- হোম
- একাডেমি
- মাদরাসা
- নবম-দশম শ্রেণি
- প্রাক-ইসলামি পটভূমি ও রাসুল (স.) এর মক্কা জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
হিজরতের গুরুত্ব
ইসলামের ইতিহাস ও মহানবি (সা) এর জীবনে হিজরত এক গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূর প্রসারী ঘটনা। ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষা ও ইসলামকে সার্বজনীন ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল হিজরতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। হিজরতের ফলাফল ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। নিম্নে হিজরতের ফলাফল ও গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
১. নির্যাতনের অবসান: হিজরতের ফলে হযরত মুহাম্মাদ(সা) এর জীবনে এক নব অধ্যায়ের সূচনা হয়। তাঁর মক্কা জীবনের লাঞ্ছনা, অবমাননা, ভয়-ভীতি দূর হয়। তিনি নির্বিঘ্নে ইসলাম প্রচারের সুযোগ লাভ করেন। মদিনায় সম্মান ও শ্রদ্ধার অধিকারী হয়ে মদিনাবাসীদের আপনজন হিসেবে বিবেচিত হন। অপরদিক তাঁর জীবনে নেমে আসা দুর্যোগের অবসান ঘটে। তিনি মক্কার পৌত্তলিকদের নির্যাতন, নিপীড়ন, জুলুম-অত্যাচার ও হতাশার দিনগুলোর অবসান ঘটিয়ে আশা ও আলোর পথ প্রাপ্ত হলেন।
২. সামাজিক ক্ষেত্র: হিজরতের ফলে মদিনায় সামাজিক ক্ষেত্রে এক বিপ্লব সাধিত হয়। ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে নৈতিকতা ফিরে আসে, দুর্নীতি দূর হয়। খাজরাজ এবং আউস গোত্রদ্বয়ের মধ্যে দীর্ঘ দিনের ঝগড়া-বিবাদ, যুদ্ধ ও রক্তপাত বন্ধ হয় এবং সমাজে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসে। নবিজী সমাজ থেকে সকল অনাচার-অবিচার দূর করে সমাজকে ইসলামি আদর্শে গড়ে তোলার সুযোগ লাভ করেন। সমাজে ইসলামি অনুশাসনের মাধ্যমে সমতা ফিরিয়ে আনেন।
৩. ইসলামের উত্থান: হিজরতের ফলে ইসলাম অপ্রতিহত গতিতে প্রসার লাভ করতে থাকে। ইসলাম প্রচারে মহানবি (সা.) এর উপর কোনো বাধা অবশিষ্ট থাকেনি। ফলে ইসলাম একটি সার্বজনীন ধর্ম ও জীবন-ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। মক্কায় ইসলামের প্রসার ছিল খুবই মন্থর গতিতে এবং কন্টকাকীর্ণ, মক্কায় মুসলমানগণ ছিলেন সংখ্যালঘু। আর হিজরতের ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্ম সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধর্মে পরিণত হয়। হযরত মুহাম্মাদ (সা) প্রকাশ্যভাবে দ্বীন প্রচার ও প্রসারের পরিকল্পনা ও সুযোগ লাভ করেন।
৪. রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ: মদিনায় হিজরতের ফলে মহানবি (সা.) রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি মদিনায় একটি কল্যাণধর্মী ইসলামী রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করেন। মক্কায় তিনি কেবল একজন ধর্ম প্রচারক ছিলেন। কিন্তু মদিনায় একাধারে রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসক ও কূটনীতিবিদ ছিলেন। মদিনার এই ক্ষুদ্র ইসলামি রাষ্ট্র পরবর্তী কালের বৃহত্তম ইসলামি সাম্রাজ্যের ভিত্তি ছিল।
৫. ইসলামের আন্তর্জাতিক রূপ লাভ: হিজরতের পূর্বে মক্কায় ইসলাম ছিল গণ্ডীবদ্ধ বহু বাধার সম্মুখীন। আর মদিনার হিজরতের ফলে ইসলাম আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করে। ইসলামের বাণী দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। মহানবি (সা.) দূত প্রেরণের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ইসলাম প্রচারের ব্যবস্থা করেন। ইয়ামান, রোম ও পারস্য দেশের শাসনকর্তাদের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত পৌছে দেন। ফলে ইসলাম আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করে।
৬. ইয়াসরিবের নতুন নামকরণ: মুহাম্মাদ (সা) ইয়াসরিবে হিজরত করার পর ইয়াসরিবের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মদিন্নাতুন নবি বা নবির শহর। হিজরতের পর থেকে ইয়াসরিবকে মদিনা নামে অভিহিত করা হয়। আর এ সময় থেকে হযরত উমর (রা.) পরবর্তীতে হিজরি সালের প্রবর্তন করেন।
প্রাক-ইসলামি পটভূমি ও রাসুল (স.) এর মক্কা জীবন - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

