- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- অনুচ্ছেদ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধ
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
বা মুক্তিযুদ্ধ
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর মধ্য দিয়েই এ দেশবাসীর বহু বছরের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণতা পায়। অসংখ্য মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা অর্জন করি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি হয়েছিল সেই ১৯৪৭ সাল থেকেই, যখন ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল। পাকিস্তানের পূর্ব অংশে ছিল বাংলা ভাষাভাষী মানুষের অবস্থান। শুরু থেকেই এই অংশের মানুষকে পরাধীন করে রাখে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। কেড়ে নেওয়া হয় তাদের সমস্ত অধিকার। শোষিত ও বঞ্চিত বাঙালি তখন অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নামে। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির মাঝে স্বাধিকার চেতনার উন্মেষ ঘটে। একে একে আসে '৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন এবং '৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল বিজয় লাভের পরও এদেশীয় নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে ফুঁসে ওঠে গোটা জাতি। এমন সময় ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করা হয়। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণ দলে দলে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। এগারোটি সেক্টরে দেশকে বিভক্ত করে শুরু হয় তুমুল লড়াই। পরবর্তী নয় মাস মুক্তিবাহিনী বিপুল পরাক্রমে প্রতিরোধ করে চলে হানাদারদের আগ্রাসন। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর আমরা অর্জন করি চূড়ান্ত বিজয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রাণ দিয়েছেন এ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ। সম্ভ্রম হারিয়েছেন দুই লক্ষ মা-বোন। তাই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সবচেয়ে বড়ো প্রেরণার নাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের অধিকার আদায়ে সংঘবন্ধ করে, আদর্শের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে। কাজেই মুক্তিযুস্থের চেতনাকে ধারণ করে সমৃদ বাংলাদেশ গঠনে আমাদের যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুচ্ছেদ - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

