- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- আব্বাসি খিলাফত
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
গাজী সালাউদ্দিন আইয়ুবি
আইয়ুবি বংশের পরিচয়: সালাউদ্দিন আইয়ুবির পিতার নাম নাজমুদ্দীন আইয়ুবি। ১১৩৮ খ্রিষ্টাব্দে টাইগ্রিস নদীর তীরবর্তী কুর্দিস্থানের তাকারিতে সালাউদ্দিনের জন্ম হয়। সালাউদ্দিনের পিতা নাজমুদ্দীন আইয়ুব ১১৩৯ খ্রিষ্টাব্দে ইমামুদ্দীন জঙ্গি কর্তৃক লেবাননে বালবাক দুর্গের প্রধান সেনাধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। ১১৬৭ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের ফাতেমিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দেখা দিলে খলিফা আল আজিজ নুরুদ্দীনের সাহায্য প্রার্থনা করলে নুরুদ্দীন সালাউদ্দিনের চাচা শিরকুনের নেতৃত্বে একদল সৈন্য প্রেরণ করে মিশরে বিদ্রোহ দমন করে অল্প সময়ের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। সালাউদ্দিন তার চাচার সঙ্গে মিশর অভিযানে অংশগ্রহণ করে ক্রুসেডারদের বিতাড়িত করার কৃতজ্ঞতার পুরস্কার স্বরূপ ১১৬৯ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা আল-আজিজ শিরকুনকে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাধ্যক্ষ নিযুক্ত করেন। অল্প সময়ের মধ্যে শিরকুনের মৃত্যু হলে তাঁর ভ্রাতুস্পুত্র সালাউদ্দিন মিশরের খলিফা আজিজের উজির নিযুক্ত হন।
সালাউদ্দিনের বাল্যজীবন সালাউদ্দিন আইয়ুবির বাল্যজীবন ও শিক্ষাজীবন সম্পর্কে কিছু জানা যায় নি। ১১৭১ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা আজিজের মৃত্যু হলে সালাউদ্দিন সমগ্র মিশরকে তাঁর প্রভু নুরুদ্দীনের অধীনে আনয়ন করেন এবং ফাতেমীয় খলিফার পরিবর্তে আব্বাসীয় খলিফা আল-মুসতাসির-এর নামে খুৎবা পাঠের রীতি প্রবর্তন করেন।
আইয়ুবি বংশ প্রতিষ্ঠা: ১১৭৪ খ্রিষ্টাব্দে নুরুদ্দীন জঙ্গির মৃত্যুর পর সালাউদ্দিন স্বাধীন সুলতান রূপে মিশরের শাসনভার গ্রহণ করেন এবং আব্বাসীয় খলিফা মুসতাসির-এর নিকট হতে ১১৭৫ খ্রিষ্টাব্দে সনদ লাভ করেন। সালাউদ্দিন কায়রোতে রাজধানী প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীন আইয়ুবি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
সাম্রাজ্যের সীমা বৃদ্ধি: অল্প কিছুদিনের মধ্যে সমগ্র সিরিয়া, ইরাক এবং আরবে তিনি আধিপত্য বিস্তার করেন। কুসেডারদের বিরুদ্ধে অভিযান: ১১৮৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টানদের সম্মিলিত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। হিত্তিনের যুদ্ধে ক্রুসেডারদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে তাদের অধিকৃত বহু স্থান স্বীয় সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করে সমগ্র ইউরোপে মহাআলোড়ন সৃষ্টি করেন। ফলে সমগ্র ইউরোপের খ্রিষ্টানগণ একত্রিত হয়ে তৃতীয় ক্রুসেডার সৃষ্টি করে। ইংল্যান্ডের রাজা রিচার্ড, ফ্রান্সের ফিলিপ অগাস্টাস এবং জার্মানির ফ্রেডারিক বারবারোসার নেতৃত্বে ক্রুসেডারগণ আপ্রাণ যুদ্ধ করে জেরুজালেম পুনরাধিকার করতে ব্যর্থ হয়ে ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে গাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জেরুজালেমে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
সালাউদ্দিনের মৃত্যু: তৃতীয় ক্রুসেডারদের সঙ্গে সন্ধি স্থাপনের পর ১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দে গাজী সালাউদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন।
চরিত্র ও কৃতিত্ব: সালাউদ্দিন আইয়ুবি যোগ্য, দক্ষ, সৎ, ধর্মভীরু ও ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন।
সালাহউদ্দিন আইয়ুবির কৃতিত্ব
গাজী সালাহউদ্দিন আইয়ুবি অসাধারণ বীরত্ব, চরিত্র, মাধুর্য ও মহানুভবতায় নিঃসন্দেহে জগতের শ্রেষ্ঠ নরপতিদের অন্যতম। তিনি শুধু বীরযোদ্ধাই ছিলেন না, তিনি একাধারে রাষ্ট্র পরিচালক সুলতান, অপরাজেয় বীর ও অসাধারণ জ্ঞান-গরিমা ও প্রতিপত্তির অধিকারী ছিলেন। ইসলাম ও মুসলমানদের এক ঘোর সংকটময় মুহূর্তে তিনি আবির্ভূত হন। খ্রিষ্টান জগতের তিন শক্তিমান সম্রাট পৃথিবী হতে ইসলামের নাম-নিশানা মুছে ফেলার জন্য প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে অগ্রসর হয়। সালাহউদ্দিন তখন সমগ্র বিশ্বের খ্রিষ্টান শক্তির বিরুদ্ধে এক চ্যালেঞ্জ স্বরূপ রুখে দাঁড়ান এবং তাদেরকে রীতিমতো পর্যুদস্ত করেন। এভাবে তিনি ইসলামকে শুধু রক্ষাই করেন নি এর ইতিহাসকেও গৌরবমন্ডিত করেন।
ইসলামি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে জনকল্যাণে মনোনিবেশ করেন। এখানেই নিহিত রয়েছে তার সীমাহীন কৃতিত্ব। তিনি জনসাধারণের হিতার্থে প্রণালি ও খাল-খনন করেন। কায়রোর দুর্গ তাঁর সময়ের স্থাপত্যশিল্পের অনুপম দৃষ্টান্ত। সত্যিকারের অসমসাহসিকতার অধিকারী সালাউদ্দিন যেন ছিলেন অন্যায়ের ত্রাস। অন্যায় বিদূরিত করে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা তাঁর আর একটি কীর্তি। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তাঁর সদাচরণ তাঁকে মহিমাময় করে তুলেছে।
আব্বাসি খিলাফত - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

