- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দুটি রূপ মাত্র। উভয় সরকার ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করা যায়। নিম্নে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পার্থক্য আলোচনা করা হলো:
১. রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা ও মর্যাদার ক্ষেত্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি। এখানে রাষ্ট্রপ্রধান আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করেন। আর অপরজন সরকার পরিচালনা করে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারপ্রধান। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে যিনি রাষ্ট্রপ্রধান, তিনিই সরকারপ্রধান। রাষ্ট্রপ্রধান প্রকৃত শাসক।
২. মন্ত্রীদের ক্ষমতা ও মর্যাদার ক্ষেত্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যগণ একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধনে আবদ্ধ। মন্ত্রিগণ প্রধানমন্ত্রীর সহকর্মী এবং বিশেষ মর্যাদা ও ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের মন্ত্রিগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন। রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির উপর তারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকেন।
৩. আইনসভার সার্বভৌমত্ব সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের আইনসভা সার্বভৌম। আইনসভা ইচ্ছা করলে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে সরকারকে অপসারণ করতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের আইনসভার সে ক্ষমতা নেই। কিন্তু আইনসভা সংবিধান নির্দিষ্ট পথে বিশেষ অভিযোগ উত্থাপন ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন ও অপসারণ করতে পারে না। রাষ্ট্রপতির হাতে 'ভেটো' ক্ষমতা থাকায় আইন পরিষদের সার্বভৌম ক্ষমতা আরও সংকুচিত হয়েছে।
৪. মন্ত্রীদের আইনসভার সদস্য হওয়া সংসদীয় সরকারে প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যগণকে আইনসভার সদস্য হতে হয়। আইনসভার সদস্য নন এমন ব্যক্তি মন্ত্রী হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাকে আইনসভার সদস্য হতে হয়। অপরদিকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে মন্ত্রিগণ সাধারণত আইনসভার সদস্য নন।
৫. আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিসভা শাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিগণ আইনসভার সদস্য। তারা সরাসরি আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী আইনসভার বা সংসদের নেতা। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিগণ আইনসভার সদস্য নন। তারা সরাসরি আইন প্রণয়নে কোনা ভূমিকা রাখতে পারেন না।
৬. জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের শাসন বিভাগ অর্থাৎ মন্ত্রিসভা তাদের সকল নীতি, সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে শাসন বিভাগ সাধারণত আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়।
৭. আইনসভা ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে প্রধানমন্ত্রী আইনসভা ভেঙে দেবার জন্য রাষ্ট্রপ্রধানকে পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। তার পরামর্শ রাষ্ট্রপ্রধান উপেক্ষা করেন না। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি আইনসভা ভেঙে দিতে পারেন না।
৮. জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। কেননা আইনসভায় এবং মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক বিলম্ব হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার এরূপ পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
৯. নমনীয়তা: সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ও সংবিধান নমনীয়। কেননা প্রয়োজনবোধে সংবিধানের ধারা, উপধারা, সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত এমনকি সরকারকে যেকোনো সময় আইনসভার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে সংবিধান কিংবা সরকার পরিবর্তন করতে হলে সংবিধানে নির্দিষ্ট বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়।
১০. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ' নীতি কার্যকর হয় না। কেননা আইন বিভাগের সদস্যগণ শাসন বিভাগেরও সদস্য। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কার্যকর হতে দেখা যায়। কেননা শাসন বিভাগের সদস্যগণ সাধারণত আইনসভার সদস্য নন।
১১. পদচ্যুতি প্রসঙ্গে: সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে আইনসভা যেকোনো সময় অনাস্থা প্রস্তাব এনে মন্ত্রিসভাকে পদচ্যুত করতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে মন্ত্রিসভার সদস্যগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন এবং তার সন্তুষ্টির ওপর ক্ষমতায় থাকেন। এক্ষেত্রে আইনসভা মন্ত্রীদের পদচ্যুত করতে পারেন না। মন্ত্রীরা পদচ্যুত হন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক।
১২. স্থায়িত্বের প্রশ্নে: সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের স্থায়িত্ব কম। কেননা আইন পরিষদের পরিষদের আস্থার ওপর তাদের ক্ষমতার স্থায়িত্ব নির্ভর করে। অপরদিকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের স্থায়ীত্ব অনেক বেশি। নির্দিষ্ট মেয়াদের পূর্বে একমাত্র অভিশংসন পদ্ধতি ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায় না। অভিশংসন পদ্ধতিও জটিল।
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ
যে রাষ্ট্রে চরম ক্ষমতা রাজা বা রানির হাতে ন্যস্ত থাকে তাকে বলে-
যে রাষ্ট্রে চরম ক্ষমতা রাজা বা রানির হাতে ন্যস্ত থাকে তাকে বলে-
অভিজাততন্ত্র
গণতন্ত্র
রাজতন্ত্র
জনতাতন্ত্র
নিচের কোনটি শাসন বিভাগের কাজ?
নিচের কোনটি শাসন বিভাগের কাজ?
আইন প্রণয়ন ও সংশোধন
সংবিধান প্রণয়ন
সংবিধান সংশোধন
অধ্যাদেশ জারি
জনাব সফিক ও রহিমা দম্পতি চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত একমাত্র সন্তান শাফিনকে রেখে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। শাফিনের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার?
জনাব সফিক ও রহিমা দম্পতি চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত একমাত্র সন্তান শাফিনকে রেখে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। শাফিনের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার?
আইন বিভাগের
শাসন বিভাগের
বিচার বিভাগের
জেলা প্রশাসনের
মার্কিন রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হন?
মার্কিন রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হন?
সিনেট সদস্যদের দ্বারা
প্রতিনিধি সভার সদস্যদের দ্বারা
ইলেকট্ররাল কলেজের সদস্যদের দ্বারা
কংগ্রেসের সকল সদস্যদের দ্বারা
বাংলাদেশের সংবিধানে কোন সংশোধনীতে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়?
বাংলাদেশের সংবিধানে কোন সংশোধনীতে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়?
প্রথম সংশোধনীতে
দ্বিতীয় সংশোধনীতে
তৃতীয় সংশোধনীতে
চতুর্থ সংশোধনীতে
দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় এক বিভাগ অপর বিভাগের সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে। এটি কীসের প্রতিফলন?
দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় এক বিভাগ অপর বিভাগের সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে। এটি কীসের প্রতিফলন?
প্রগতিবিরোধিতা
দায়িত্বহীনতা
দলীয় ভিত্তি
সংখ্যালঘুর প্রতিনিধিত্ব
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মূলকথা কী?
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মূলকথা কী?
গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা
বিচারকদের ন্যায়বিচার করার ক্ষমতা
দক্ষ, সাহসী ও যোগ্য লোকদের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া
বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রীকরণ
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
বিচারকদের নিরপেক্ষতা
বিচারকদের দক্ষতা
বিচারকদের মর্যাদা
বিচারকদের পর্যাপ্ত বেতন ভাতা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কয় কক্ষবিশিষ্ট?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কয় কক্ষবিশিষ্ট?
এক কক্ষবিশিষ্ট
দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট
তিন-কক্ষবিশিষ্ট
বহু কক্ষবিশিষ্ট
ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সর্বশেষ আশ্রয় হলো-
ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সর্বশেষ আশ্রয় হলো-
সামরিক বাহিনী
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী
আইন বিভাগ
বিচার বিভাগ
"দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বলতে সেরূপ আইনসভাকে বোঝায় যার দুটি কক্ষ আছে। প্রথম কক্ষটিকে 'নিম্ন কক্ষ' এবং দ্বিতীয় কক্ষটিকে 'উচ্চ কক্ষ' বলা হয়।"- উক্তিটি কার?
"দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বলতে সেরূপ আইনসভাকে বোঝায় যার দুটি কক্ষ আছে। প্রথম কক্ষটিকে 'নিম্ন কক্ষ' এবং দ্বিতীয় কক্ষটিকে 'উচ্চ কক্ষ' বলা হয়।"- উক্তিটি কার?
হ্যারল্ড জে. লাস্কি
হেনরি মেইন
লর্ড ব্রাইস
লর্ড অ্যাকটন


