- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- অনুচ্ছেদ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
বিজয় দিবস
বিজয় দিবস
১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত বিজয়। তাই স্বাধীনতার পর থেকে ১৬ই ডিসেম্বরকে বলা হয় আমাদের 'বিজয় দিবস'। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ৯৩ হাজার সৈন্যসহ পাকিস্তানের পক্ষে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজি। তিনি যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি চিফ অব স্টাফ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার। হাজার বছরের পরাধীনতার ইতিহাসকে দূরে ঠেলে এই দিনই এ দেশের মানুষ প্রথম একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের সর্বময় অধিকার লাভ করে। বিশ্বের বুকে জন্ম নেয় নতুন একটি দেশ-বাংলাদেশ। এই বিজয় দিবস এ জাতির সবচেয়ে গৌরবের দিন। ১৯৭২ সাল থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশে বিজয় দিবস পালন করা হচ্ছে। তাই সকল বাংলাদেশি প্রবল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই দিনটি উদযাপন করে। এদিন বাংলাদেশে সরকারি ছুটির দিন। ১৬ই ডিসেম্বর ভোরে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা ঘটে। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত সামরিক কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, 'বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা যোগ দেন। কুচকাওয়াজের অংশ হিসেবে সালাম গ্রহণ করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি কিংবা সরকার প্রধান। এছাড়া সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও সরকার প্রধানের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এই দিনের রাষ্ট্রীয় আচার। একইসাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান, মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশের প্রধান সড়কগুলো জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। এছাড়া দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এদিন বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। বাংলাদেশ রেডিও, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও অন্যান্য বেসরকারি বাংলাদেশি টেলিভিশন চ্যানেলও এদিন বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংবাদপত্রসমূহ এদিন বিশেষ সংখ্যা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। বিজয় দিবস আমাদের সবচেয়ে গৌরবের দিন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের জন্য কাজ করলে বিজয় দিবসের মাহাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পাবে।
অনুচ্ছেদ - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

