- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- অনুচ্ছেদ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
পদ্মা নদী
পদ্মা বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী। ভারতের গঙ্গা নদীর ধারা বাংলাদেশে প্রবেশ করার সময়ে পদ্মা নাম গ্রহণ করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের কাছে মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এটি পদ্মা নামে পরিচিত। উৎপত্তি ও প্রবাহ বিবেচনায় পদ্মা আন্তর্জাতিক একটি নদীর অংশবিশেষের নাম। মূল নদীটির নাম গঙ্গা। গঙ্গা নদীর উৎস হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ। বাংলাদেশে প্রবেশের সময়ে গঙ্গার দক্ষিণমুখী একটি শাখা ভাগীরথী নাম নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে সাগরে মেশে। মূল ধারাটি পদ্মা নাম নিয়ে গোয়ালন্দের কাছে পৌঁছানোর পর সেখানে উত্তর দিক থেকে আসা যমুনা নদী তার সঙ্গে মেশে। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজশাহী পদ্মা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। পদ্মা নদীর সর্বোচ্চ গভীরতা দেড় হাজার ফুটের বেশি এবং গড় গভীরতা প্রায় এক হাজার ফুট। মালদহ জেলার ফারাক্কাবাদে পদ্মা নদীর সূচনায় একটি বাধ দিয়ে ভারত সরকার পদ্মা নদীর পানিকে নিয়ন্ত্রণ করে। পদ্মা নদীর উপরে তৈরি হয়েছে একাধিক রেল ও সড়ক সেতু: একটি ঈশ্বরদীর কাছে এবং অন্যটি মাওয়ার কাছে। পদ্মা নদীর ইলিশের স্বাদ বিশ্বজোড়া। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাঙালির আত্মপরিচয়ের অন্যতম উপাদান হিসেবে পদ্মা নদীর নাম উচ্চারিত হতো।
পদ্মা নদী
পদ্মা বাংলাদেশের প্রধান নদী। এর উৎপত্তি হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে। ভারতীয় অংশে এর নাম গঙ্গা। গঙ্গার প্রধান দুটি শাখা ভাগীরথী ও পদ্মা। গঙ্গা নদী বাংলাদেশে রাজশাহী জেলা দিয়ে প্রবেশ করে পদ্মা নাম ধারণ করেছে। উৎপত্তিস্থল থেকে ২২০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে এটি যমুন নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। এই মিলিত প্রবাহ পদ্মা নামে আরও পূর্ব দিয়ে চাঁদপুর জেলায় গিয়ে মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। পদ্মা-মেঘনার সম্মিলিত প্রবাহ মেঘনা নাম ধারণ করে আরও দক্ষিণে গিয়ে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে মিলিত হয়। ৩৬৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ নদী বাংলাদেশের, গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজশাহীর উত্তর তীরে অবস্থিত। পদ্মার সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫৭১ ফুট (৪৭৯ মিটার) এবং গড় গভীরতা ৯৬৬ ফুট (২৯৫ মিটার) আর গড় প্রস্থ ১০ কিলোমিটার। রাজা রাজবল্লভের কীর্তি পদ্মার ভাঙনের মুখে পড়ে ধ্বংস হয় বলে এর আরেক নাম কীর্তিনাশা। পদ্মার প্রধান উপনদী মহানন্দা ও পুনর্ভবা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষির সম্প্রসারণ এবং অসংখ্য মানুষের জীবিকার উৎস এই পদ্মা। আর তাই তো কবি-সাহিত্যিকগণ এই নদীর প্রশস্তি গেয়ে সাহিত্য রচনা করেছেন। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসটি এই নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করেই লেখা। পদ্মার নৈসর্গিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নানাভাবে প্রভাবিত করেছে কাজী নজরুল ইসলামকে। তাঁর 'বিখ্যাত কিছু গানে পদ্মার হারানো ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদী তীরবর্তী মানুষের জীবনযাত্রাকে গতিশীল করতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখবে বহুল আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু।
অনুচ্ছেদ - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

