- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- অনুচ্ছেদ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
বুদ্ধিজীবী হত্যা
বুদ্ধিজীবী হত্যা
বুদ্ধিজীবীগণ হচ্ছেন একটি দেশ বা জাতির মস্তিষ্ক। দেশের সামগ্রিক কর্মকান্ড, নীতিনির্ধারণ সবকিছুতেই বুদ্ধিজীবীগণ পালন করেন প্রধান ভূমিকা। তাঁদেরই চিন্তা ও কর্ম নির্ধারণ করে দেয় একটি দেশ কোন পথে পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের সাথে এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকান্ডের এক নির্মম, পাশবিক ঘটনা জড়িত রয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাসজুড়ে, বিশেষত বিজয়ের দুদিন পূর্বে ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী কর্তৃক এ দেশের গুণীজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ-চিন্তাবিদদের হত্যাই বুদ্ধিজীবী হত্যা নামে পরিচিত। বুদ্ধিজীবীগণ তাঁদের চিন্তাশক্তির সাহায্যে বাংলাদেশ সৃষ্টির পক্ষে বিভিন্ন উপায়ে কাজ করে যাচ্ছিলেন। ফলে তাঁরা সহজেই পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠী এবং এদেশীয় দালালদের চক্ষুশূল হয়ে পড়েন। আমাদের বুদ্ধিজীবীদের প্রতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এই জিঘাংসাবৃত্তির প্রথম ও বাস্তব প্রতিফলন ২৫শে মার্চের কালরাত্রি। 'পাকিস্তানি বাহিনী ওই এক রাতেই অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেবসহ অনেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে। যুদ্ধে আসন্ন পরাজয় ধারণা করতে পেরে তারা চরম ও চূড়ান্ত আঘাত হানে এ দেশকে মেধা ও নেতৃত্বশূন্য করার জন্য। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, স্বাধীনতা লাভ করলেও বাংলাদেশ যেন কোনোদিন মাথা উঁচু করে। দাঁড়াতে না পারে এবং শীঘ্রই একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পর্যবসিত হয়। পাকিস্তানি বাহিনী স্থানীয় রাজাকার, আলবদর ও আলশামসের সহায়তায় এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের ১৪ই ডিসেম্বর রাতে নিজ নিজ গৃহ থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে হত্যা করে। অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য, সাংবাদিক সেলিনা পারভীনসহ অসংখ্য বুদ্ধিজীবী এই গণহত্যার শিকার হন। পরবর্তী সময়ে রায়েরবাজার ও মিরপুর বধ্যভূমিতে তাঁদের বিকৃত লাশ পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বর বাংলাদেশে পালিত হয় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস।
অনুচ্ছেদ - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

