- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- অনুচ্ছেদ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
বৈশাখী মেলা
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে দেশের শহর ও গ্রামের বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলা বসে। এ মেলা অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই; কোথাও এক দিন, কোথাও এক সপ্তাহ, আবার কোথাও মাসব্যাপী বৈশাখী মেলা চলে। নতুন বছরে মানুষের আনন্দ-অনুভূতি প্রকাশের একটা উপলক্ষ এই বৈশাখী মেলা। মেলায় আগত পরিচিতজনেরা পরস্পরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোক-উৎসবের মাধ্যমে এই মিলনমেলা আনন্দমুখর হয়ে ওঠে। বলীখেলা, ঘোড়দৌড়, লাঠিখেলা, হাডুডু প্রভৃতি ক্রীড়ানুষ্ঠান বৈশাখী মেলাকে আকর্ষণীয় করে তোলে। মেলা উপলক্ষে নানা ধরনের লোকগানের আসর বসে। সাধারণত গ্রামের হাটে, বাজারে, নদীর তীরে বা মন্দির প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় যেসব পণ্য বিক্রি হয়, এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প ও কুটিরশিল্পের পরিমাণ বেশি। বৈশাখী মেলায় গিয়ে তালপাতায় তৈরি হাতপাখা কেনেন না এমন লোকের সংখ্যা খুব কম। বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক হালকা খাবার ও মিষ্টান্ন মেলার আকর্ষণ বাড়ায়। মেলায় বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রীর কেনা-বেচা হয় ঠিকই, তবে বিভিন্ন বয়সের নারীপুরুষের সমাবেশ বৈশাখী মেলার সবচেয়ে বড়ো আকর্ষণ।
বৈশাখী মেলা
বৈশাখী মেলা বাঙালির এক ঐতিহ্যবাহী উৎসব। এটি আমাদের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'মেলা' শব্দটির আভিধানিক অর্থ 'বিশেষ কোনো উপলক্ষ্যে হাট-বাজার অপেক্ষা অধিকতর পণ্য ক্রয়-বিক্রয় এবং আমোদ-প্রমোদের অস্থায়ী ব্যবস্থা'। 'মেলা' কথাটির আরেকটি অর্থ হলো 'মিলন'। মেলাকে উপলক্ষ্য করে সাধারণ মানুষ সব কষ্ট ও বিভেদ ভুলে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়, প্রাণের মিলন ঘটায়। সুপ্রাচীনকাল থেকেই আমাদের জাতীয় জীবনে মেলার অস্তিত্ব লক্ষণীয়। তাই মেলা তথা বৈশাখী মেলার সঙ্গে আমাদের আত্মিক সম্পর্ক বেশ সুনিবিড়। সাধারণত বাংলা বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে এই মেলা আয়োজিত হয়। এছাড়া কোথাও কোথাও সপ্তাহব্যাপী এমনকি পুরো বৈশাখ মাসজুড়ে মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। বৈশাখী মেলার মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানানো হয়। এটি মূলত সর্বজনীন লোকজমেলা এবং বিশেষত গ্রামীণ সংস্কৃতির পরিচয়বাহী অনুষ্ঠান। গ্রামে নদীর তীরে খোলা স্থানে, প্রসিদ্ধ কোনো গাছের নিচে ও স্কুল-কলেজের মাঠে এ মেলা বসে। অগণিত মানুষের পদচারণায় মুখরিত হওয়া এই মেলায় পুতুলনাচ, নাগরদোলা, লাঠিখেলা, ম্যাজিক, সার্কাস ইত্যাদির মাধ্যমে সবাই আনন্দে মেতে ওঠে। গ্রামবাংলার শিল্পী-কারিগরদের নিপুণ হাতে তৈরি তৈজসপত্র ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীর বেচাকেনা চলে হরদম। বিন্নি ধানের খই, মুড়িমুড়কি, জিলাপি, বাতাসা ও অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় খাবার ছেলে-বুড়ো সবার রসনাকে তৃপ্ত করে। লোকগায়ক ও লোককবিরা পরিবেশন করেন পালাগান, কবিগান, গাজির গানসহ অন্যান্য আঞ্চলিক গান। এককথায়, বৈশাখী মেলা যুগ যুগ ধরে বাংলার লোকায়ত মানুষের প্রাণোচ্ছ্বাসকে ধারণ করে আসছে। তবে সময়ের পরিক্রমায় বৈশাখী মেলার নিজস্ব রূপ ও বৈশিষ্ট্য পালটে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে শহরাঞ্চলে নাগরিক আবহে বৈশাখী মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। পরিবেশ ভিন্ন হলেও শহুরে বৈশাখী মেলাতেও বাঙালির বৈশাখপ্রীতির প্রাণময় চিত্র লক্ষ করা যায়। তাছাড়া গ্রামীণ পরিবেশ কিংবা শহুরে আবহে বৈশাখী মেলা সর্বতোভাবে আমাদের উৎসবপ্রিয় চেতনাকেই স্পষ্ট করে তোলে। বাংলা সনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বৈশাখী মেলা একান্তই আমাদের স্বকীয়তা প্রকাশক এক আনন্দানুষ্ঠান।
অনুচ্ছেদ - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

