- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- আব্বাসি খিলাফত
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
আব্বাসীয় খিলাফতের শেষার্ধ খলিফা আল-মুতাসিম (৮৩৩-৮৪২ খ্রি.)
সিংহাসন লাভ: খলিফা মামুনের মৃত্যুর পর তাঁর ভ্রাতা আবু ইসহাক মুহম্মদ আল-মুতাসিম বিল্লাহ উপাধি ধারণ করে খলিফা হিসেবে ৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে আব্বাসীয় সিংহাসনে আরোহণ করেন।
তুর্কি বাহিনী: ক্ষমতা লাভ করে রোমান সাম্রাজ্যের দেহরক্ষী বাহিনীর অনুকরণে আল-মুতাসিম আরব ও পারস্য সৈন্যদের ক্ষমতা হ্রাসের জন্য তুর্কি বাহিনী গঠন করেন। এই তুর্কি বাহিনীর স্বেচ্ছাচারিতার মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে ৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বাগদাদ হতে ৬০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে সামাররায় রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। নতুন রাজধানীতে তিনি বুলকাওয়ারা নামে এ একটি অপূর্ব সুন্দর রাজপ্রাসাদ, ২,৫০,০০০ সৈন্যের জন্য সেনানিবাস এবং ১ লক্ষ ৬০ হাজার অশ্ব রাখার জন্য আস্তাবল নির্মাণ করেন।
জাঠ বিদ্রোহ দমন: খলিফার সময় ১৭, ০০০ দুর্ধর্ষ জাঠ বিদ্রোহী ভারত হতে ইরাকে অতর্কিত আক্রমণ করলে তাদের **পরাজিত ও বিতাড়িত করেন। মাজেন্দ্রানে পাপিষ্ঠ বাবেক পুনরায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে লিপ্ত হলে তাকে দমন করার জন্য **খলিফা তুর্কি সেনাপতি আফসীনকে প্রেরণ করেন। বাবেক যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হলে মাজেন্দ্রান অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাবেকের পতনের পর খলিফা বাহিনীর হাতে প্রায় ৭,০০০ মুসলিম ও খ্রিষ্টান মহিলা মুক্তিলাভ করে।
বাইজান্টাইনদের সাথে যুদ্ধ মুতাসিমের রাজত্বে বাইজান্টাইন খ্রিষ্টানগণ মুসলিম সাম্রাজ্য আক্রমণ করেন। বাইজাইস্টাইন সম্রাট থিওফিলাস মুতাসিমের জন্মস্থান ভস্মীভূত করলে খলিফা ৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে একটি বিরাট সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন। আংকারা নামক স্থানে শত্রুপক্ষকে বিধ্বস্ত করে থিওকিলাসের জন্মভূমি এমোরিয়াম শহর ধূলিসাৎ করা হয়। খলিফা কনস্টান্টিনোপল দখলের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু সামাররায় যড়যন্ত্র উদ্ঘাটিত হওয়ায় তিনি সম্রাট থিওফিলাসকে সন্ধিতে আবদ্ধ করে রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেন।
মার্জিয়ান বিদ্রোহ: ম্যাজিয়ান নেতা মাজিয়ারের বিদ্রোহ দমনের জন্য ৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা সেনাপতি আবদুল্লাহ-ইবন- তাহিরকে প্রেরণ করেন। মাজিয়ার তুমুল যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হন। ম্যাজিয়ানদের সঙ্গে গোপন যড়যন্ত্র থাকার অভিযোগে মুতাসিম তাঁর সুযোগ্য সেনাপতি আফসীনকে বন্দি করে কারাগারে নিক্ষেপ করেন এবং অনাহারে তার মৃত্যু হয়।
চরিত্র: দীর্ঘদিন রোগভোগের পর খলিফা মুতাসিম ৮৪২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন। দৈহিক ও মানসিক ক্ষমতার অধিকারী মুতাসিম নির্দয় ও রুক্ষ স্বভাবের শাসক ছিলেন। মুতাসিম মুতাজিলা মতবাদ প্রচার করার চেষ্টা করেন এবং এই কারণে ইমাম আহম্মদ-ইবন হাম্বলকে নির্যাতন করতে তিনি দ্বিধা করেন নি। মৃত্যুকালে তিনি পুত্র আল-ওয়াসিককে তাঁর উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।
সিংহাসনারোহণ: খলিফা আল-মুতাসিমের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র আবু জাফর হারুন আল-ওয়াসিক বিল্লাহ উপাধি ধারণ করে ৮৪২ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন। উদার, মহানুভব, শিক্ষিত, শিল্প ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক আল-ওয়াসিক প্রায় ছয় বছরকাল সুনামের সাথে রাজত্ব করেন। প্রবাদ আছে যে, তিনি একশত রাগ ও সুর রচনা করেন এবং সমৃদ্ধির সাক্ষরস্বরূপ বলা হয় যে, তাঁর সাম্রাজ্যে কোনো ভিক্ষুক ছিল না। ৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা আল-ওয়াসিকের মৃত্যু হলে আব্বাসীয় সিংহাসনে পর পর অনেক খলিফা শাসনকার্য পরিচালনা করেন। ঐতিহাসিক আমীর আলী বলেন, "পরবর্তী দুই শতাব্দী যাবৎ তাদের ইতিহাস খলিফাগণের ক্ষমতাহীনভাবে সিংহাসনারোহণ এবং পরিতাপহীন মৃত্যুবরণের এক বিভ্রান্তিকর চিত্র তুলে ধরে।"
খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিল (৮-৪৭-৮৬১ খ্রি.)
সিংহাসনারোহণ: খলিফা আল-ওয়াসিকের মৃত্যুর পর ৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর ভ্রাতা আল-মুতাওয়াক্কিল সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর নিষ্ঠুরতার জন্য ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'আরবদের নীরো' (Nero of the Arabs) বলে অভিহিত করেন।
শাসন সংস্কার: রাজকার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য আল-মুতাওয়াকিল সাম্রাজ্যকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে পশ্চিমাঞ্চল তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র আল-মুনতাসিরকে এবং পূর্বাঞ্চল অপর পুত্র আল-মু'তাজকে প্রদান করেন। মু'তাজকে খলিফা অধিক স্নেহ করতেন। ফলে খলিফা তার নামে মুদ্রাঙ্কন করলে অপর পুত্র তার বিরাগভাজন হন।
জাফরিয়া নগরে মোতি প্রাসাদ খলিফা সামারায় বারো বছর অবস্থান করে দামেস্কতে রাজধানী স্থানান্তিরত করতে মনস্থ করলেন। তাঁর উদ্দেশ্যে ছিল সেখানে তিনি সিরিয়াবাসীদের বন্ধুত্ব লাভ করে তুর্কি সেনাবাহিনীর দৌরত্ম থেকে মুক্তি লাভকরা। কিন্তু দামেস্কে মাত্র দুই মাস অবস্থান করে সেখানকার আবহাওয়া অনুকূল মনে না হওয়ায় তিনি পুনরায় সামারাতে ফিরে এলেন। এই সামারাতে অবস্থানকালে খলিফা তাঁর রাজত্বের শেষ ভাগে সামারার নিকেট একটি নদীর তীরে বহু অর্থ ব্যয়ে 'জাফরিয়া' নামক একটি নগর নির্মাণ করেন এবং সেখানে 'মোতি প্রাসাদ' ও 'আনন্দ ভবন' নির্মাণ করেন। এই প্রাসাদের চারদিকে সুরম্য বাগান ও জলস্রোত তৈরি করা হয়। সেখানে গানবাজনা ও আমোদ-প্রমোদের সকল ব্যবস্থাই ছিল।
বিদ্রোহ দমন: আল-মুতাওয়াকিলের দুর্বল শাসনে সাম্রাজ্যের সর্বত্রই বিশৃঙ্খলা ও বিদ্রোহ বিদ্যমান ছিল। সিজিস্তানে সাফফারিয়গণ তাহিরীয় বংশকে অপসারিত করতে আরম্ভ করে। আজারবাইজান বিদ্রোহী হয় এবং বাইজান্টাইনরা মিশর আক্রমণ করে। মিশরে স্থানীয় পাগান গোত্রগুলো বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। এ সমস্ত বিদ্রোহ সম্পূর্ণরূপে দমন করে খলিফা কখনোই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নি। আর্মেনিয়ায় বিদ্রোহ দেখা দিলে খলিফা সেখানে বুঘা নামক এক বিখ্যাত সেনাপতিকে প্রেরণ করেন। বুথা এ বিদ্রোহ দমন করে কাম্পিয়ান সাগরের উপকূল দিয়ে কৃষ্ণ সাগর পর্যন্ত অগ্রসর হন। এশিয়া মাইনরের সীমান্তে সর্বদাই গ্রিক ও মুসলিম বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ লেগে থাকত। ক্রমাগত গ্রিকদের আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে সিরিয়াবাসীরা খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। হিমসের বিদ্রোহীরা শাসনকর্তাকে অপসারিত করে সাম্রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে থাকে। খলিফা এ সকল বিদ্রোহ দমন করার জন্য উপর্যুপরি সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করলেও স্থায়ী শান্তি কোনো সময়ই ফিরে আসেনি।
আল-মুতাওয়াকিল প্রায় পনেরো বছর খিলাফত পরিচালনা করেছিলেন। তিনি দুর্বল এবং বিলাসপ্রিয় হলেও প্রজাহিতৈষী ছিলেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় রাজদরবারে জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা হতো।
শিয়াদের উপর আল-মুতাওয়াক্কিলের ব্যবহার খলিফা আল-মুত্তাওয়াক্কিল শিয়াদের সঙ্গে নিঠুর ব্যবহার করেছিলেন। এমনকি তিনি হুসাইনের মাজার ধূলিসাৎ করে তীর্থযাত্রীদের কারবালা পরিদর্শন নিষিদ্ধ করে দেন। অন্যদিকে তিনি প্রথম তিন খলিফা, এমনকি উমাইয়া বংশের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করতেন। তিনি সিরিয়া ও আরববাসীদের পক্ষপাতী ছিলেন।
আল-মুততাওয়াক্কিল তাঁর ধর্মীয় গোঁড়ামির ফলে ইহুদি এবং খ্রিষ্টানদের উপর অতিরিক্ত কর ধার্য করেছিলেন। এছাড়া সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আরও কতকগুলো বিধিনিষেধ তিনি তাদের উপর আরোপ করেছিলেন।
মুতাজিলা সম্প্রদায়ের উপর অমানুষিক ব্যবহার: আল-ওয়াসিকের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই মুতাওয়াক্কিল খিলাফত লাভকরেন। সিংহাসনে আরোহণ করেই তিনি আল-ওয়াসিকের প্রধানমন্ত্রীকে পূর্বের ঈর্যাবশত বন্দী করে তার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন। কন্দী অবস্থায়ই তাঁর মৃত্যু হয়। আরও বহু উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীর প্রতি তিনি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন আল-মামুন ধর্মের ক্ষেত্রে যে স্বাধীন চিন্তার প্রবর্তন করেছিলেন এবং তার ফলে যে মুতাজিলা সম্প্রদায় গড়ে উঠেছিল, খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিল তা বন্ধ করে ধর্মের ক্ষেত্রে গোঁড়ামির পরিচয় দেন। কুরআন শরীফ সৃষ্ট, না আল্লাহর বাণী, তা নিয়ে এতদিন যে আলোচনা চলত, তা খলিফা আইন করে বন্ধ করে দেন। প্রধান বিচারক (কাজি) এতে আপত্তি করলে তাঁকে তাঁর দুই পুত্রসহ বন্দী করা হয়।
খলিফার মৃত্যু: খলিফা রাজকার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য সমগ্র সম্রাজ্যকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেন- পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল। পশ্চিমঞ্চলের ভার অর্পণ করেন জ্যেষ্ঠপুত্র আল-মুনতাসিরের উপর এবং পূর্বাঞ্চলের ভার অর্পণ করেন অপর পুত্র আল-মুনতাজের উপর। খলিফা নানা কারণে মুনতাজকে অধিক স্নেহ করতেন। তার নামে মুদ্রাঙ্কনও করেন। এই পক্ষপাতিত্ব নীতি তার জ্যেষ্ঠপুত্র আল-মুনতাসিরকে ক্ষিপ্ত করে তোলে। আল-মুনতাসির ৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে কয়েকজন, তুর্কী সেনাপতির সাহায্যে পিতাকে হত্যা করে সিংহাসন লাভ করে। খলিফা বহু তুর্কী সেনাপতির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিলেন। অনেককে পদ হতে অপসারণও করেছিলেন। এককথায় পূর্বাতন খলিফা আল মুতাসিম কর্তৃক নিয়োজিত তুর্কী সেনাদের দৌরাত্ম থেকে তিনি মুক্তি পেতে চেয়েছিলেন। কেননা, তুর্কী বাহিনীর দুর্ধর্ষ প্রতাপে জনজীবনও বিপন্ন হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ভাগ্যের এমনই পরিহাস খলিফা আপন পুত্র দ্বারা তুর্কী সেনাপতিদের হাতেই প্রাণ হারালেন।
খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিলের পরবর্তী আব্বাসীয় খলিফাগণ ৮৬১ খ্রিস্টাব্দে আল-মুনতাসির কয়েকজন তুর্কি সেনাপতির সাহায্যে এক রাত্রে পিতাকে হত্যা করে সিংহাসন দখল করেন। মুনতাসিরের গঠিত তুর্কি বাহিনীর দুর্ধর্য প্রতাপে জনসাধারণ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং তাদের হাতে খলিফাগণ ক্রীড়নক বা হাতের পুতুল ছিলেন। মুতাওয়াক্কিলের অপমৃত্যু তুর্কি বাহিনীর ষড়যন্ত্রের ফল; কারণ খলিফা তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিলেন। পরবর্তী খলিফা মুকতাদীর তাদের সেনাপতিকে 'আমির-উল-উমরাহ' উপাধিতে ভূষিত করলেও তারা খলিফাকে হত্যা করে। পরবর্তী খলিফা আল-কাহির বর্বর তুর্কি সৈন্যদল কর্তৃক সিংহাসনচ্যুত হন এবং দৃষ্টিশক্তি হারান। খলিফা আল-রাজীর আমলে আমির উল-উমরাহ এর নাম খলিফার সাথে খুতবায় পাঠ করা হতো এবং মুদ্রায় তাদের নাম অঙ্কিত হতো। পরবর্তী আব্বাসীয় খলিফা আল-মুত্তাকীও তুর্কি ক্রীড়নক ছিলেন। তুর্কিদের নিষ্ঠুরতা এবং পৈশাচিক ও বর্বর হত্যাকাণ্ড হতে অব্যাহতি পাবার জন্য খলিফা আল-মুত্তাকী বুয়াইয়াদের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেন। তুর্কিদেরকে বিতাড়িত করে বুয়াইয়া আমিরগণ বাগদাদে শাসনকার্য পরিচালনা করতে থাকেন এবং একটি স্বাধীন সালতানাত কায়েম করেন।
খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিলের মৃত্যু (৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ) হতে ১২৪২ খ্রিস্টাব্দে আল-মুসতাসিমের সিংহাসনারোহণ পর্যন্ত ছাব্বিশজন আব্বাসীয় খলিফা রাজত্ব করেন। এই সমস্ত বিলাসপ্রিয় এবং অযোগ্য খলিফাগণ নিম্নরূপ:
খলিফা আল-মুনতাসির (৮৬১-৬২),
খলিফা আল-রাজী (৯৩৪-৪০),
খলিফা আল-মুস্তারসিদ (১১১৮-৩৪),
খলিফা আল-মুস্তাইন (৮৬২-৬৬),
খলিফা আল-মুত্তাকী (৯৪০-৪৪),
খলিফা আর-রশীদ (১১৩৪-৩৫),
খলিফা আল-মু'তাজ (৮৬৬-৬৯),
খলিফা আল-মুস্তাকফী (৯৪৪-৪৬),
খলিফা আল-মুকতাফী (১১৩৫-৬০),
খলিফা আল-মুহতাদী (৮৬৯-৭০),
খলিফা আল-মুতী (৯৪৬-৭৪),
খলিফা আল মুস্তানজিদ (১১৬০-৭০),
খলিফা আল-মু'তামিদ (৮৭০-৯২),
খলিফা আত-তাই (৯৭৪-১১),
খলিফা আল-মুস্তাদী (১১৭০-৮০),
খলিফা আল-মু'তাজিদ (৮৯২-৯০২),
খলিফা আল-কাদির (৯৯১-১০৩১),
খলিফা আল-নাসির (১১৮০-১২২৫),
খলিফা আল-মুস্তাকফী (৯০২-৯০৭),
খলিফা আল-কাইম (১০৩১-৭৫),
খলিফা আল-জাহির (১২২৬-২৬),
খলিফা আল-মুকতাদির (৯০৭-৩২),
খলিফা আল-মুকতাদী (১০৭৫-৯৪),
খলিফা আল-মুস্তানসির (১২২৬-৪২),
খলিফা আল-কাহির (৯৩২-৩৪),
খলিফা আল-মুসতাজিদ (১০৯৪-১১১৮),
আব্বাসীয় খিলাফতের পতনের ইতিহাস বৈচিত্র্য হীন ও বেদনাদায়ক। আল-মু'তাজিদ পুনরায় ৮৯২ খ্রিষ্টাব্দে সামাররা হতে বাগদাদে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। আল-মুকতাফীর আমলে ধর্মান্ধ কারামাতি সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হয়। আল-মুস্তানসির বাগদাদে তাঁর নামানুসারে মুসতানসারিয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেন। তুর্কি বাহিনীর নির্যাতন, দৌরাত্ম্য বুয়াইয়া ও সেলজুকদের অভ্যুথান, ক্রুসেডের যুদ্ধ প্রভৃতি ঘটনা ঘটায় আব্বাসীয়দের পতন। খানের আক্রমণে আব্বাসীয়দের পতন ঘটে। পতন ত্বরান্বিত হয় এবং ১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দে হালাকু খলিফা আল-মুসতাসিম (১২৪২-১২৫৮ খ্রি.)
সর্বশেষ খলিফা আল-মুস্তানসিরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র এবং খলিফা আল-মুসতাসিম ১২৪২ খ্রিষ্টাব্দে খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন। দুর্বল বিলাসপ্রিয় খলিফার রাজত্বকালে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণে সমাজে বিশৃঙ্খলা ছিল। শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের সংঘাত রাজ্যে অরাজকতার সৃষ্টি করে। তাঁর পুত্র আবু বকরকে তিনি শিয়াদের বাসস্থান ও কারখানা ধূলিসাৎ করতে আদেশ দেন। শিয়াদের দাসে পরিণত করা হয়। শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতি এহেন নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে শিয়া উজির মোহাম্মদ বিন-কামী তাতারদের মোঙ্গল নেতা হালাকু খানকে বাগদাদ আক্রমণের আমন্ত্রণ জানান।
বাগদাদ ধ্বংস: হালাকু খান গুপ্তঘাতক দলকে নিশ্চিহ্ন করে তাব্রিজের পথে বাগদাদের দিকে রওয়ানা হন। খলিফা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করলে হালাকু খান বাগদাদ শহর অবরোধ করেন। দুর্বল খলিফা তাঁর সৈন্যবাহিনী দ্বারা দুর্ধর্য এবং রক্তপিপাসু মোঙ্গলদের আক্রমণ প্রতিহত করতে পারেন নি। ১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদ নগরী ধ্বংস করা হয় এবং মুসতাসিমকে তাঁর পরিবারবর্গসহ হত্যা করা হয়। ছয় সপ্তাহ ধরে বাগদাদে নারকীয় লুটতরাজ, নিরীহ জনসাধারণকে নিধন; অনুপম প্রাসাদ, মসজিদ, সমাধি প্রভৃতি ধূলিসাৎ করা হয়। শিক্ষায়তন ও গ্রন্থাগার ভস্মীভূত করা হয়। কমপক্ষে বিশ লক্ষ লোকের মধ্যে ১৬ লক্ষ লোককে হত্যা করা হয়। আমীর আলী বলেন, "পাঁচ শতাব্দী ধরে সঞ্চিত জ্ঞানভান্ডার নিমিষে মানব জাতি হারাল এবং সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্র সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলো; জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাদপীঠ, সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র এবং সারাসিনীয় জগতের চক্ষু এবং কেন্দ্র 'বাগদাদ নগরী' চিরতরে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলো।"
আব্বাসি খিলাফত - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

