- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- আব্বাসি খিলাফত
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
সেলজুক বংশ (১০৫৫-১১৯৪ খ্রি.)
পূর্বপুরুষ সেলজুক বিন তুকাকের নামানুসারে সেলজুক বংশের নামকরণ হয়েছে। তারা অসভ্য, নিরক্ষর ও অজ্ঞ ছিল। আনুমানিক ৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে তারা তুর্কিস্থানের কিরঘিজ হতে ট্রান্স অক্সিয়ানাতে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। কালক্রমে সেলজুকগণ খুবই শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। সেলজুকের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্বীয় বংশের নিরাপত্তার জন্য গজনীর সুলতান মাহমুদ তাদের একটি দল ও দলপতি সেলজুককে খোরাসানে নির্বাসিত করেন। গজনী রাজবংশের দুর্বলতার সুযোগে তারা তুঘীলের নেতৃত্বে ১০৪০ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান মাসউদকে পরাজিত করে সেলজুক রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। বস্তুত গজনীতে সেলজুকদের আগমনে ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টি বলেন, "The advent of the Saljuk turks ushers in a new and notable era in the history of Islam and the Khilafat." "ইসলামের খিলাফতের ইতিহাসে সেলজুক তুর্কিদের অভ্যুথান একটি নতুন ও স্মরণীয় অধ্যায়ের সূচনা করে।"
সেলজুকদের উত্থান, কার্যাবলি ও অবদান
আব্বাসীয় সাম্রাজ্যে সেলজুকদের অবদান অবিস্মরণীয়। শাসনকার্যে তাদের অবদান নিম্নে আলোচনা করা হলো:
তুঘ্রীল বেগ (১০৫৫-১০৬৩ খ্রি.) সেলজুকের পৌত্র তুগ্রীল বেগ প্রকৃতপক্ষে সেলজুক বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১০৫৫--১০৬৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ৮ বছর রাজত্ব করেন। এই অল্পকালের মধ্যেই বলখ, খারিজম প্রভৃতি স্থান দখল করে শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। আব্বাসীয় খলিফা কায়ুম বিল্লাহ বুয়াইয়া আমিরদের হাত হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য তুঘ্রীলকে বাগদাদে আমন্ত্রণ জানান। ১০৫৫ খ্রিষ্টাব্দে তুঘ্রীল বাগদাদে প্রবেশ করলে শেষ বুয়াইয়া আমির মালিক আর রহিমকে বিতাড়িত করে আব্বাসীয় খলিফা আল-কায়িমকে সিংহাসনে বসান। ফলে খলিফা তাকে স্বাগতম জানান এবং অত্যন্ত খুশি হয়ে তাকে রাজকীয় পোশাক দান করেন। প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সুলতান উপাধিতে ভূষিত করেন। খোরাসানের মার্ভ নগরীতে তাঁর রাজধানী ছিল।
ঐতিহাসিক ইবনুল আসীর তুঘ্রীল বেগকে জ্ঞানী, ধৈর্যশীল, দানশীল, ধার্মিক, সরল এবং বিদ্যোৎসাহী বলে উল্লেখ করেন। ঐতিহাসিক আমীর আলী বলেন, "তুঘ্রীলের আমলে সেলজুকগণ এশিয়া মাইনরের একটি প্রতাপশালী জাতিতে পরিণত হয়।" সেলজুক বংশের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তুঘ্রীল বেগের অবদান প্রশংসার দাবি রাখে।
আলপ আরসলান (১০৬৩-১০৭৩ খ্রি.): ১০৬৩ খ্রিষ্টাব্দে তুঘ্রীলের মৃত্যুর পর তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আলপ আরসলান সেলজুকদের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হন এবং খলিফা কর্তৃক সুলতান উপাধি, বিশেষ ক্ষমতা ও সুযোগ লাভ করেন। বাইজান্টাইনদের নিকট হতে জর্জিয়া ও আর্মেনিয়া দখল করেন। এতে বাইজান্টাইন সম্রাট রোমানাস পশ্চিম এশিয়া আক্রমণের জন্য অগ্রসর হন। মালীর্জকাদের যুদ্ধে ১০৭১ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট রোমোস পরাজিত ও বন্দি হন। রোমোস নিম্নলিখিত শর্তে বন্দিদশা হতে মুক্তি লাভ করেন।
(ক) সম্রাট রোমানাস তার কন্যাদেরকে আলপ আরসলানের পুত্রদের সাথে বিবাহ দেন।
(খ) যুদ্ধের যাবতীয় ক্ষতিপূরণসহ বার্ষিক রাজস্ব স্বরূপ তিন লক্ষ ষাট, হাজার স্বর্ণমুদ্রা প্রদান করেন।
(গ) যুদ্ধে বন্দি সকল মুসলমানকে মুক্তি দেন।
মালার্জকাদের যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে একটি চূড়ান্তকারী যুদ্ধ। তিনি রাজধানী মার্ত হতে ইস্পাহানে স্থানান্তরিত করেন। তাঁর সময় সাম্রাজ্যে সুখ ও শান্তি বিরাজিত ছিল। কারণ তিনি প্রজাহিতৈষী এবং ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন। ঐতিহাসিক ইবনুল আসির তাঁকে উদার, মহানুভব, জ্ঞানী, ন্যায়পরায়ণ, ধার্মিক ও পরোপকারী শাসক বলে বর্ণনা করেন। ১০৭৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বিদ্রোহী আততায়ীর হাতে নিহত হন।
আব্বাসি খিলাফত - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

