- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- অনুচ্ছেদ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
নিয়মানুবর্তিতা বা শৃঙ্খলাবোধ
নিয়মানুবর্তিতা বা শৃঙ্খলাবোধ
শৃঙ্খলা মানব জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করে। মানুষ তার কল্যাণের জন্য বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং সেগুলোকেই নিয়মে পরিণত করে। ব্যক্তিগত জীবন, সমাজ জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন তথা সমগ্র মানবীয় জীবনযাত্রা এ নিয়মের অধীন। নিয়ম-শৃঙ্খলা না থাকলে সমাজ জীবন গড়ে উঠত না। সামাজিক জীব হিসেবে সমাজবদ্ধভাবে বাস' করতে হলে অবশ্যই কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। সমাজ জীবনে যেমন শৃঙ্খলাবোধের প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন ব্যক্তিজীবনেও। জগতের প্রতিটি কাজের জন্যই রয়েছে সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন। এ নিয়মকেই বলা হয় শৃঙ্খলা। পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, জাতীয় জীবন অর্থাৎ জীবনের সব ক্ষেত্রে নিয়মানুবর্তিতার গুরুত্ব অপরিসীম। সুশৃঙ্খল নিয়ম জাতিকে উন্নত করে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সুশৃঙ্খল নিয়মই তাদের উন্নতির প্রধান কারণ। নিয়মের অভাবের ফলে ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জীবনও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে অস্তিত্বও বিপন্ন হতে পারে। তাই মানুষের জীবনে নিয়মানুবর্তিতার গুরুত্ব অপরিসীম। ছাত্রজীবন নিয়মানুবর্তিতা শেখার উপযুক্ত সময়। কেননা, এ সময়ে গড়ে ওঠা অভ্যাস পরবর্তী জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিদ্যালয় ছাড়াও পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজ থেকেও আমরা নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা লাভ করতে পারি। আজ যারা ছাত্র আগামীতে তারাই হবে দেশের কর্ণধার। তাই দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য উপযুক্ত শিক্ষালাভের পাশাপাশি নিয়ম-শৃঙ্খলার শিক্ষা গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। সমাজের মানুষ যদি কোনো নিয়মের অধীন না হয়, তবে সে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। কিন্তু সমাজ জীবনে সকল মানুষই যদি একটি নিয়মের অনুসারী হয়, তবে সেখানে নিরবচ্ছিন্ন শান্তি বজায় থাকবে। সারকথা হচ্ছে ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনকে সুখী ও সুন্দর করে তুলতে সুশৃঙ্খল হওয়ার বিকল্প নেই।
অনুচ্ছেদ - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

