- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- স্পেনে উমাইয়া শাসন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
স্পেনে মুসলিম শাসনের পতন
স্পেনে মুসলিম শাসনের সর্বশেষ অধ্যায় হলো সুরক্ষিত গ্রানাডা দুর্গ। মুসলিম রাজত্বের শেষ সূর্য অস্তমিত হয় বনু নসর সুলতানদের আমলে। সুদীর্ঘ আড়াইশত বছরের অধিককাল এ বংশ রাজত্ব করে। খ্রিষ্টানদের সাথে মোকাবিলা করে তারা কিছুকাল নিজেদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেন। সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার এক অপূর্ব উৎকর্ষ সাধন করেন। এ জন্যই বনু নসর বংশ স্পেনের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
সামন্ত রাজাদের কর্তৃত্ব: খ্রিষ্টানগণ ১০৮৫ খ্রিষ্টাব্দে টলেডো দখল করে। অতঃপর ১২৩৬ খ্রিষ্টাব্দে কর্ডোভা ও ১২৪৮ খ্রিষ্টাব্দে সেভিল খ্রিষ্টান সামন্ত রাজাদের হস্তগত হয়। বলা বাহুল্য যে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে খ্রিষ্টান রাজাগণ দুটি বিষয়ে সজাগ ছিল। সে দুটি হলো:
প্রথমত, স্পেনকে পুনরায় খ্রিষ্টান ধর্ম ও কৃষ্টির আওতাধীনে আনা এবং
দ্বিতীয়ত, স্পেনের একত্রীকরণ।
ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ খ্রিষ্টান সামন্ত রাজাদের সামরিক শিকারে পরিণত হয় অথবা কর প্রদানে বাধ্য হয়। এ কারণে এ সময় থেকে স্পেনের মুসলমানদেরকে 'মুদিজার' বলা হয়। পঞ্চদশ শতাব্দীতে খ্রিষ্টান জগতে নতুন শক্তি জোটের আবির্ভাব ঘটে। আরাগণের রাজা ফার্ডিনান্ড ক্যাস্টাইল রানি ইসাবেলার সঙ্গে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এর ফলে দুটি খ্রিষ্টান রাজ্য সংঘবদ্ধভাবে স্পেনের মুসলিম আধিপত্য নির্মূল করার ষড়যন্ত্রে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। হিটির ভাষায়, "এ মিলন স্পেনে মুসলিম ক্ষমতার অবসানের ঘণ্টাধ্বনি ছিল।"
খ্রিষ্টান রাজাদের ধর্মান্ধতা: ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা ধর্মান্ধ ছিলেন। মুসলমানদের বিরুদ্ধে জিঘাংসা চরিতার্থ করার জন্য সামরিক বাহিনী পরিচালনা করেন। এ সময়ে গ্রানাডায় নাসির পরিবারের সুলতান আলী আবু আল-হাসান সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি ১৪৮২ খ্রিষ্টাব্দে আরাগণ এবং ক্যাস্টাইলের বিরোধিতায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযান করেন। এর ফলে ফার্ডিনান্ড আল-হামরা আক্রমণ করে ত্রাসের সৃষ্টি করে। তিনি অসংখ্য মুসলিম নরনারী ও শিশুকে হত্যা করেন এবং গ্রানাডার ক্ষতি সাধন করেন।
সুলতানের বিচক্ষণতা: খ্রিষ্টান সামন্ত রাজা ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলার সংঘবদ্ধ বিরুদ্ধাচরণে গ্রানাডার সুলতান বিচলিত হন। এমনি সময়ে তাঁর আরব স্ত্রীর প্ররোচনায় তার পুত্র মুহাম্মদ আবু আবদুল্লাহ্ পিতার বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। কতিপয় সৈন্য একত্রিত করে আবদুল্লাহ্ (যিনি স্পেনীয় ভাষায় বোয়াবদিল নামে পরিচিত ছিলেন) আল-হামরা প্রাসাদ দখল করে গ্রানাডার অধিপতি হিসেবে জাহির হলেন। তিনি সিংহাসনে আরোহণ করে ক্যাস্টাইলের একটি শহর অবরোধ করে বন্দী হন। ইতোমধ্যে আবুল হাসান গ্রানাডা পুনরুদ্ধার করেন এবং ১৪৮৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। ইতোমধ্যে আবদুল্লাহ্ আল-হামারা যখন কদী হন তখন তিনি তার ভ্রাতা দ্বাদশ মুহাম্মদের অনুকূলে সিংহাসন ত্যাগ করেন। এ সুযোগে ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা ফন্দী বোয়াবদিলকে (আব্দুল্লাহ আল হামারা) স্পেনে মুসলিম আধিপত্য ধ্বংসের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। প্রথমে ক্যাস্টাইলের সেনাবাহিনীর সাহায্যে পিতৃব্য দ্বাদশ মুহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযান করে গ্রানাডা দখল করেন, ফলে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এ সুযোগে বিশ্বাসঘাতক ও ষড়যন্ত্রকারী খ্রিষ্টানগণ আলোরা, কাসর, বার্নিলা, রোন্ডা প্রভৃতি দখল করে।
বোয়াবদিগের বিশ্বাসঘাতকতা: বোয়াবদিলের বিশ্বাসঘাতকতা ও হঠকারিতার ফলে স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসান হয়। হিংসাপরায়ণ ফার্ডিনান্ড রাজনৈতিক অরাজকতার সুযোগে ক্যাসিলীয় বাহিনী নিয়ে প্রথমে মালাগণ অধিকার করেন এবং পরে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দ্বাদশ মুহাম্মদকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করেন। ১৪৮৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মরক্কোয় পলায়ন করেন।
মুসলিম নিধনযজ্ঞ: মুসলিম নিধনযজ্ঞ চলতে থাকে এবং নির্যাতনের মাত্রা অত্যধিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা অতঃপর বোয়াবদিলকে (১৪৮৯) গ্রানাডা শহর হস্তান্তরের দাবি জানান। বোয়াবদিলের ধারণা ছিল, তিনি তার চাচার পতনের পর নির্বিঘ্নে শাসন করতে পারবেন। তখনই তাঁর অনুভূতি জাগ্রত হয় যখন তিনি খ্রিষ্টানদের চক্রান্ত বুঝতে পারেন।
বোয়াবদিলের গ্রানাডা ত্যাগ ১৪৯০ খ্রিষ্টাব্দে গ্রানাডার আত্মসমর্পণের আদেশ অমান্য করলে বোয়াবদিলের বিরুদ্ধে ফার্ডিনান্ড ৪০,০০০ পদাতিক ও ১০,০০০ অশ্বারোহীসহ ১৪৯১ খ্রিষ্টাব্দে গ্রানাডা অবরোধ করেন। তিনি বহুদিন অবরোধ করার পর গ্রানাডায় খাদ্য ও রসদ কথ করে দেন। অতঃপর শর্তারোপের মাধ্যমে ১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২রা জানুয়ারি গ্রানাডা খ্রিষ্টান নৃপতিদের নিকট হস্তান্তর করেন। এর ফলে স্পেনে মুসলিম শাসনের কর্তৃত্ব, প্রভুত্ব, সংস্কৃতি ও সভ্যতার যে ইতিহাস ৭৮০ বছর পর্যন্ত কায়েম ছিল তা নষ্ট হয়ে যায়। যে পাহাড়ে দাঁড়িয়ে বোয়াবদিল গ্রানাডা ত্যাগ করেন তা মুরদের সর্বশেষ দীর্ঘশ্বাস নামে পরিচিত। এ গ্রানাডার পতনের পর খ্রিষ্টানগণ মুসলিম নিধনযজ্ঞে মেতে ওঠেন। মুসলিম স্পেনের শেষ শক্তির আধার শেষ শাসনের চিহ্ন গ্রানাডার পতন হয় ২রা জানুয়ারি, ১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দে। খ্রিষ্টানদের নিকট মুসলমানদের আত্মসমর্পণ করতে হলো।
আত্মসমর্পণের শর্ত:
স্থলপথে বা পানিপথে উদ্ধারপ্রাপ্ত না হলে গ্রানাডা খ্রিষ্টানদের নিকট সমর্পণ করতে হবে।
১. দুই মাসের মধ্যে মুসলমানগণ স্থল
২. সুলতান, তাঁর সেনাপতি, উজির, শায়খ ও জনসাধারণ সকলেই ক্যাস্টালীয় রাজা ও রানির নিকট আনুগত্য স্বীকার করতে হবে।
৩. বোয়াবদিল পুঙ্গারাস অঞ্চলে কিছু সম্পত্তি পাবে।
৪. সকল মুসলমানদের জীবন, সম্পত্তি, অস্ত্রশস্ত ও অশ্বাদি ভোগদখলের নিরাপত্তা থাকবে।
৫. সকলেই স্বাধীন ও বাধাহীনভাবে ধর্মকর্ম করতে পারবে।
৬. মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ রক্ষা করা হবে।
৭. তাঁদের আদব-কায়দা, আচার-ব্যবহার, রীতিনীতি, ভাষা ও পোশাক-পরিচ্ছদ সবই রক্ষিত হবে।
৮. কোনো খ্রিষ্টান জোরপূর্বক মুসলমানের গৃহে প্রবেশ কিংবা অত্যাচার বা অপমান করতে পারবে না।
৯. সকল মুসলিম বন্দী মুক্তি পাবে।
১০. যেসব মুসলিম দেশ ত্যাগ করে আফ্রিকায় যেতে ইচ্ছুক তাদের শুধু ভাড়ার অর্থ নিয়ে সেখানে পৌঁছতে অনুমতি দিতে হবে।
১১. কাউকে অন্যের কৃত অপরাধের জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে না।
১২. কোনো খ্রিষ্টান মুসলমান হলে তাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হবে এবং মুসলমানরা খ্রিষ্টান হতে চাইলে তাকে আইনের মাধ্যমে সে সুযোগ দেওয়া হবে।
১৩. কোনো মুসলমান খ্রিষ্টানদের সঙ্গে থাকতে বা ভ্রমণ করতে চাইলে তার জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা থাকবে এবং ইহুদিদের ন্যায় কোনো বিশেষ চিহ্ন ধারণ করতে হবে না।
খ্রিস্টানদের প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ ও বিশ্বাসঘাতকতা: খ্রিষ্টানদের প্রতিজ্ঞা ভজ্ঞা ও বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে সেনাপতি মুসা খুবই সচেতন ছিলেন। তাই তিনি এ আপত্তিকর দাসত্বমূলক আত্মসমর্পণের বিরুদ্ধে জনগণকে শেষবারের মতো সচেতন করে দেন। তিনি সমবেত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে এক অবিস্মরণীয় ভাষণ প্রদান করেন। তিনি বলেন, দাসত্বের গ্লানি ও লজ্জা অপেক্ষা মৃত্যুই শ্রেয়। তোমরা কি বিশ্বাস কর যে ক্যাস্টাইলবাসীরা তাদের প্রতিশ্রুতি বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করবে? না তারা আমাদের প্রতারিত করছে। তাই শত্রু এখন আমাদের রক্তের জন্য পিপাসার্ত কিন্তু অন্যায়, অত্যাচার, এক কথায় অত্যাচার, অবিচার ও নির্যাতনের তুলনায় মৃত্যুই ভালো। আমাদের অঙ্গারে পরিণত করার জন্য ইতঃপূর্বে জ্বালানি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এত ধ্বংস ও পতনের সিঁড়িতে দাঁড়িয়েও মানুষের মাঝে কোনো প্রকার চাঞ্চল্যকর অবস্থা সৃষ্টি হয়নি। কথিত আছে, মুসা সাহসী যোদ্ধা সহচরদের জীবনের প্রতি ঘৃণা ও কটাক্ষ করে এলভিরা তোরণ দিয়ে অশ্বারোহণে নগর ত্যাগ করেন। নগরের বাইরে অপেক্ষারত ১০ জন খ্রিষ্টান অশ্বারোহীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং তাদের কয়েকজনকে নিহত করে নিজেও আহত হন। এ আহত অবস্থায় সেনাপতি মুসা শেনিল নদীতে ঝাঁপ দেন এবং এখানেই তার জীবনের অবসান হয়। তখন, থেকে (১৪৯২) মুসলিম শাসনের পরিসমাপ্তি হয়।
স্পেনের ইতিহাসে স্মরণীয়: স্পেনের ইতিহাসে ১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দে খুবই স্মরণীয়। ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে যে রাজ্যের বুনিয়াদ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তারই শোচনীয় পতন ঘটে ৭৮০ বছর পর। অর্থাৎ ১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনে এ সুদীর্ঘ সময়ের শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলার গ্রানাডা অধিকারের ফলে। খ্রিষ্টানদের গ্রানাডা দখল ও মুসলমানদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সূচিত হয় ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। মুসলমানদের ভাগ্যে নেমে আসে করুণ ও মর্মস্পর্শী বিপর্যয়। যে জাতি শিক্ষা, সংস্কৃতি, সভ্যতা ও কৃষ্টি দ্বারা একটি মহাদেশের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনল, সে জাতির ভাগ্যে নেমে এলো করুণ ইতিহাস।
মুসলমানদের স্পেন হতে বিতাড়ন: ১৪৯২ হতে ১৬০৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত স্পেনের ইতিহাস কলঙ্কজনক কাহিনীতে ভরপুর ছিল। নৃশংসতার চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ক্যাথলিক ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা ইসলামকে স্পেন হতে নির্মূলের পরিকল্পনা করেন। ধর্মের আবরণে আচ্ছাদিত ফার্ডিনান্ড অথবা তার সতীসাধ্বী ইসাবেলার কেউই মুসলমানদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্তাবলি পালন করেননি। মুসলমানদের আত্মসমর্পণের কয়েক দিন পরেই ফার্ডিনান্ড তার ধর্মীয় আবরণ খুলে দিয়ে আদেশ দেন যে, ইসলাম ধর্ম স্পেনে নিষিদ্ধ এবং কেউ ইসলাম ধর্মের কোনো প্রকার আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারবে না।
খ্রিষ্টানদের পরাজয় ও মুসলমানদের নিরাপত্তা: অতঃপর ১৫০১ খ্রিষ্টাব্দে মুসলমানগণ নিজেদের শক্তিকে সংঘবদ্ধ করে খ্রিষ্টানদের মোকাবিলা করেন। অপূর্ব আত্মপ্রত্যয় ও দৃঢ় মনোবলের উপর আস্থাশীল হয়ে তারা সশস্ত্র সংগ্রামে খ্রিষ্টানদের পরাজিত করেন। তবে এটি ধ্বংসের প্রান্তে উপনীত হওয়াতে মুসলমানরা কিছুটা নিরাপত্তা পায়। তখন নব উদ্দীপনায় খ্রিষ্টানগণও পূর্বের তুলনায় বেশি কঠোর হয়ে মুসলমানদেরকে জোরপূর্বক ধর্মাত্তর করতে শুরু করে।
নির্মম আদেশ: ১৫১৮ খ্রিষ্টাব্দে ফিলিপ (২য়) স্পেনের শাসনভার হাতে নিয়ে মুসলমানদের উপর নির্মম আচরণ শুরু করেন। তিনি এক নির্মম রাজ আদেশে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, আচার-ব্যবহার ও যাবতীয় অনুষ্ঠানাদি পরিত্যাগ করে নোংরা দেহ নিয়ে কাল কাটাতে বাধ্য করেন। গোসল পর্যন্ত বন্ধ করে একটি শুদ্ধ ও পবিত্র আচরণে অভ্যন্ত জাতিকে কঠিন নির্মমভাবে দুর্গন্ধময় অনভ্যস্ত জীবনে নিক্ষিপ্ত করেন। এমনি নির্দেশ আজ সভ্য জগতে ভাবতে সত্যিই বিস্ময়কর বোধ হয়। খ্রিষ্টানদের এ জঘন্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মুসলমানগণ আরও একবার মাথা তুলবার প্রচেষ্টা করেন।
নির্মমভাবে মৃত্যুদণ্ড: অস্ট্রিয়ান ডন জুয়ান বহু মুসলমানকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। আল পুজাবাসের গ্রামগুলো কসাইখানায় পরিণত হয়। যারা পর্বতের গুহায় লুকিয়ে ছিলেন তাদেরকে আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ করে নিহত করা হয়।
মুসলমান নিধন অভিযান: ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ৩য় ফিলিপ মুসলমান নিধন ও উচ্ছেদে পিতার আরদ্ধ কার্য অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে সমাপ্ত করেন। বিভিন্ন রাজ আদেশ বলে প্রায় লক্ষাধিক লোককে জোর করে আফ্রিকায় নির্বাসিত করা হয়। তাদের নিঃসম্বল করে বন্য পশুর ন্যায় বিতাড়িত করা হয়। যাত্রাপথে বৃক্ষের ছায়ায় বিশ্রামের জন্যও তারা কর আদায় করত। এমনি হীন নির্যাতনমূলক আচরণ মনে হয় জগতের মাঝে নজীরবিহীন। বহু ব্যক্তিকে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত করে ফ্রান্সে বিতাড়িত করা হয়। একদা শক্তিশালী ও সমৃদ্ধিশালী জাতির ভাগ্য এমনিভাবে নিয়ন্ত্রিত হলো। ১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দ হতে শুরু করে ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ত্রিশ লক্ষ মুসলমানকে স্পেন হতে বিতাড়িত করা হয়।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, ইতিহাসের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই যে, প্রতিটি জাতির সূচনা, বিকাশ ও পতন এটিই ইতিহাসের ধারা। তবে ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুসলমানদের যে বুনিয়াদ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার শোচনীয় পতন ঘটে ১৪খ্রিষ্টাব্দে এবং তখন থেকেই মুসলমানদের ভাগ্যে নেমে আসে করুণ ও নির্মম বিপর্যয়।
স্পেনে উমাইয়া শাসন - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

