- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- অনুচ্ছেদ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
আবহমানকাল থেকেই আমাদের দেশে নানা ধর্মের, নানা জাতির, নানা পেশার মানুষ বসবাস করে আসছে। মতাদর্শের ভিন্নতা সত্ত্বেও এ দেশের জনজীবনে সম্প্রীতি বজায় রয়েছে সুদীর্ঘকাল। জাতি-ধর্মের ভিন্নতা এ অঞ্চলের মানুষের ভিতরকার ঐক্যকে কখনো বিনষ্ট করতে পারেনি। তাই এ দেশের সাধারণ মুসলিম আর ফিন্দু সহজেই পরস্পরের অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে ওঠে। তারা জমিয়ে আড্ডা দিলেও ধর্মীয় বাবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে না। এছাড়া এ দেশের সংস্কৃতিকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছে সাঁওতাল, চাকমা, হাজং, মণিপুরি, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন আদিবাসীর সংস্কৃতি। আমাদের জাতীয় জীবনেও এসব জনগোষ্ঠী ও তাদের সংস্কৃতির প্রভাব যথেষ্ট। শুধু তাই নয়, এ দেশে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সব ধর্মের মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণের বহু উদাহরণ রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কারণেই এমনটি সম্ভব হয়েছে। এছাড়া বাঙালি হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতিও অনেকটাই কাছাকাছি। প্রাত্যহিক জীবনযাপনের ধরনও তাদের একই। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ধর্মীয় বিভেদ ভুলে সবাই এক হয়ে যায়। এ দেশের সংস্কৃতি তাই হিন্দু-মুসলিম মিলিত সংস্কৃতিরই ফসল। শুধু তাই নয়, আমাদের হাজার বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের যে ইতিহাস রয়েছে তাতে জাতিগত ভিন্নতা তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারেনি। মহান মুক্তিযুদ্ধেও এ দেশের সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের মানুষ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে। জাতীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিশেষ করে বাংলা নববর্ষ উদযাপন আমাদের দীর্ঘকালের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যেরই ফসল। এছাড়া এ দেশের লোকসাহিত্যেও অসাম্প্রদায়িক বোধ ও চেতনা একটি বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে। জারি, সারি, বাউল গানেও অসাম্প্রদায়িক জীবনচেতনা ও মানবিকবোধকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবুও বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে দেশি-বিদেশি শক্তি এ সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করেছে। একসময় ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী হিন্দু-মুসলিম ঐক্য. নস্যাৎ করার জন্য 'ডিভাইড এন্ড রুল' অর্থাৎ 'ভাগ করো এবং শাসন করো' নীতি গ্রহণ করে। আজও সমাজের কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থ গোছাতে এমন গর্হিত কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নানা ধরনের হামলা তারই প্রমাণ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শুধু একটি দেশের ঐক্য রক্ষার জন্যই জরুরি নয় বরং এটি সে দেশের উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। কেননা, নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাছাড়া দেশে শান্তি ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্যও জনগণের মধ্যে সম্প্রীতি ও সম্ভাব বজায় রাখা আবশ্যক। এভাবে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্ভাব বজায় রেখে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে। কেননা, নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণিকে বাদ দিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাছাড়া দেশে শান্তি ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্যও জনগণের মধ্যে সম্প্রীতি ও সদ্ভাব বজায় রাখা আবশ্যক। এভাবে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পারস্পরিক সদ্ভাব বজায় রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে।
অনুচ্ছেদ - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

