• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • আব্বাসি খিলাফত
আব্বাসি খিলাফত

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ (১০৯৫-১২৫৮ খ্রি.)

মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে বিভিন্ন কারণে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় পৃথিবীর ইতিহাসে তা ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ নামে পরিচিত। বিশেষ করে জেরুজালেম-এর দখলকে কেন্দ্র করে মুসলিম- খ্রিষ্টান যুদ্ধকে ইতিহাসে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ বলে। খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় প্রতীক হলো 'ক্রুস', এ শব্দ থেকে ক্রুসেড কথাটির উৎপত্তি হয়েছে। একাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত তিনশত বছর ধরে ঈর্ষাপরায়ণ এবং বিক্ষুব্ধ খ্রিষ্টান জগৎ মুসলমানদের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ পরিচালনা করে। ধর্মের ডাকে বক্ষে ক্রুস চিহ্ন ধারণ করে অসংখ্য খ্রিষ্টান ধর্মযোদ্ধা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। পাশ্চাত্যে ও প্রাচ্যে সংঘটিত এ ধর্মযুদ্ধের কারণ বিবিধ; এর ফলাফলও তেমন ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী ছিল। জনৈক ঐতিহাসিক বলেন, "The Crusades form one of the moddest episodes in History." অর্থাৎ "ক্রুসেডসমূহ ইতিহাসের একটি চরম ক্ষিপ্ততাপূর্ণ অধ্যায়।"

ধর্মীয় উন্মাদনা: ১০০৯ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের ফাতেমী খলিফা আল-হাকিম কর্তৃক জেরুজালেমের পবিত্র গির্জা (Holy Church)-সহ কয়েকটি গির্জা বিনষ্ট হলে এবং সেলজুক তুর্কিগণ কর্তৃক খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীগণকে সহৃদয়তার সঙ্গে দেখতে না পারায় ইউরোপীয় খ্রিষ্টানদের ক্রোধ প্রজ্বলিত হয়ে ওঠে। ফলে খ্রিষ্টান ধর্মযাজকদের প্রেরণায় খ্রিষ্টান যুবকগণ ধর্মযুদ্ধের জন্য উন্মাদ হয়ে ওঠে।

রোমান খ্রিষ্টান ও গ্রিক খ্রিষ্টানদের দ্বন্দ্ব একাদশ শতাব্দীতে খ্রিষ্টান ধর্মের রোমান গির্জা ও গ্রিক গির্জার মধ্যে ক্ষমতা বিস্তারের দ্বন্দ্ব চলছিল। রোমানগণ গ্রিকদেরকে নাস্তিক ও অধার্মিক বলে মনে করত। রোমান ধর্মগুরু সমগ্র খ্রিষ্টান জগতে তাঁর প্রভুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে মুসলিম জগতের বিরুদ্ধে ক্রুসেড ঘোষণা করেন। গ্রিক গির্জার শক্তি খর্ব করে পোপের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির আশাও ক্রুসেডের অন্যতম কারণ ছিল।

সামন্ত প্রথার বিষময় ফল: অধ্যাপক আর্নেস্ট বার্কারের মতে, গির্জার প্রভাবে সামন্ত প্রথা যে সামাজিক রূপ ধারণ করে তা ধর্মযুদ্ধ সংগঠনের অনুকূলে ছিল। একাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে সামন্ত প্রথা দেশে ভয়াবহ সামাজিক ও রাজনৈতিক অরাজকতা সৃষ্টি করে। দেশের মজলুম জনসাধারণ ও বঞ্চিতরা পোপের আহ্বানে ধর্মযুদ্ধে যোগদান করে সামন্তদের হাত হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য।

অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কারণ: দশম শতাব্দীতে ইউরোপের অর্থনৈতিক দুর্দশাও ক্রুসেডের অন্যতম কারণ ছিল। দশম শতাব্দী হতে মুসলমানগণ ভূমধ্যসাগরের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করায় ইতালির ভেনিস, পিসা, জেনোয়ার ফরাসি বণিকগণের ব্যবসায়-বাণিজ্যে যথেষ্ট ক্ষতি সাধিত হয়েছিল। রুদ্ধ বাণিজ্যপথ উন্মুক্ত করার জন্য ক্রুসেড সংঘটিত হয়।

ধর্মীয় ও পার্থিব সুবিধা লাভ ঐতিহাসিক আমীর আলী বলেন যে, "ধর্মান্ধতাই ক্রুসেডের অন্যতম কারণ। যেমন- খ্রিষ্টান ধর্মযাজকগণ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী খ্রিষ্টানদের কর ও ঋণদান হতে রেহাই এবং পাপমুক্তির আশ্বাস প্রদান করেছিল। অন্যদিকে, মুসলমানগণও বেহেশত লাভের আশায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। তাই Middle Ages নামক গ্রন্থের প্রণেতা হাল্লাম বলেন, "Every means was used to excite an epidemical frenzy." অর্থাৎ "সংক্রামক ধর্মোন্মাদনায় অনুকূল সৃষ্টির সর্বপ্রকার উপায় অবলম্বিত হয়েছিল।"

গ্রিক সম্রাট কমনেনাসের প্রত্যক্ষ আবেদন গ্রিক সম্রাট আলেকসিয়াস কমনেনাসের আবেদনই ছিল ক্রুসেডের অন্যতম কারণ। সেলজুকগণ কনস্টান্টিনোপলের প্রান্তদেশে উপনীত হলে গ্রিকগণ তথা সমগ্র ইউরোপবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ১০৯৪ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট কমনেনাস পোপ দ্বিতীয় আরবানের কাছে মুসলমানদের নিকট হতে এশিয়া মাইনর পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করেন। সম্রাটের এ আহ্বানে পোপের সুযোগ মিলে গেল।

পোপ আরবানের আহ্বান: ১০৯৫ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের ক্লারমন্টে এক সম্মেলনে পোপ আরবান আহ্বান করে ইউরোপের খ্রিস্টান সমাজ ও রাজন্যবর্গকে দুর্বৃত্ত মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণের নির্দেশ দেন এবং তাকে ধর্মযুদ্ধ আখ্যা দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বর্গলাভের আশ্বাস প্রদান করেন। ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা উত্তেজনাকারী এ আহবানে ১,৫০,০০০ ফ্রাঙ্ক নর্মান ও ভবঘুরে কনস্টান্টিনোপলে সমবেত হয়। গীবনের মতে এদের অধিকাংশই খ্রিষ্টান ইউরোপের অর্বাচীন, বর্বর ও অশিক্ষিত লোক। এভাবে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের সূচনা হয়।

ক্রুসেডের প্রধান প্রধান ঘটনাবলি

ঐতিহাসিকগণ সমগ্র ক্রুসেডকে প্রধানত তিনটি স্তর বা পর্যায়ে বিভক্ত করেন। যথা: (ক) প্রথম যুগ: ১০৯৫-১১৪৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত, (খ) দ্বিতীয় যুগ: ১১৪৪-১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ও (গ) তৃতীয় যুগ: ১১৯৩-১২৯১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।

প্রথম পর্যায়ে কুসেড (১০৯৫-১১৪৪ খ্রি.): ক্রুসেডের প্রথম পর্যায়ে ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানির ধর্মযোদ্ধাগণ ওন্টার, পিটার, গডফ্রে, বলডুইন, রেয়মন্ড বোহেমন্ডের নেতৃত্বে এশিয়া মাইনর দখল করেন। ১০৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তাঁরা এডেসা এবং এটিওক দখল করেন। ১০৯৯ খ্রিষ্টাব্দে গডফ্রের নেতৃত্বাধীন জেরুজালেম খ্রিষ্টানদের অধিকারে আসে। এন্টিওকে খ্রিষ্টানগণ প্রায় দশ হাজার লোক হত্যা করে এবং অনুরূপভাবে অসংখ্য মুসলমানের ওপর নির্যাতন করা হয়। ১১০১ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টান রাজা

বলডুইন জাফা, আকা, হাইফ, সিডন এবং বৈরুত দখল করেন। ১১০৯ খ্রিষ্টাব্দে ত্রিপলী খ্রিষ্টানদের অধিকারে আসে। ফলে খ্রিষ্টানগণ মুসলিম এলাকা এডিসা, এন্টিওক, ত্রিপলী এবং জেরুজালেমে চারটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। ইমামুদ্দিন জঙ্গী নামক মুসলিম শাসক খ্রিষ্টান ধর্মযোদ্ধাদের মোকাবিলা করে ১১৪৪ খ্রিষ্টাব্দে এডেসা পুনর্দখল করে ক্রুসেডারদেরকে সিরিয়া হতে বিতাড়িত করেন। জঙ্গি বংশের প্রতিষ্ঠাতা ইমামুদ্দিন আলেপ্পো, হাররান এবং মসূল দখল করলে ক্রুসেডারগণ ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ফলে বাগদাদের খলিফাদের নিকট হতে ইমামুদ্দীন 'আতাবেগ' উপাধি লাভ করেন।

দ্বিতীয় পর্যায় (১১৪৪-১১৯৩ খ্রি.): এভিসার পতনের পর খ্রিষ্টান ইউরোপে ভীষণ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ইমামুদ্দিনের মৃত্যুর পর তদীয় পুত্র নুরুদ্দীন জঙ্গি আলেপোর সিংহাসনে নিবিষ্ট হলে খ্রিষ্টানগণ এডিসা পুনরুদ্ধার করে। এ সময় সেন্ট বার্নার্ড মুসলমানদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হন। কিন্তু নুরুদ্দীন বীর বিক্রমে যুদ্ধ করে এডিসা শহর খ্রিষ্টানদের নিকট থেকে পুনরুদ্ধার করেন। এভাবে খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে জেহাদ করে জেরুজালেম ব্যতীত অপর সমস্ত অধিকৃত অঞ্চল পুনরাধিকার করা হলে দ্বিতীয় ক্রুসেড সমাপ্ত হয়।

তৃতীয় ক্রুসেড (১১৯৩-১২৯১ খ্রি.): গাজী সালাহ-উদ্‌-দীন আইয়ুবী সিরিয়া, আলেম্পো এবং মিশরের শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি ১১৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ক্রুসেডারদের সম্মুখীন হলেন। হিট্রিনের যুদ্ধের ২০ হাজার ফ্রাঙ্ক সৈন্যসহ ফ্রাঙ্ক নেতা রেজিন্যান্ড সালাউদ্দিনের নিকট কদী ও প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হন। জেরুজালেমের রাজা গীদ্য লুসিনান্দিও সালাউদ্দিনের হস্তে বন্দী হন। জেরুজালেমের পতনে সমগ্র খ্রিষ্টান ইউরোপে অনুশোচনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং তৃতীয় ক্রুসেড শুরু হয়। জার্মান সম্রাট ফ্রেডারিক বারবারোসা, ফ্রাঙ্ক রাজা ফিলিপ আগাস্টস এবং ইংল্যান্ডের রাজা রিচার্ড সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা করেন। আগাস্টাস ধর্মযোদ্ধাদের টায়ারে একত্রিত করে আক্কার দিকে অগ্রসর হন এবং রিচার্ড জেরুজালেম অবরোধ করেন। জেরুজালেম দখল সম্ভব নয় বিবেচনা করে রিচার্ড ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে সালাউদ্দিনের সঙ্গে সন্ধি চুক্তি করেন। ১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দের ৪ঠা মার্চ সালাউদ্দিন দামেস্কে ইন্তেকাল করেন।

চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ ক্রুসেড সালাউদ্দিনের মৃত্যুর পর ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে পোপ তৃতীয় সেলেসটাইন চতুর্থ ক্রুসেড ঘোষণা করে সিসিলি দখল করে সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হয়। ১১৯৮ খ্রিষ্টাব্দে সালাউদ্দিনের ভ্রাতা আদিল তাদের গতিরোধ করে শান্তি চুক্তি করতে রাধ্য-করেন। ১২০০ খ্রিষ্টাব্দে পোপ তৃতীয় ইননোসেন্ট পঞ্চম ক্রুসেড ঘোষণা করলে ইংল্যান্ডের রিচার্ড ব্যতীত ইউরোপীয় অন্যান্য রাজন্যবর্গ এ যুদ্ধে অংশ নেয়। তাঁরা কনস্টান্টিনোপল আক্রমণ করে গ্রিকদের হত্যা করেন। ১২১৬ খ্রিষ্টাব্দে পোপ তৃতীয় ইননোনেস্ট ষষ্ঠ ক্রুসেডের সূচনা করেন। প্রায় দুই লক্ষাধিক ধর্মযোদ্ধা সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে মিশর ও ডামিয়েটা আক্রমণ করে। প্রায় ৭০ হাজার অধিবাসীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বিপর্যয়ের মুখে ১২২১ খ্রিষ্টাব্দে তারা মুসলমানদের সঙ্গে সন্ধি করতে বাধ্য হয়।

সপ্তম ও অষ্টম ক্রুসেড: সপ্তম ক্রুসেড শুরু হয় ১২৩৮ খ্রিষ্টাব্দে পোপ সপ্তম গ্রেগরীর প্ররোচনায়। মালিক-উল-আদিলের পুত্র কামিল জার্মানির নিকট জেরুজালেম হস্তান্তর করলেও কামিলের পুত্র আইয়ুব ১২৩৯ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টানদের পরাজিত করে জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করেন। অষ্টম ও সর্বশেষ ক্রুসেড সংঘটিত হয় ১২৪৪ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রান্সের নবম লুইয়ের নেতৃত্বে। মিশরের মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করলে লুই পরাজিত ও বন্দি হন। সন্ধির মাধ্যমে লুই মুক্তি লাভ করে দেশে ফিরেন। অতঃপর মুসলমানগণ ১২৯১ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টানদের সকল এলাকা পুনরাধিকার করেন।

ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের ফলাফল

ক্রুসেড একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীতে ব্যাপক ধ্বংসলীলা ও রক্তপাতের জন্ম দেয়। এ ক্রুসেডের ফলে খ্রিষ্টানগণ লক্ষ লক্ষ - মুসলিম নর-নারী ও শিশুকে হত্যা করে এক বীভৎস ঘটনা ঘটায়। মুসলমানদের হাতেও বহু কুসেডার নিহত হয়। হিট্টি বলেন, "কুসেড মুসলিম প্রাচ্যের বিরুদ্ধে খ্রিষ্টান ইউরোপের তীব্র প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ।"

ইউরোপে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ: ক্রুসেডের ফলে ইউরোপে রেনেসাঁর সৃষ্টি হয় এবং সামন্ত প্রথা দুর্বল হয়ে পড়ে। শক্তিশালী রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক টয়েনবি বলেন, "Modern Europe was born out of the spirit of the Crusede." অর্থাৎ "কুসেডের ফলেই আধুনিক ইউরোপ জন্মলাভ করেছে।"

মধ্যবিত্ত শ্রেণির উৎপত্তি: ধর্মযুদ্ধের ফলে সামন্ত প্রথার বিলুপ্তি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব হয় এবং দেশে রাজকীয় কর্তৃত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে।

খ্রিষ্টান বণিকদের বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ ক্রুসেডের ফলে ভূমধ্যসাগরে খ্রিষ্টান বণিকগণের সামুদ্রিক এবং বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি করে দিয়েছিল। ফলে ভূমধ্যসাগরের ওপর মুসলমানদের কর্তৃত্ব লোপ পায়।

বিভিন্ন বিষয় জ্ঞান লাভ: ক্রুসেডের ফলে খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের কাছ থেকে মেরিনার্স কম্পাসের ব্যবহার, সুগন্ধি দ্রব্য, মসলা, মিষ্টান্ন ও বিভিন্ন প্রকার বেশভূষার ব্যবহার ও গৃহসজ্জা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে।

পোপ ও ধর্মযাজকদের ক্ষমতা বিলুপ্তি: মধ্যযুগের পোপ ও খ্রিষ্টান ধর্মযাজকগণ এতই গোঁড়া ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিলেন যে ক্রুসেডের ভয়াবহতা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং তাঁরা পোপের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হন।

ধ্বংসাত্মক পরিণতি: ক্রুসেডের ফলে অসংখ্য মুসলমান প্রাণ হারায়। অপরপক্ষে, খ্রিষ্টানগণ বিপুল ধন ও লক্ষ প্রাণের বিনিময়েও মুসলমানদের হাত হতে জেরুজালেম উদ্ধার করতে পারে নি।

ক্রুসেডে মুসলমানগণ জয়লাভ করলেও তাদের বহু ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং খ্রিষ্টানরাই বেশি লাভবান হয়। এ যুদ্ধে খ্রিষ্টানগণ উপর্যুপরি যুদ্ধ করে তাদের হীন চরিত্রের প্রকাশ ঘটায়। হিটি যথার্থই বলেন, "প্রাচ্য অপেক্ষা প্রতীচ্যের জন্য ক্রুসেড ছিল অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।"

আব্বাসি খিলাফত - অন্যান্য প্রশ্ন

আব্বাসীয় আন্দোলনআবুল আব্বাস আস-সাফফাহ (৭৫০-৭৫৪ খ্রি.) খলিফা আবু জাফর আল মনসুর (৭৫৪-৭৭৫ খ্রি.)খলিফা হারুন-অর-রশিদ (৭৮৬-৮০৯ খ্রি.)বার্মাকি বংশখলিফা আল-আমিন (৮০৯-৮১৩ খ্রি.)খলিফা আল-মামুন (৮১৩-৮৩৩ খ্রি.)আব্বাসীয় খিলাফতের শেষার্ধ খলিফা আল-মুতাসিম (৮৩৩-৮৪২ খ্রি.)বুয়াইয়া বংশ (৯৪৪-১০৫৫ খ্রি.)সেলজুক বংশ (১০৫৫-১১৯৪ খ্রি.)মালিক শাহ সেলজুক (১০৭৩-১০৯২ খ্রি.)ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ (১০৯৫-১২৫৮ খ্রি.)গাজী সালাউদ্দিন আইয়ুবিবাগদাদ ধ্বংস (১২৫৮ খ্রি.)আব্বাসীয় খিলাফতের ক্রমাবনতি ও পতনআব্বাসীয় আমলের আর্থ-সামাজিক বৈশিষ্ট্যআব্বাসীয় আমলে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চাআব্বাসিদের রাজধানী কোথায় ছিল?বার্মাকি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?খায়জুরান কে ছিলেন?বাগদাদ নগরীর প্রতিষ্ঠাতা কে?ক্রুসেড (Crusade) শব্দের অর্থ কী?বুরান কে ছিলেন?আব্বাসি বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে?'আল-মনসুর' শব্দের অর্থ কী?বায়তুল হিকমা কে প্রতিষ্ঠা করেন?কোন যুদ্ধের মাধ্যমে আব্বাসি রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয়?আব্বাসিরা কার বংশধর?কোন সালে জাবের যুদ্ধ সংঘটিত হয়?আবুল আব্বাস কী উপাধি গ্রহণ করেন?'আস-সাফফাহ' শব্দের অর্থ কী?আব্বাসি বংশের প্রথম শাসক কে ছিলেন?সেনাপতি আবু মুসলিমকে কে হত্যা করেন?বায়তুল হিকমাহ (জ্ঞানগৃহ) কত খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করা হয়?'Arabian Joan of Ark' নামে পরিচিতি লাভ করেন কে?ক্রুসেড কী?ক্রুসেড (Crusade) শব্দটি কোন শব্দ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে?আব্বাসি কারা? পরিচয় দাও।নহর-ই জুবাইদা কী? বুঝিয়ে লেখ।বায়তুল হিকমা বলতে কী বোঝায়?আবু মুসলিম খোরাসানি সম্পর্কে যা জান লেখ।কাকে এবং কেন আস-সাফফাহ বলা হয়?খলিফা মনসুর কর্তৃক আলী বংশীয়দের প্রতি দুর্ব্যবহারের কারণ ব্যাখ্যা কর।আব্বাসি আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?আবু জাফর আল মনসুরকে আব্বাসি বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় কেন?খলিফা আল মামুনের রাজত্বকালকে ইসলামের অগাস্টাস যুগ বলা হয় কেন?ক্রুসেড বলতে কী বোঝায়?

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ