে?মুয়াবিয়া (রা.)-কে আরবদের প্রথম রাজা বলা হতো কেন?খলিফা আবদুল মালিককে রাজেন্দ্র বলা হয় কেন?খলিফা আবদুল মালিকের আরবি ভাষা জাতীয়করণ বিষয়ে ধারণা দাও।খলিফা সুলাইমানকে কেন আশীর্বাদের চাবি বলা হয়?'সিন্ধু বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণটি ব্যাখ্যা কর।উমাইয়া কারা? ব্যাখ্যা কর।দিওয়ানুল বারিদ কী? ব্যাখ্যা কর।আবদুল মালিককে কেন উমাইয়া খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়?ওমর বিন আবদুল আজিজকে পঞ্চম খলিফা বলা হয় কেন?

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ