- হোম
- একাডেমি
- মাদরাসা
- নবম-দশম শ্রেণি
- প্রাক-ইসলামি পটভূমি ও রাসুল (স.) এর মক্কা জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে আরবের অধিবাসী
ভূ-প্রকৃতির তারতম্য অনুসারে আরবের অধিবাসীদের দু'শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়- শহরের স্থায়ী বাসিন্দা ও মরুবাসী যাযাবর, যারা 'বেদুইন' নামে পরিচিত। এ দৃশ্রেণির আচার-ব্যবহার, জীবনযাত্রার প্রণালী, ধ্যান-ধারণা, আশা-আকাঙ্ক্ষার মধ্যে যথেষ্ট প্রভেদ রয়েছে। অনেক মরুবাসী আরব বেদুইন জীবন ত্যাগ করে শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। অপরদিকে দারিদ্রের কষাঘাত সহ্য করতে না পেরে কিছু সংখ্যক স্থায়ী বাসিন্দা বাধ্য হয়ে যাযাবর বৃত্তি গ্রহণ করে।
শহরবাসী: আরবের উর্বর তৃণ-অঞ্চলগুলো স্থায়ীভাবে বসবাসের উপযোগী বলে অসংখ্য জনপদ গড়ে উঠেছে। কৃষিকার্য, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতি ছিল স্থায়ী বাসিন্দাদের প্রধান জীবিকা। বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার ফলে এরা ছিল মরুবাসী বেদুইনদের তুলনায় অধিকতর রুচিসম্পন্ন ও মার্জিত।
মরুবাসী যাযাবর: আরব অধিবাসীদের অধিকাংশই স্বাধীনচেতা, বেপরোয়া ও দুর্ধর্ষ মরুবাসী বেদুইন। সমাজের ধরাবাঁধা শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে শহরে বসবাস করার পরিবর্তে বেদুইনগণ জীবনধারণের জন্য মরুভূমির সর্বত্র ঘুরে বেড়াত। ভারা তৃণের সন্ধানে এক পশুচারণ হতে অন্য পশুচারণে গমন করত। তাদের গৃহ হচ্ছে তাবু, আহার্ব উটের মাংস, পানীয় উট ও ছাগলের দুগ্ধ, প্রধান জীবিকা লুটতরাজ। শহরবাসী ও বেদুইনের মধ্যে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
বেদুইন জীবন মরুভূমির নিরবিচ্ছিন্ন শুগ্ধতা ও একঘেয়েমি দূরন্ত আরব বেদুইনদের শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গঠনে অপরিসীম প্রভাব বিস্তার করে। প্রগতি ও পরিবর্তনকে উপেক্ষা করে তারা পূর্ব পুরুষদের রীতিনীতি ও জীবনযাত্রার প্রণালী মনেপ্রাণে অনুসরণ করে। ইতিহাসের গতিধারা, রাজ্যের উত্থান-পতন যাযাবর বেদুইনদের সাবলীল ও স্বাধীন জীবন পদ্ধতিকে ব্যাহত করতে পারেনি। পাদুকা ব্যবহারে তারা অভ্যন্ত নয়। দুরন্ত যাযাবর বেদুইনদের নিকট মরুভূমিই প্রধান বাসস্থান। বেদুইন সমাজের মূলভিত্তি গোত্রপ্রথা। গোত্রের প্রধানকে 'শাইখ' বলা হত। গোত্রপতি বয়স, জ্ঞান-বুদ্ধি, সাহস ও বীরত্বের ভিত্তিতে নির্বাচিত হতেন। পারিবারিক প্রধানদের নিয়ে গঠিত কাউন্সিলের সঙ্গে তিনি পরামর্শ করতেন। সামরিক, বিচার সংক্রান্ত ও জনকল্যাণকর ব্যাপারে শেখ এর বিশেষ কোনো কর্তৃত্ব ছিল না। তাবু এবং গৃহস্থালির দ্রব্যাদি ব্যক্তিগত সম্পত্তি হলেও পশুচ্চারণ, তৃণভূমিতে পানি এবং যৎসামান্য ভূমি গোত্রের সম্পত্তি বলে পরিগণিত হত। একই গোত্রের মধ্যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলে কেউ অপরাধীকে সাহায্য করত না; কিন্তু অপর কোনো গোত্র যদি হত্যা করত তা হলে সমগ্র গোত্র প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য সংঘর্ষে লিপ্ত হত।
বেদুইনদের বৈশিষ্ট্য: আরব বেদুইনদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে, একদিকে তারা লুটতরাজ, জিঘাংসা, পরদ্রব্য অপহরণ, যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত থাকা, অপরদিকে মহত্ত্বের সুকুমার গুণাবলিও তাদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। যাযাবর বেদুইনদের স্বজনপ্রীতি ও গণতন্ত্রপ্রীতি সর্বজনবিদিত। গোত্রকেন্দ্রিক মরুবাসী বেদুইনদের সর্বশ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য কওম-চেতনা (আসাবিয়াহ)। গোত্রবীতি ও রক্ত সম্পর্কের উপর গঠিত এ কওম-চেতনা পরবর্তীকালে আরব জাতিগঠন এবং ইসলামের বিস্তৃতি সাধনে সহায়ক ছিল। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, গোত্র-মানসিকতা, অতিথিপরায়ণতা, সহিষ্ণুতা, পৌরুষত্ব প্রভৃতি তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। রক্তের পবিত্রতা, পূর্বপুরুষদের আভিজাত্য ও বীরত্ব, প্রাচীন আরবি কবিতা ও বাগ্মিতা, আরবি অশ্ব ও তরবারি তাদের গর্বের বস্তু ছিল। আরব বেদুইনদের অতিথিপরায়ণতা সর্বজনস্বীকৃত। কারণ, অতিথি শত্রুকেও তাঁরা আদর আপ্যায়ন করতে দ্বিধা করেনি।
প্রাক-ইসলামি পটভূমি ও রাসুল (স.) এর মক্কা জীবন - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

