- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- অনুচ্ছেদ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
কৃষি উদ্যোক্তা
কৃষি উদ্যোক্তা
একজন ব্যক্তি যখন নিজের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে কোনো চাকরি বা কারো অধীনস্ত না থেকে নিজে থেকেই কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার চেষ্টা করেন বা পরিকল্পনা শুরু করেন তখন তাকে উদ্যাক্তা বলা হয়। জাতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, ভোক্তাদের মনোভাব, মানবসম্পদ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রভৃতি ব্যবসায়ের পরিবেশ। যে ব্যক্তি দৃঢ় মনোবল ও সাহসিকতার সাথে ফলাফল অনিশ্চিত জেনেও ব্যবসায় স্থাপন করেন ও সফলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করেন, তিনিই ব্যবসায় উদ্যোক্তা বা শিল্পোদ্যোক্তা। একজন সফল উদ্যোক্তা বেশকিছু গুণের অধিকারী হয়ে থাকেন। যেমন: আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি, নেতৃত্বদানের যোগ্যতা, কঠোর পরিশ্রম করার ক্ষমতা, । কৃতিত্ব অর্জনের আকাঙ্ক্ষা, ঝুঁকি গ্রহণ করার মানসিকতা, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের মানসিকতা ইত্যাদি। ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে সাফল্য ও ব্যর্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে আত্মকর্মসংস্থানের উপযুক্ত ক্ষেত্র নির্বাচনের উপর। ব্যবসায়ের জন্য সঠিক পণ্য নির্বাচন সাফল্য লাভের অন্যতম পূর্বশর্ত। পণ্য বা ব্যবসায়ের ধরন নির্বাচনের পূর্বে বাজারে উত্ত সেবা বা পণ্যের চাহিদা ও গ্রহণযোগ্যতা যথাযথভাবে নিরূপণ করতে হবে। বাজার জরিপ ও অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে পণ্যের সঠিক চাহিদা নিরূপণ ব্যবসায়ে সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তাছাড়া পণ্যের বাজারের পরিধি এবং বাজারজাতকরণের কৌশল পূর্বেই যথার্থভাবে নিরূপণ করতে হবে। কৃষিকাজ কেবল ফসল উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৃহৎ অর্থে মৎস্য, পোল্ট্রি, ডেইরি সবকিছুই কৃষির আওতায় পড়ে। কৃষিভিত্তিক শিয়ের মধ্যে রয়েছে- পোল্ট্রি ফার্ম, ডেইরি ফার্ম, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, মৎস্য হিমায়িতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ইত্যাদি। দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাই কৃষির উন্নয়ন মানে দেশের মানুষের উন্নয়ন; আর দেশের মানুষের উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়ন। এ কারণে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। উন্নত দেশগুলোর আগ্রাসি নীতির মোকাবিলা এবং নিজেদের কৃষির সুরক্ষার জন্য কৃষকদের উৎপাদন সহায়তা, ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ আবশ্যক। একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা কেবল নিজের কর্মসংস্থান নিয়ে চিন্তা করে না বরং সমাজের কর্মক্ষম বেকার যুবকদের কর্মের ব্যবস্থাও করে দেয়। সফল। কৃষি উদ্যোক্তারা গতিশীল নেতৃত্বদানের অধিকারী হয়ে থাকেন। উদ্ভাবনী শক্তির বলে তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নতুন কৌশল গ্রহণ করেন। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে তারা নিরলস শ্রম দেন, ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ ও ভোগবিলাস পরিহার করেন। তারা নিজের ক্ষমতা ও সিদ্ধান্তের প্রতি এত আস্থাশীল যে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য অবিরাম কাজ করেন এবং কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়েন না। ব্যর্থতা তাদের দমাতে পারে না, পূর্ণ উদ্যমে তারা আবার কাজ শুরু করেন। তারা নিজের ভুল অকপটে স্বীকার করেন এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। নিজের অভিজ্ঞতা ও অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। আর তা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সাফল্যের আনন্দ লাভ করেন। সফল কৃষি উদ্যোক্তা তাই দেশের গর্ব ও অহংকার।
অনুচ্ছেদ - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

