- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- স্পেনে উমাইয়া শাসন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
মুসলমানদের স্পেন বিজয় (৭১১ খ্রি.)
মুসলমানদের স্পেন বিজয় ইসলামের ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা। ঐতিহাসিক হিট্টি বলেন, "ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিমে ফটক হিসেবে আইবেরীয় উপদ্বীপে মুসলিম অভিযান ছিল আরবদের সর্বশেষ অত্যন্ত নাটকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান।" উত্তর আফ্রিকার গভর্নর ও সেনাধ্যক্ষ মুসা ইবন-নুসাইর ও তার অধীনস্থ সেনাপতি তারিক ইবন জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী স্পেন আক্রমণ এবং দখল করেন।
স্পেন বিজয়ের কারণ
মুসলমানদের সহজে স্পেন বিজয়ের কতকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে, যা' স্পেনে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার দ্বার উদ্ঘাটিত করে দেয়। নিম্নে স্পেন বিজয়ের কারণসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
সামাজিক অসন্তোষ: মুসলিম বিজয়ের পূর্বে স্পেনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে রাজন্যবর্গ, অমাত্যকা, ধর্মযাজক ও সামন্ত শ্রেণির ক্রমাগত শোষণের ফলে এক দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। স্পেনের অভ্যন্তরীণ সামাজিক অসন্তোষ, ধর্মীয় অনাচার, নিপীড়ন ও ভেদ, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক অরাজকতা মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করে দেয়।
স্পেনের রাজনৈতিক গোলযোগ: স্পেনের রাজনৈতিক গোলযোগ ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্র কেন্দ্রীয় ক্ষমতাকে ভীষণভাবে দুর্বল করে দেয়। ইউটিজাকে হত্যা করে রডারিক সিংহাসন দখল করেন। এতে ইউটিজার ভ্রাতা, পুত্র, জামাতা এবং অন্যান্যরা রডারিকের শত্রু হয়ে পড়ে। তারা কোনোক্রমেই রাজাকে ভালো চোখে দেখত না এবং সুযোগ মতো তাকে উৎখাত করার পরিকল্পনা ছিল। রাজধানীতে এরূপ সংঘাতময় পরিবেশে প্রশাসনিক ক্ষমতার সংহতি যে যৎসামান্য ছিল তাও নষ্ট হয়ে যায়-যা মুসলিম বিজয়ের জন্য সহায়ক ছিল।
রডারিকের কুকীর্তি: মধ্যযুগে ইউরোপের সামাজিক প্রথা অনুযায়ী রাজোচিত শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার জন্য সামন্ত রাজাগণ তাদের পুত্র-কন্যাদের রাজদরবারে পাঠাতেন। প্রথা অনুযায়ী জুলিয়ান তার পরমা সুন্দরী কন্যা ফ্লোরিন্ডাকে গথিক রাজা রডারিকের রাজধানী টলোয়ার রাজপ্রাসাদে প্রেরণ করেন। কিন্তু পাষন্ড রডারিক ফ্লোরিডার শ্লীলতাহানি করে। ফলে জুলিয়ান মুসা-ইবন-নুসাইরকে স্পেন আক্রমণে উৎসাহিত করেন এবং সকল প্রকার সাহায্যের আশ্বাস দেন। ফলে স্বৈরাচারী ও লম্পট রাজা রডারিকের বিরুদ্ধে মুসলিম অভিযান পরিচালিত হয়।
সুসংহত সেনাবাহিনীর অনুপস্থিতি। রডারিকের রাষ্ট্রে সুষ্ঠু ও সুসংগঠিত সেনাবাহিনী ছিল না। প্রয়োজনের তাগিদে সময় সময় যে সৈন্য সংগৃহীত হতো, এর মানও ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। উৎপীড়িত ও নির্যাতিত দাসদেরকে জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে ভর্তি করা হতো। ফলে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ঐক্যের অভাব ছিল যথেষ্ট। ফলে বিশাল বাহিনী হওয়া সত্ত্বেও রডারিক বাহিনী মুসলিম বাহিনীর কাছে ভীষণভাবে পরাজিত হয়।
মুসা-বিন-নুসাইরকে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর নিয়োগ: খলিফা ওয়ালিদ কর্তৃক সেনাপতি মুসা-বিন-নুসাইরকে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর করাই স্পেন বিজিত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। সেনাপতি মুসা ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। তিনি দুর্ধর্ষ বার্বার জাতির সাথে মধুর, সহানুভূতিসম্পন্ন ও ভ্রাতৃসুলভ ব্যবহার করে তাদের অন্তর জয় করেন। বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে ইসলামের বাণী প্রচার করে তাদেরকে সত্যের পথে জেহাদি জাতিতে পরিণত করেন। আরব সেনাবাহিনীতে বমু বার্বার রণনৈপুণ্য যোদ্ধাকে যোগ্য পদে মর্যাদা প্রদান করেন এবং তারিক ইবন জিয়াদকে সহকারী সেনাপতিরূপে নিযুক্ত করেন। স্পেন বিজয়ী সেনাবাহিনীর মধ্যে অধিকাংশই ছিল বার্বার সৈন্য এবং তাদের বাহুবল ও রণনৈপুণ্যই স্পেন বিজয়ের মূল কারণ।
ভৌগোলিক কারণ: ভৌগোলিক কারণও মুসলিম বিজয়ের সহায়ক ছিল। উত্তর আফ্রিকা ও স্পেনের মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র ১৭ মাইল বিশিষ্ট একটি প্রণালি। স্পেন ও উত্তর আফ্রিকার মধ্যে ব্যবসায়-বাণিজ্য, যাতায়াত ও তথ্যাদি আদান-প্রদানে তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তাছাড়া মুসলিম বাহিনীর অভিযান চালানোর উপায় ছিল না। কারণ একদিকে দিগন্তপ্রসারী সাহারা, অন্যদিকে আটলান্টিক মহাসাগর। ফলে স্বভাবতই স্পেনের দিকে অভিযান পরিচালনা একমাত্র লক্ষ্য ছিল এবং এতে বিজয় অর্জন করা সহজসাধ্য হয়ে পড়ে।
স্পেন বিজয়ের ঘটনাবলি
সেনাপতি মুসা-বিন-নুসাইর স্পেনের প্রশাসনিক। অবস্থা জরিপের পর স্পেন আক্রমণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তবুও তিনি অজ্ঞাত ভূমধ্যসাগর পাড়ে সমগ্র বাহিনীকে একযোগে প্রেরণ করেননি। পর্যায়ক্রমে স্পেন মুসলিম শাসকদের পদানত হয়। নিম্নে স্পে স্পেন বিজয়ের ঘটনাসমূহ আলোচনা করা হলো:
ওয়াদীল বেকার যুদ্ধ ও রডারিকের পরাজয়: ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে বীরশ্রেষ্ঠ তারিক ইবন জিয়াদের নেতৃত্বে মুসা ইবন নুসাইর স্পেনে একটা বাহিনী প্রেরণ করেন। মাত্র ১২,০০০ সৈন্যসহ তিনি জুলিয়ানের চারটি নৌযানে অবতরণ করেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে তারিক রডারিকের ১,০০,০০০ সৈন্যের মোকাবিলা করেন। ওয়াদীল বেকার নিকটবর্তী সারিসে মুসলিম ও গথিক বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। ইতিহাসে এটাই ওয়াদীল বেকার যুদ্ধ নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে রডারিক শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন।
আর্চিডোনা, এলভিয়া ও কর্ডোভা দখল ওয়াদীল বেকারের যুদ্ধে জয়লাভের পর সেনাপতি তারিক তার বাহিনীকে তিন ভাগে বিভক্ত করে বিভিন্ন দিকে প্রেরণ করেন। নগরীর পর নগরী মুর বাহিনীর পদানত হতে থাকে। বিনা বাধায় তারা আর্চিডোনা এবং এলভিয়া দখল করেন। অতঃপর মুর বাহিনী এশিয়ার মধ্য দিয়ে রাজধানী টলেডোর দিকে অগ্রসর হন। মুসলিম স্পেনের ভবিষ্যৎ রাজধানী কর্ডোভা দখল করে মুর বাহিনী স্পেনীয় খ্রিষ্টানদেরকে আত্মসমর্পণ করান। অতঃপর মুসলিম বাহিনী ভ্যালেনসিয়া ও মালাগা অধিকার করেন।
রাজধানী টলেডো দখল এলভিয়া, আর্চিডোনা, কর্ডোভা দখলের পর সেনাপতি তারিক রাজধানী টলেডো আক্রমণ করেন এবং প্রায় বিনা বাধায় রাজধানী অধিকার করেন। কারণ রাজন্যবর্গ ও অভিজাত শ্রেণি মুসলিম বাহিনীর দুর্বার অভিযানে ভীত হয়ে আজতুলিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে আশ্রয় গ্রহণ করে। রাজধানী অধিকার করার পর মুসলিম বাহিনীর আনন্দের সীমা রইল না। কারণ এখন অনাধিকৃত অঞ্চলগুলো দখল করার জন্য খুব বেশি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হবে না।
মুসা বিন-নুসায়ের অভিযান: ইতোমধ্যে সেনাধ্যক্ষ মুসা ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে জুন মাসে একটি বিশাল বাহিনী নিয়ে স্পেনে আগমন করেন। তিনি স্পেনে পৌঁছে তারিকের অধিকৃত অঞ্চলসমূহ ব্যতিরেকে উত্তর-পশ্চিম খ্রিষ্টান অধ্যুষিত শহরগুলোর দিকে অভিযান করেন। তিনি তার ১৮,০০০ সৈন্যসহ অতি সহজে সিডোনিয়া, কার্মোনা, সেভিল এবং মেরিদা দখল করেন। এরপর নিউবলি ও বেজাত অধিকৃত হয়।
তারিক ও মুসার সম্মিলিত অভিযান: তারিক ও মুসা টলেডোয় মিলিত হলে তারা উভয়ে সম্মিলিত বাহিনীসহ সমরাভিযান পরিচালনা করেন। লিও, গ্যালিসিয়া, সারাগোসায় মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হলো। অতঃপর আরাগনে উপস্থিত হলে খ্রিষ্টান গভর্নর কাউন্ট ফরচুন আত্মসমর্পণ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ক্রমশ মুসলিম বাহিনী বার্সেলোনা, আসতুরিয়া, লিজি ও আমেয়া অধিকার করেন।
স্পেনে মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠা: মাত্র দুবছরের মধ্যে উত্তরে পিরেনীজ পর্বতমালা থেকে দক্ষিণে জিব্রালটার প্রণালি পর্যন্ত সমগ্র স্পেনে ইসলামি শাসন কায়েম করেন। স্পেন বিজয়ের ফলে সর্বপ্রথম ইউরোপীয় ভূখণ্ডে মুসলিম সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হলো।
স্পেন বিজয়ের ফলাফল
মুসলমানদের স্পেন বিজয় ইউরোপের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনে আনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এ বিপ্লব সমগ্র ইউরোপে নবজাগরণের সৃষ্টি করে। নিম্নে মুসলমানদের স্পেন বিজয়ের ফলাফলসমূহ আলোচনা করা হলো:
শোষণের পরিসমাপ্তি: স্পেনে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যুগ-যুগান্তরের ধর্মযাজক ও অভিজাত শ্রেণির অন্যায় ও অত্যাচারের দীর্ঘ কাহিনীর পরিসমাপ্তি ঘটে। ন্যায় ও সাম্যের ছকে গড়ে ওঠে নতুন সমাজব্যবস্থা। শোষণ ও জুলুমের অবসান হয়ে জনগণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পায়।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য দূরীভূত মুসলিম শাসনে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বৈষম্য দূরীভূত হয়। ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার ন্যায়সংগতভাবে স্বীকৃত হয়। সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি বিধানকল্পে নতুন পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়। সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের নতুন নিয়ম অনুসারে পুরাতন মালিকদের হাতে সম্পত্তি প্রত্যাবর্তন করা হয়। শোষণের জন্য রোমানগণ অথবা গথগণ যুগ যুগ ধরে কেউই তাদের এ ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে দেয় নি।
খারাজ বা ভূমিকর ধার্য: পূর্বে জমি ছিল অভিজাত শ্রেণির হাতে কুক্ষিগত। স্পেনে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে ভূমি দাসদের কৃষিজমি হস্তান্তর করে চাষাবাদের অধিকার দেওয়া হয় এবং কৃষি উৎপন্ন পণ্যের ভাগ খারাজ বা ভূমিকর ধার্য করা হয়।
জিজিয়া বা নিরাপত্তা কর অমুসলমানদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের পরিবর্তে তাদের জান-মালের নিরাপত্তার জন্য জিজিয়া কর ধার্য করা হয়। অবশ্য জনসাধারণের শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী এ কর নির্ধারিত হয়।
শিল্পের উন্নতি: সুন্দর অর্থনীতির কাঠামোর ভিত্তিতে শিল্পকারখানাগুলোর অবস্থান পরিবর্তন করা হয়। উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এগুলোকে পুনর্জীবিত করা হয়। ফলে দেশে শিল্পজাত দ্রব্যের আমাদানি শুরু হয় এবং জনগণ বিপুলভাবে উপকৃত হতে থাকে।
ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নতি: মুসলিম শাসনের ফলে ব্যবসায়-বাণিজ্যেরও প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। শাসনকর্তাদের বিশেষ দৃষ্টির ফলে জনগণ নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে পণ্যসামগ্রী নিয়ে বাণিজ্যে মনোনিবেশ করেন।
যাতায়াত ব্যবস্থা: যাতায়াত ব্যবস্থাও উন্নত হয় যথেষ্ট এবং বহুদিন পর রাস্তাঘাটগুলো ডাকাত-দস্যুদের দখল থেকে মুক্ত হয়।
বিচারব্যবস্থা: বিচার বিভাগের বিন্যাসে মুসলিম শাসন উদারতা প্রদর্শন করে। বিচার বিভাগের বিন্যাসের ফলে সকলেই সুবিচার পেত।
ক্রীতদাস প্রথার বিলুপ্তি: মুসলিম শাসনামলে ক্রীতদাস প্রথা বিলুপ্ত হয়। ভূমিদাস ও ক্রীতদাসদের স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়।
ধর্মীয় স্বাধীনতা: ইহুদি ও খ্রিষ্টানগণ মুসলমানদের স্পেন বিজয়ের প্রত্যক্ষ ফল লাভ করে। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় নির্যাতন ও নিগ্রহের হাত হতে জনগণ হাঁফ ছেড়ে মুক্তির নিঃশ্বাস ফেলে সম্পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা লাভ করে।
কৃষি ও সভ্যতার বিস্তার: মুসলমানদের স্পেন বিজয়ের ফলে ইউরোপে ধর্ম, ভাষা, শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এক নবযুগের অধ্যায় সৃষ্টি করে। মুসলমানদের উন্নতমানের ভাবধারা, আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস ও নীতি স্পেনীয় জনগণের মাঝে বিপুলভাবে সাড়া জাগায়। শুধু স্পেন নয় সমগ্র ফ্রান্স এবং ইউরোপের কেন্দ্রভূমিতেও এ নবজাগরণের ঢেউ প্রবাহিত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মুসলমানদের স্পেন বিজয়ের ফলে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনে ইউরোপে নবজাগরণের সৃষ্টি হয়। তাই ঐতিহাসিকগণ মন্তব্য করেন, "মুসলমানদের স্পেন বিজয় শুধুমাত্র সামরিক সাফল্যই ছিল না, ইউরোপে ইসলামি সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিস্তারেও সহায়ক ছিল।"
স্পেনে উমাইয়া শাসন - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

